Home স্বাক্ষাৎকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে মোঃ...

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে মোঃ জাহাঙ্গীর মালুম, অধ্যক্ষ, সলিমউদ্দিন চৌধুরী কলেজ, কাঞ্চন, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ

SHARE

বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা : সলিমউদ্দিন চৌধুরী কলেজের বর্তমান শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইছি।
মোঃ জাহাঙ্গীর মালুম : সলিমউদ্দিন চৌধুরী কলেজটি ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মতিন চৌধুরী (মরহুম) প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি পৌর এলাকায় অবস্থিত। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক ১৯৯৫-৯৬ বর্ষ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ২০০১/০২ শিক্ষাবর্ষ হতে ডিগ্রি (পাস) এবং ২০০৯/১০ শিক্ষাবর্ষ থেকে অনার্স কোর্সে পাঠদানের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক অধিভুক্তি লাভ করে। বর্তমানে এই কলেজে অনার্স কোর্সের ৬টি বিষয়ে পাঠদান বিদ্যমান (১. হিসাব বিজ্ঞান ২. ব্যবস্থাপনা ৩. ইংরেজি ৪. রাষ্ট্রবিজ্ঞান ৫. অর্থনীতি ও ৬. সমাজকর্ম)। উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি থেকে অনার্স পর্যন্ত পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘শিক্ষাকে আমরা খরচ মনে করি না। আমি মনে করি, এটি বিনিয়োগ; জাতিকে গড়ে তোলার বিনিয়োগ’। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের আলোকে আপনার পর্যবেক্ষণ ও মতামত জানতে চাইছি।
মোঃ জাহাঙ্গীর মালুম : যে জাতি যত শিক্ষিত সে জাতি তত উন্নত। তাছাড়া আজকে শিশু আগামীর ভবিষ্যৎ। এ লক্ষ্যে শিক্ষাখাতে বেশি বরাদ্দ দিয়ে জাতিকে যত বেশি গঠন করা যাবে দেশ তত বেশি উন্নত হবে। তাই আমার কাছে মনে হয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শিক্ষা খাতে ব্যয় জাতি গঠনের বিনিয়োগ। এটি যুক্তিযুক্ত।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা : আপনার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য কি কি পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন। শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যারিয়ার গড়ার জন্য এই প্রতিষ্ঠান কেন বেছে নিবে?
মোঃ জাহাঙ্গীর মালুম : আমাদের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের টিউটোরিয়াল পদ্ধতিতে পাঠদান করা হয়। সাপ্তাহিক, মাসিক ভিত্তিতে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
প্রতিটি শিক্ষার্থীর একজন করে গাইড টিচারের মাধ্যমে পড়া-লেখার তদারকি করা হয়। মেধা দুর্বল শিক্ষার্থীদের বাছাই করে বিশেষ গুরুত্বের সাথে পাঠদান করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের সাথে তদারকিমূলক যোগাযোগ করে পাঠদানের পাশাপাশি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান যেমন বিতর্ক প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা, শিক্ষা সফর ইত্যাদি ব্যবস্থা করা হয়। শিক্ষার্থীদের শারীরিক বিকাশের জন্য শরীর চর্চা বিভাগ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা : আপনাদের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দূরবর্তী শিক্ষার্থীদের জন্য নিজস্ব পরিবহন ও আবাসিক হোস্টেল সুবিধা রয়েছে কি?
মোঃ জাহাঙ্গীর মালুম : মফস্বল এলাকার ছাত্র এখানে লেখাপড়া করে থাকে বিধায় পরিবহনের প্রয়োজন হয় না। তবে ভবিষ্যতে পরিবহন ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা আছে। কলেজ গভর্নিং বডির সভায় এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে আলোচনা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা : শিক্ষার্থীদের মানসিক চারিত্রিক বিকাশের জন্য প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব কতটুকু বলবেন কি?
মোঃ জাহাঙ্গীর মালুম : শিক্ষার্থীদের মানসিক চারিত্রিক গঠনের জন্য পবিত্র কুরআন হাদিসের আলোকে ধর্মীয় শিক্ষকরা আলোচনা করে থাকেন
এবং কলেজ লাইব্রেরিতে ইসলামিক বই সংরক্ষিত আছে। এছাড়া মসজিদ এবং মেয়েদের জন্য পৃথক নামাজ ঘর আছে।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা : বর্তমান সময়ে স্লোগান হচ্ছে- ‘তরুণরাই গড়বে ডিজিটাল বাংলাদেশ’; সরকারের এই প্রত্যাশা পূরণে আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেমন ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন?
মোঃ জাহাঙ্গীর মালুম : বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তির যুগে বাংলাদেশও প্রযুক্তির দিক দিয়ে এগিয়ে চলছে। তারই ধারাবাহিকতায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহায়তায় এই কলেজে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে এবং সুদক্ষ শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। আমি আশাবাদী এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা : মেধাবী ও সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাড়াশোনার জন্য আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি কি সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে?
মোঃ জাহাঙ্গীর মালুম : অসচ্ছল, মেধাবী ও সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ প্রদানসহ আর্থিক সহায়তা ও বিনামূল্যে বই প্রদান করা হয়। উপবৃত্তি ও সাধারণ বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা : একজন আদর্শ ও দায়িত্ববান অধ্যক্ষ হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রমের মান উন্নয়নের জন্য আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
মোঃ জাহাঙ্গীর মালুম : আমি অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পর বর্তমান সময় পর্যন্ত কলেজের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমানে অনার্স কোর্সের ৬টি বিষয়ে পাঠদান অব্যাহত। আমি আশা করি, আগামী এক/দুই বছরের মধ্যে কলেজটি স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে উন্নীত হবে। এ ছাড়া শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষে একাডেমিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠান আরও উন্নততর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হবে।