Home আইন/আদালত সুবর্ণচরের নরপশুরা জাতির কলঙ্ক

সুবর্ণচরের নরপশুরা জাতির কলঙ্ক

SHARE

বিশ্ববিদ্যায়ল পরিক্রমা ডেস্ক :  একটি ভোট নাকি একজন নারীর জীবনকে কালিমায় ভরে দিল।শত হাহাকার, অনুনয়-বিনয় আর অনুরোধেও নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি ওই অবলা নারী। শত চেষ্টা করেও পাষণ্ডদের কাছে নিজের সম্ভম হারানো আর অত্যাচার-নির্যাতনের স্টিমরোলার থেকে রক্ষা করতে পারেনি।বরং অবলা এ নারীর উপর হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে মানুষরূপী নরপশুর দল্। ঘৃণ্য এ ঘটনার বর্ণনা খুবই মর্মান্তিক ও বেদনার।

মানবতার দুষমন ছাড়া কেউ এমন নিদারুণ জগন্য ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে না।চিহ্নিত এই পাপিষ্ঠদের জন্য কেবল করুণাই হয়।সমাজের এ কীটরা যত দিন এ সমাজে থাকবে, ততদিন সমাজে মায়ের জাতি নারীদের অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধই থাকবে। নারীদের উজ্জত নিয়ে নোংরা খেলায় মেতে থাকবে নষ্ট-ভ্রষ্টরা।এমন ঘটনা পুরো পুরুষ সমাজের জন্য কলঙ্ক।এতে বিবেকবানরা বাকরুদ্ধ ও হতবাক।গণধিক্কারই যাদের পাওনা।

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের এক গ্রামে স্বামী-সন্তানকে বেঁধে রেখে এক নারীকে মারধর ও গণধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার নারীর স্বামী গত সোমবার রাতে সুবর্ণচরের চরজব্বার থানায় এ মামলা করেন। তবে তাঁরা আগে ভোট দেওয়া নিয়ে ঝামেলার কথা জানালেও মামলায় তা উল্লেখ নেই। মামলায় বলা হয়েছে ‘পূর্ববিরোধের’ কথা।

চরজব্বার থানার ওসি নিজাম উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, একই এলাকার মোশারফ, সালাউদ্দিন, বাদশা আলম ওরফে কুড়াইল্যা বাসু ও সোহেলসহ নয়জন মামলার আসামি। মামলার পর রাতেই আসামি বাদশা আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আসামি ঘটনার বিষয়ে কিছু স্বীকার করেননি। আদালতের কাছে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে।

ওই নারীর স্বামী সাংবাদিকদের জানান, সোমবার রাতে পুলিশ তাঁকে মামলা করার জন্য হাসপাতাল থেকে গাড়িতে করে থানায় নিয়ে যায়। তিনি সেখানে গিয়ে ঘটনার বর্ণনা দেন। পুলিশ তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী এজাহার লিখে আসামিদের নাম ঠিক আছে কি না জিজ্ঞেস করলে তিনি নাকি তাতে সম্মতি দেন। কিন্তু পুলিশ নাকি তাঁকে পুরো এজাহার পড়ে শোনায়নি। তিনিও পড়ালেখা না জানায় এজাহার পড়ে দেখতে পারেননি।

মামলার এজাহারে ভোটকেন্দ্রে ভোট দেওয়া নিয়ে ঝামেলার বিষয়টি বাদ পড়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওসি বলেন, বাদী যা যা বর্ণনা করেছেন, তা-ই উল্লেখ করা হয়েছে। এখন যদি তিনি কিছু বাদ গেছে বলে দাবি করেন, তদন্তে সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক খলিল উল্যাহ সাংবাদিকদের জানান, চিকিৎসাধীন নারীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন আছে। তবে ডাক্তারি পরীক্ষার ফল বুধবার নাগাদ পাওয়া গেলে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নির্যাতনের শিকার নারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা সবাই একই এলাকার অর্থাৎ চরজুবলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য রুহুল আমিনের লোক। তাঁরা সবাই নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করেছেন। ভোটের দিন আসামিরা তাঁকে তাঁদের পছন্দের প্রতীকে ভোট দিতে বলেন। তিনি তাতে রাজি না হলে এ নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে যুবকেরা তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এরপর ওই দিন রাতে বাড়িতে গিয়ে তাঁরা মারধর ও ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় তিন সদস্যের তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ ঘটনার নিন্দা ও জড়িত ব্যক্তিদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র ও দেশের মালিকানা ফিরে পেতে সংগ্রামরত জনগণ।

