Home ব্রেকিং নাহিদের কারণে মর্যাদার আসনে সিলেট-০৬

নাহিদের কারণে মর্যাদার আসনে সিলেট-০৬

SHARE

সিলেট -০৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ৭জনই বিভিন্ন বির্তকিত কাজে জড়িত ছিলেন। খুন, জালিয়াতি ও চুরির মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন তিন নির্বাচিত এমপি। তাদের মধ্যে একজন এমপি থাকাবস্থায় জেল খেটেছেন, একজন খুনের মামলায় আসামী হয়ে দেশান্তরি হয়েছেন। বির্তকিত এসব এমপিদের কর্মকান্ড চাপিয়ে নিজগুণে আলো ছড়িয়েছেন নুরুল ইসলাম নাহিদ। সরকারের দায়িত্বশীল পদে থেকেও ছিলেন বির্তকের উর্ধ্বে। যার কারণে প্রথমবারের মতো একাদশ সংসদ নির্বাচনে সিলেট-০৬ আসন পাচ্ছে ভিভিআইপি আসনের মর্যাদা।

সিলেট-০৬ আসন থেকে নুরুল ইসলাম নাহিদ ছাড়াও নির্বাচিত অপর আট সংসদ সদস্যের কেউই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোন দায়িত্ব পালন করেননি। তাঁদের মধ্যে ৭জন এমপি থাকাবস্থায় এবং মেয়াদ শেষে জনতার হামলা ও মামলার শিকার হয়েছে। এছাড়া খুন, জালিয়াতি ও চুরির মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন কেউ কেউ। কেবল ব্যতিক্রম সিলেট আওয়ামী লীগের প্রয়াত সংসদ সদস্য (প্রথম নির্বাচনের এমপি) আব্দুর রহিম। ‘৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু স্ব-পরিবারের নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত কোন ধরনের বিতর্ক ছাড়াই দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালে সপ্তম সংসদ নির্বাচনে সিলেট-০৬ আসন থেকে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন নুরুল ইসলাম নাহিদ। এরপর নবম ও দশম সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকারের শিক্ষামন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। কোন ধরনের বিতর্ক ছাড়া তিন মেয়াদ পার করে সুশীল সমাজের শ্রদ্ধা ও সম্মান আদায় করেন তিনি।

সিলেট-০৬ আসনে দশটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সবচেয়ে বেশি চারবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়লাভ করেন। দুইবার করে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, জাতীয়পার্টি ও স্বতন্দ্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন শেষে তৃতীয়বারের মতো বিজয়ের হাতছানি বিএনপি’র সামনে। তবে আওয়ামী লীগের চার সংখ্যা থেকে জয়ের পাল্লা পাঁচে নিতে মাঠে ময়দানে কাজ করছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর নবাগত ফয়সল আহমদ চৌধুরীর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মূখে পড়তে যাচ্ছেন তিনবারের সংসদ সদস্য অভিজ্ঞ নুরুল ইসলাম নাহিদ।

টানা ৯ বছরের বেশি সময় সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব থাকাকালে নুরুল ইসলাম নাহিদ সকল বিতর্কের উর্ধ্বে ছিলেন। সরকারের সফল মন্ত্রীদের তালিকায় রয়েছে তাঁর নাম। নাহিদের নিন্দুকেরাও মনে করেন-শিক্ষামন্ত্রীর জন্য সিলেট-০৬ আসনটি একাদশ সংসদ নির্বাচনে পাচ্ছে ভিভিআইপি আসনের মর্যাদা। এ আসনের দিকে চোখ রয়েছে দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিশ্লেষকদের। এমনকি দেশের গন্ডি ছাড়িয়েও নুরুল ইসলাম নাহিদের নির্বাচনী আসন নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতৃস্থানীয় নেতৃবৃন্দও খোঁজ নিচ্ছেন নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের পরিস্থিতি।

স্বাধীনতা উত্তর সংসদ নির্বাচনে সিলেট-০৬ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুর রহিম নির্বাচিত হন। পচাত্তরের ১৫ আগস্টে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ শেষে দেশের পট পরিবতন হলে মেয়াদ পূর্ণ করার আগেই সংসদ ভেঙ্গে দেয়া হয়। প্রেসিডেন্ট জিয়া-উর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত হন লুৎফুর রহমান। মেয়াদ শেষে তাঁর নিজ ইউনিয়নের মানুষ তাঁর বিরুদ্ধে থানায় চুরি মামলা দায়ের করেন। ১৯৮৬ সালে তৃতীয় সংসদে জাতীয়পার্টির গৌছ উদ্দিন নির্বাচিত হন। এমপি থাকাবস্থায় একটি খুনের মামলার প্রধান আসামী হলে তিনি দেশ থেকে পালিয়ে যান- এখনও পলাতক রয়েছেন। ১৯৮৮ সালে চতুর্থ সংসদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মকবুল হোসেন লেচু নির্বাচিত হলে জালিয়াতি মামলায় জেল খাটেন। ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্ঠি থেকে শরফ উদ্দিন খচরু নির্বাচিত হন। কিন্তু বিএনপি সরকার গঠন করায় তিনি সরকারের মধ্য সময়ে বিএনপিতে যোগ দেন। ষষ্ঠ নির্বাচনে (১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬) বিএনপি’র এক তরফা নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে বিজয়ী হন শরফ উদ্দিন খচরু। ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত এমপি হয়ে বিয়ানীবাজার আসলে আমজনতা তাকে ধাওয়া করলে তিনি বিয়ানীবাজার থানায় আশ্রয় নিয়ে প্রাণ বাঁচন। সপ্তম, নবম ও দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নুরুল ইসলাম নাহিদ বিজয়ী হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে অষ্টম সংসদে নির্বাচিত হন ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু।

শিক্ষাবিদ মজির উদ্দিন আনছার বলেন, রাজনৈতিকভাবে অনেকেই নুরুল ইসলাম নাহিদেও কার্যক্রম ভিন্ন চোখে দেখতে পারে- এটা দোষের কিছু নয়। কিন্তু তিন মেয়াদে কোন ধরনের বির্তক ছাড়া সম্মানজনকভাবে মেয়াদ পূর্ণ করেছেন। তিনি বলেন, এ আসনের সংসদ সদস্যদের নিয়ে আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। যার কারণে নুরুল ইসলাম নাহিদকে আমরা শ্রদ্ধা ও সম্মানের চোখে দেখি।

বিয়ানীবাজার ওয়েল ফেয়ার অর্গানাইজেশনের সভাপতি শাহাব উদ্দিন মৌলা বলেন, নুরুল ইসলাম নাহিদ ছাড়া আমাদের ভোটে নির্বাচিত অন্য (প্রয়াত আব্দুর রহিম) সকল সংসদ সদস্যই চুরি, খুন, জালিয়াতি মামলার আসামী হয়েছেন, জনতার হামলার শিকার হয়েছেন। এমনকি রাতে আঁধারে সরকারের কাছে নিজেকে বিক্রি করে দিয়ে আমাদের আমানত খেয়ানত করেছেন। এটা আমাদের জন্য একটা কলংকজনক অধ্যায় ছিল।