Home ব্রেকিং নেতাকর্মী-সমর্থকদের নিয়ে তাপসের গণসংযোগ

নেতাকর্মী-সমর্থকদের নিয়ে তাপসের গণসংযোগ


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। গতকাল ধানমণ্ডি, হাজারীবাগ, কলাবাগান এবং নিউ মার্কেট এলাকায় জনসংযোগ করেছেন তিনি। আসনটিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাকি তিন প্রার্থী বিএনপির আব্দুল মান্নান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির কে এম শামসুল আলম এবং প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল বাহারানে সুলতান বাহার। তবে তাদের তেমন কোনো পোস্টার ও প্রচারণা চোখে পড়েনি।

ভোটাররা জানান, ঢাকা-১০ আসনের বেশির ভাগ সড়কের মোড়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টার টাঙিয়ে ও মাইকে আওয়ামী লীগ ও ফজলে নূর তাপসের বিগত সময়ের উন্নয়ন কাজ নিয়ে বাজানো হচ্ছে গান। আওয়ামী লীগ ও এর ভ্রাতৃপ্রতিম অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নিয়মিত নৌকার ভোট চেয়ে মিছিল ও সমাবেশ করছেন। একই সঙ্গে ভোটারদের মাঝে বিলি করছে নৌকার লিফলেট। তাপসের পক্ষ থেকে বিলি করা এসব লিফলেটে মহাজোট সরকারের ১০ বছরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। গতকাল ফজলে নূর তাপস নিজেও জিগাতলা এলাকায় লিফলেট বিলি করেছেন ভোটারদের মাঝে। একই সঙ্গে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হলে বিস্তর উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছেন ভোটারদের কাছে।

জিগাতলা সরকারি কলোনি মাঠে সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় এই দেশ ও জনগণ নিয়ে ভাবেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলছে দুর্বার গতিতে। এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আপনারা ৩০ তারিখ নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে ঢাকা-১০ আসনের জনগণকে সেবা করার সুযোগ দেবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’

ঢাকা-১০ আসনের ভোটারদের মতে, এলাকাটির সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস বেশ কাজ করেছেন। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র হওয়ায় প্রগতিশীল মানুষের আগ্রহ আছে তাঁর প্রতি। নির্বাচনের বেশ আগে থেকেই এলাকায় জনসংযোগ করছেন তিনি। খোঁজখবর রাখেন দলের নেতাকর্মীদেরও। তাই আবারও ঢাকা-১০ আসন থেকে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেন। একই সঙ্গে ধানের শীষের প্রার্থীর সঙ্গে এলাকাবাসীর তেমন সংশ্লিষ্টতা নেই। এ ছাড়া নির্বাচনের প্রাক-মুহূর্তে আব্দুল মান্নানের শীথিলতা ভোটারদের মধ্যে সৃষ্টি করেছে দ্বিধা। তবে ঢাকা-১০ আসনে বেশ ভোট রয়েছে ধানের শীষের। তবে দলীয় কৌশলের কারণে সাময়িক নীরব থকলেও সময়মতো ঠিকই জনসংযোগে নামবেন ধানের শীষের প্রার্থী—এমনটা মনে করেন অনেক ভোটার।

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচন থেকে এ আসনে পালাক্রমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছে। তবে সর্বশেষ দুই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আসনটি ধরে রাখতে পেরেছে। ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে (তৎকালীন ঢাকা-৯) আওয়ামী লীগের প্রার্থী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে পরাজিত করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পরে খালেদা জিয়া আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। তবে ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মকবুল হোসেনের কাছে হেরে যান বিএনপির প্রার্থী লে. জে. (অব.) মীর শওকত আলী বীর-উত্তম। ২০০১ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মকবুল হোসেনকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন বিএনপির খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ। ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনের আগে আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে ধানমণ্ডি, কলাবাগান, নিউ মার্কেট, হাজারীবাগ এলাকা নিয়ে ঢাকা-১২ আসন গঠিত হয়। সে নির্বাচনে আসনটি আবার বিএনপির হাতছাড়া হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বিএনপির প্রার্থী খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমেদকে ৪৮ হাজার ৮৭৪ ভোটে পরাজিত করেন। ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে পুনরায় আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে ঢাকা-১২ আসনের এলাকাগুলো নিয়ে গঠিত হয় ঢাকা-১০ আসন। সে নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সংসদ সদস্য আছেন তাপস।