Home ব্রেকিং যা নিয়ে জাতীয় পার্টিতে চলছে কানাঘুষা!

যা নিয়ে জাতীয় পার্টিতে চলছে কানাঘুষা!

SHARE

ডেস্ক :একাদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে এইচ এম এরশাদের জাতীয় পার্টি। দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে নতুন কিছু নেই বললেই চলে। নেই কোন নতুন চমক। শুক্রবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে এইচ এম এরশাদের অনুপস্থিতিতে সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও পার্টির প্রাক্তন মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার এসব অঙ্গিকার ব্যক্ত করে দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।

এরশাদের অনুপস্থিতিতে দলের মহাসচিব থেকে ছিটকে পড়া রুহুল আমিন হাওলাদারই নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। দলের জ্যেষ্ঠ কো চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, কো চেয়ারম্যান জি এম কাদের এমনকি দলের মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা দেশে রয়েছেন। দলের ইশতেহার ঘোষণার মত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি তাদেরই ঘোষণা করার কথা, কিন্তু সে জায়গায় মনোনয়ন বাণিজ্যে লিপ্ত থাকার মত বিতর্কিত ও মহাসচিব থেকে সরিয়ে দেওয়া হাওলাদারকে দিয়ে এরশাদের ইশতেহার ঘোষণায় দলের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। ক্ষুব্ধ রওশন, জিএম কাদেরসহ রওশনপন্থী নেতারাও। একারণে রওশনপন্থী নেতাদের হাওলাদারের অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। তারা হাওলাদারের ইশতেহার কর্মসূচি বর্জন করেছেন বলেও দলটির বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে। এ নিয়ে দিনভর কানাঘুষা চলছে জাতীয় পার্টিতে।

জানা গেছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারো বিভক্ত হয়ে পড়েছে এইচ এম এরশাদের জাতীয় পার্টি। রুহুল আমিন হাওলাদার, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, এসএম ফয়সল চিশতী, অ্যাডভোকেট শেখ সিরাজুল ইসলাম, সুনীল শুভরায়, মেজর অব. খালেদ আখতার, রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, আরিফ খান, মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক, সুমন আশরাফ, রাজ্জাক খানসহ উল্লেখযোগ্য নেতাকর্মী এরশাদের পক্ষে।

অন্যদিকে এরশাদের ছোটভাই জিএম কাদের, জ্যেষ্ঠ নেতা কাজী ফিরোজ রশীদ, ফখরুল ইমাম, মশিউর রহমান রাঙ্গা, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, মুজিবুল হক চুন্নু, লিয়াকত হোসেন খোকা, সেলিম ওসমান, আবুল কাসেম, গোলাম কিবরিয়া টিপু, নুরুল ইসলাম ওমর, শওকত চৌধুরীসহ উল্লেখযোগ অংশটি রওশনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

সূত্র জানায়, বিরোধীনেতা রওশনের চাপে দলের মহাসচিবের পদ থেকে হাওলাদারকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হলেও এ বিষয়টি কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না দলটির চেয়ারম্যান এরশাদ। কারণ দলের মনোনয়ন বাণিজ্যের নেতৃত্বে দলের মহাসচিব হিসেবে হাওলাদারকে দায়ী করা হলেও এতে খোদ দলের চেয়ারম্যান এরশাদসহ প্রভাবশালী সিন্ডিকেট জড়িত ছিলেন বলে নেতাকর্মীদের অভিযোগ আছে। এরশাদ নিজে বাঁচতে ওই সিন্ডিকেটের কয়েকজন সদস্যের কুবুদ্ধিতে সব দোষ হাওলাদারের উপর চাপিয়ে তাকে দল থেকে অব্যহতি দিতে বাধ্য হন। হাওলাদারের স্থলে মহাসচিব করা হয় রওশনপন্থী প্রেসিডিয়াম সদস্য মশিউর রহমান রাঙ্গাকে। এতে বিরোধীনেতা ও পার্টির জ্যেষ্ঠ কো চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, কো চেয়ারম্যান জি এম কাদেরসহ দলের একটি বড় অংশ খুশি হলেও মনে মনে নাখোশ ছিলেন এরশাদসহ সিন্ডিকেট সদস্যরা। তাই বাধ্য হয়ে অব্যহতির শাস্তি দিয়ে পরে খুশি করতে হাওলাদারকে সাংগঠনিক অবস্থান থেকে নিজের পরে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে নিয়োগ দেন। গঠনতন্ত্রে এমন কোন পদের নজির নেই বললেই চলে।