ঘটনার পেছনে কারণ যা-ই থাকুক, একজন নারীর ওপর অকত্য নির্যাতন হয়েছে, তা অস্বীকারের উপায় নেই। তার কাছে সবচেয়ে বড় যে সম্মান, সেখানে আঘাত করা হয়েছে। ঘটনার শুরু যেখান থেকেই হোক না কেন, নিজের সম্ভ্রম যাদের দ্বারা হারিয়েছেন; তাদের ব্যাপারে তিনি তো স্পষ্ট করেছেন। থানায় মামলার সময় যেটা ঘটেছে, লেখাপড়া না জানা তার স্বামী সেটাও বলেছেন। এতে আসল সত্য মামলায় না আসার বিষয়টি খোলাসা হয়েছে। এটা কে, কেন; কীভাবে করেছে- তা বুঝতে কারো জজ-ব্যারিস্টার হওয়ার দরকার নেই।

এমন ভয়াবহ ও বর্বর ঘটনাকে পাশ কাটিয়ে যারা ভিন্ন খাতে নিয়ে গেছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা জরুরি। কেননা এটাও একধরনের প্রতারণা।এ প্রতারণা যারা জেনে-বুঝে করেছেন, তারা বাস্তবতা ও আসল সত্যকে আড়াল করার খেলায় ওস্তাদ।এই ওস্তাদদের কারণে মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন।এ চক্রটি অনেকটা বাইন মাছের মতো- যে কাদায় থাকে, অথচ গায়ে কাদা লাগে না। কিন্তু এর খপ্পরে পড়ে মামলার বারোটা বেজে যায়।

আমরা আধুনিকতার যুগে বাস করছি।এ অবস্থায় নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলীতে যে মানবতাবিরাধী ঘটনার সূত্রপাত, তা আইয়ামে জাহেলিয়ার আলামত।ঘটনার পিছনের কারণ যা-ই হোক না কেন, একজন নারীর সম্ভ্রম হারানোকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।এর সঙ্গে যা বা যারা জড়িত, নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক তাদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা জরুরি। আক্রান্ত নারীর বক্তব্য অনুযায়ী এটা যদি নির্বাচনকে নিয়ে ঘটে থাকে, তাহলে এর দায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড়াতে পারেন না।কারণ তার অধীন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ পুরো প্রশাসন। একজন নারীর ইজ্জাত নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারো নেই। অথচ এই দুঃখজনক ঘটনা বিকেবানদের জন্য মর্মপীড়ার কারণ হলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এখানো তাকে দেথতে যাননি।

যে দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, বিরো্ধীদলীয় নেত্রী নারী, স্পিকারও নারী, শিশু ও মহিলাবিষয়ক মন্ত্রীও নারী, বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নারী, সংসদে বেশ কয়েকজন নারী আছেন, সচিব হিসেবেও আছেন নারী, নারী মেজর জেনারেলও আছেন, সে দেশে নারীর ইজ্জত-আব্রু নিয়ে ভয়াবহ নোংরামি কী করে সম্ভব, তা ভেবে কূল পাচ্ছে না; অগ্রসর নাগরিক সমাজ। মানবতা ও মানবাধিকারে বিশ্বাসীরা এই সংঘবদ্ধ পাপাচারের ব্যাপারটি নিয়ে যারপরনাই উদ্বিগ্ন।