Home ব্রেকিং চাঁদপুরের পাঁচ আসনেই মহাজোটের প্রার্থীরা এগিয়ে, তবুও আশাবাদী ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীরা

চাঁদপুরের পাঁচ আসনেই মহাজোটের প্রার্থীরা এগিয়ে, তবুও আশাবাদী ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীরা


বিশ্ববিদ্যায়ল পরিক্রমা প্রতিবেদক : নির্বাচনের জন্যে প্রস্তুত চাঁদপুর জেলা। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের জন্যে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাঁদপুরে তৎপর রয়েছে। আজ শনিবার সকাল থেকে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়সমূহ থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রের জন্য নির্বাচনী সামগ্রী প্রদান করা হবে। আজই দূরের কেন্দ্রগুলোতে প্রিজাইডিং অফিসারসহ ভোট কেন্দ্রের কর্মকর্তারা চলে যাবেন বলে জানা গেছে।

১ হাজার ৭শ’ ৪০ বর্গ কিলোমিটার বিশিষ্ট চাঁদপুর জেলায় জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যা ৫টি। মোট ইউনিয়ন ৮৯টি, পৌরসভা ৭টি। মোট জনসংখ্যা ২৬ লাখ ২শ’ ৬৩ জন। মোট ভোটার ১৮ লাখ ৫ হাজার ৯শ’ ২৬ জন। পুরুষ ৯ লাখ ১৬ হাজার ৭শ’ ৪৩ জন। মহিলা ৮ লাখ ৮৯ হাজার ৪শ’ ৫৩ জন। মোট কেন্দ্র ৬শ’ ৭৮টি। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ৪৭৫টি। মোট ভোট কক্ষ ৩ হাজার ৪শ’ ৮১টি। ৬৭৮ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৩ হাজার ৪শ’ ৮১ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, ৬ হাজার ৯শ’ ৬২ জন পোলিং অফিসার ভোটগ্রহণ কাজে নিয়োজিত থাকবেন। ১ হাজার ৮শ’ জন পুলিশ, ৪ শ’ জন সেনা সদস্য, ২৪৮ জন বিজিবি, ১০০ জন র‌্যাব ও ১০ হাজার ৮শ’ ৪৮ জন আনসার সদস্য ভোট কেন্দ্র ও ভোটারদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন। পাঁচ আসনে প্রার্থী সংখ্যা ৩৫ জন।

চাঁদপুরে এবারের নির্বাচনে ৫টি আসনেই মহাজোটের প্রার্থীদের সাথে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাঁচটি আসনেই মহাজোট প্রার্থীদের বিজয়ের সম্ভাবনা অনেকটা নিশ্চিত। ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা বলেছেন, তাদের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা করতে দেয়া হয়নি। মামলা, গ্রেফতার ও হামলা করে তাদের একঘরে করে রাখা হয়েছে। তারা নিজ ভূমে পরবাসীর মত রয়েছেন। যেহেতু ভোটারদের কাছে তারা যেতেই পারেননি এবং ভোটাররাও তাদের কাছে আসতে পারে নি সেহেতু তারা হতাশ। তারপরও তারা বিজয়ী হবার ব্যাপারে আশাবাদী।

মহাজোটের প্রার্থীদের বক্তব্য হচ্ছে, দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। সারা জেলায় নৌকার প্রতি গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এসব দেখে স্বাধীনতাবিরোধী, বোমা হামলাকারী ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকরা নিজেরাই নিজেদের গুটিয়ে রেখেছে। কোন্ মুখে তারা মানুষের কাছে ভোট চাইবে? তারা পেট্রল বোমা মেরে, গাড়ি পুড়িয়ে, আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে। বিভীষিকাময় সেসব দিনের কথা মানুষ ভুলে নি। তাই মানুষ এতিমের অর্থ আত্মসাৎকারী, জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকদের আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। এসব বুঝে এখন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের নামে তারা মিথ্যাচার করছে। আসলে জনগণের কাছে যাবার সাহসই তাদের নেই। মহাজোটের জনপ্রিয়তা ও সমর্থন দেখে তারা এখন আবোল তাবোল বলছে।

চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে মহাজোটের প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হচ্ছেন মালয়েশিয়া প্রবাসী বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন মুশু। চাঁদপুর-২ ( মতলব উত্তর ও দক্ষিণ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক ছাত্রনেতা, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট নূরুল আমিন রুহুল। ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ড. জালাল উদ্দিন। চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর উপজেলা) আসনে মহাজোটের প্রার্থী সাবেক সফল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডাঃ দীপু মনি। ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হচ্ছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। চাঁদপুর-৪ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হচ্ছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক নেতা জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান। ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক এমপি লায়ন হারুন অর রশীদ। চাঁদপুর-৫ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম। ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হচ্ছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক।