Home খেলাধূলা একশ-ও করতে পারল না রংপুর!

একশ-ও করতে পারল না রংপুর!


বিশ্ববিদ্যায়ল পরিক্রমা ডেস্ক : বিপিএলের ইতিহাসে সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর যেন কত? পরিসংখ্যান ঘাঁটলে জবাব পাওয়া হয়তো এক লহমার ব্যাপার। কিন্তু প্রিয় দলের ব্যাটিং দেখতে বসে এই প্রশ্ন মনে ঘাই মারলে? প্রখর স্মৃতির অধিকারী না হলে প্রশ্নটা বারবারই উঁকি দেবে। বিপিএলের প্রথম ম্যাচে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে আজ ম্যাচের অনেকটা সময় এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই যেতে হয়েছে রংপুর রাইডার্স ভক্তদের। ইনিংসের প্রথম ২০ বলের মধ্যে নেই ৪ উইকেট! স্কোরবোর্ডে মাত্র ১৪ রান। এরপর আরও ১৭ রান তুলতে পড়েছে আরও ২টি উইকেট। একপর্যায়ে ৩৫ রানে পড়ল ৭ উইকেট। সর্বনিম্ন দলীয় স্কোরের কথা মাথায় না এসে উপায় নেই।

রংপুর শেষ পর্যন্ত সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর গড়ার ভাগ্য বরণ করেনি। তবে দ্রুত উইকেট পড়ায় চার-ছক্কার টি-টোয়েন্টি তাঁরা খেলেছে টেস্টের আদলে! দুই বছর আগে খুলনা টাইটানসের গড়া ৪৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার রেকর্ডটি রংপুর টপকাতে পেরেছে ১৫তম ওভারে এসে! বোঝাই যাচ্ছে, ব্যাটিংয়ে একেবারে হাঁস-ফাঁস অবস্থার মধ্য দিয়ে বিপিএল শুরু করল মাশরাফি বিন মুর্তজার রংপুর। ফ্র্যাঞ্চাইজি দলটি শেষ পর্যন্ত ইনিংসের শেষ বলে অলআউট হয়েছে। তার আগে স্কোরবোর্ডে দলীয় সংগ্রহ এক শ-ও হয়নি। মাত্র ৯৮।

একে তো বিপিএলের প্রথম ম্যাচ তার ওপর ক্রিস গেইল ও মোহাম্মদ আশরাফুল আগ্রহ ছড়িয়েছেন এই ম্যাচ ঘিরে। গেইল বিপিএলে বরাবরই অন্যতম আকর্ষণ। আর আশরাফুল ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা শেষে বিপিএলে ফিরেছেন এই ম্যাচ দিয়ে। চিটাগংয়ের ভক্তরা নিশ্চয়ই তাঁকে পেয়ে খুশি? তবে রংপুরের ভক্তরা খুশি হতে পারেননি। ঢাকায় আজ সকালেই পা রাখায় প্রথম ম্যাচটি খেলতে পারেননি গেইল। রংপুরের ভক্তরা নিশ্চয়ই ভেবেছেন, গেইল থাকলে আজ ব্যাটিংয়ের এমন হাল হয়!

শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন চিটাগং অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। গেইলের অনুপস্থিতিতে রংপুরের হয়ে ওপেন করেন মেহেদী মারুফ ও অ্যালেক্স হেলস। ইংলিশ হার্ড হিটার হেলস রবি ফ্রাইলিঙ্কের বলে ফিরেছেন দ্বিতীয় ওভারেই। ওই ওভারে মোহাম্মদ মিঠুনকেও তুলে নিয়ে রংপুরের স্কোরকে ২ উইকেটে ৪ রান বানিয়ে দেন চিটাগংয়ের এই পেসার। রংপুরের এই দুই ব্যাটসম্যানই কোনো রান না করে ফিরেছেন।

পরের ওভারে আবু জায়েদ রাইলি রুশোকে তুলে নিলে ১৪ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। অন্য প্রান্তে মেহেদী মারুফও টিকতে পারেননি। ফ্লিক করতে গিয়ে পরের ওভারে উইকেট দিয়েছেন ফ্রাইলিঙ্ককে। ইনিংসের প্রথম ২০ বলের (৩.২ ওভার) মধ্যে ৪ উইকেট হারানো রংপুরের স্কোরবোর্ডে তখন মাত্র ১৪ রান। এই আশ্চর্য পতন আর শম্ভুকগতির ব্যাটিং চলেছে অন্তত ১৫ ওভার পর্যন্ত। তখন রংপুরের রান ৭ উইকেটে ৫৪। রবি বোপারা ও সোহাগ গাজী মিলে এরপর রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন বটে, কিন্তু শুরুতে শ্লথগতির ব্যাটিং আর দ্রুত উইকেট পড়ার ধাক্কা পুষিয়ে রংপুরের স্কোরটা আর লড়াকু হয়নি।

টপ অর্ডারে রংপুরের চার ব্যাটসম্যানের স্কোর যেন মুঠোফোনের নম্বর— মেহেদী ১, হেলস ০, মিঠুন ০, রুশো ৭। পাঁচে নামা বোপারা এক প্রান্ত ধরে না রাখলে রংপুর হয়তো খুলনার গড়া রেকর্ডটি ভেঙেই ফেলত! লেজের দিকে ফরহাদ রেজা (৩) ও অধিনায়ক মাশরাফির (২) মতো মারকাটারি ব্যাটিংয়ে পারঙ্গম দুজনও হতাশ করেছেন রংপুরকে। বোপারা-গাজীর ৩৫ বলে ৪৯ রানের জুটিই মূলত মান বাঁচিয়েছে রংপুরের। কিন্তু ম্যাচ বাঁচাতে পারবে কি?

১৭ বলে ২১ রান করে আউট হন গাজী। বোপারা ৪৭ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলে আউট হয়েছেন শেষ ওভারে। শেষ ৫ ওভারে ৪৪ রান তুলে রংপুরের দলীয় স্কোর ভদ্রস্থ করার চেষ্টার পেছনে এই ইংলিশ অলরাউন্ডারের অবদানই ছিল বেশি। ওদিকে চিটাগংয়ের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সবচেয়ে বেশি অবদান প্রোটিয়া অলরাউন্ডার ফ্রাইলিঙ্কের। ১৪ রানে ৪ উইকেট নেন তিনি। ২টি করে উইকেট আবু জায়েদ ও নাঈম হাসানের।