Home খেলাধূলা অলিখিত সেমিফাইনালে মুখোমুখি সাকিব-মুশফিক

অলিখিত সেমিফাইনালে মুখোমুখি সাকিব-মুশফিক

6
0
SHARE

বিশ্ববিদ্যায়ল পরিক্রমা ডেস্ক : ফাইনাল খেলার সুযোগটাকে কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে রাজি নয় খালেদ মাহমুদ-সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস। ফাইনাল খেলার স্বপ্নে বিভোর ঢাকা ডায়নামাইটস সুদূর ইংল্যান্ড থেকে উড়িয়ে এনেছে লুক রাইটকে। রাইটকে সঙ্গী করে আজ সোমবার মুশফিকুর রহিমের চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে এলিমিনেটর ম্যাচের লড়াইয়ে নামছে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিবের ঢাকা।

আসরে দারুণ শুরু করা ঢাকা ডায়নামাইটস হারতে হারতে একেবারে খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছিল। হারের গোলকধাঁধায় পড়ে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল যে, বিপিএলের সুপার ফোরে খেলা দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছিল বিপিএলের সবচেয়ে সফল দল ঢাকার। সমীকরণের মাড়প্যাচে সুপার ফোরে খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে শেষ ম্যাচে খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে জিততেই হতো সাকিব, আন্দ্রে রাসেলদের। পয়েন্ট টেবিলের তলানির দল খুলনার বিপক্ষে হেরে গেলে দর্শক হয়েই উপভোগ করতে হতো বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের বাকি ম্যাচগুলো। সেটা হয়নি।

দুই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব ও রাসেলের অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের খুলনাকে ৪ উইকেটে হারিয়ে সেরা চারে জায়গা করে নেয়। সুযোগ করে নেয় এলিমিনেটর পর্ব খেলার। আজ দুপুর দেড়টায় বুধবারের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার্সে খেলার সুযোগ সৃষ্টি করতে সাকিবের ঢাকা মুখোমুখি হচ্ছে মুশফিকুর রহিমের চিটাগংয়ের বিপক্ষে।
৮ ফেব্রুয়ারি ফাইনাল খেলতে ঢাকা ও চিটাগং-দুই দলকেই জিততে হবে। হারলেই বিদায়। এমন সমীকরণের বিচারে ম্যাচটিকে অলিখিত সেমিফাইনাল বলাই যায়। হারলেই বিদায়। অবশ্য জিতলেও ফাইনাল খেলা হবে না জয়ী দলের। এজন্য ৬ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার্সে মুখোমুখি হতে হবে রংপুর রাইডার্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের পরাজিত দলের বিপক্ষে। রংপুর ও কুমিল্লা ফাইনাল নিশ্চিত করতে আজ সন্ধ্যায় মুখোমুখি হচ্ছে পরস্পরের।

গত আসরের ফাইনালিষ্ট ঢাকা যাত্রা শুরু করেছিল জয়ে। লিগ পর্ব শেষও করে জয়ে। তবে খুলনার বিপক্ষে জয়টি ছিল বিপিএলে বেঁচে থাকার অক্সিজেন। ঢাকাকে এলিমিনেটর পর্বে টেনে তোলার দুই মহানায়ক সাকিব ও রাসেল। অবশ্য হযরতউল্লাহ জাজাই, কিয়েরন পোলার্ড, সুনিল নারিন, রুবেল হোসেন, নুরুল হাসান সোহানরা পিছিয়ে ছিলেন না। তবে সাকিব ও রাসেলের পারফরম্যান্সের কাছে বিবর্ণ ছিলেন অন্যরা। দুজনেই ব্যাট ও বল হাতে অনন্য। বিশেষ করে সাকিব দলের সবার চেয়ে অনন্য। তবে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ব্যাটিংয়ের চেয়ে অনেক বেশি উজ্জ্বল বোলিংয়ে। বল হাতে ঢাকার অধিনায়ক ১২ ম্যাচে উইকেট নিয়েছেন ২১টি। ব্যাটিংয়ে ১২ ইনিংসে ২৫ গড়ে রান করেছেন ২৭৫। স্ট্রাইক রেট ১১৪.৫৮।

পিছিয়ে নেই অবশ্য আন্দ্রে রাসেলও। ১২ ম্যাচে ক্যারিবীয় ক্রিকেটারের রান ২৫৫ এবং উইকেট ১২টি। এই দুই অলরাউন্ডারের দিকে তাকিয়ে আছেন কোচ খালেদ মাহমুদ। তিনি জানান, ‘ম্যাচটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জিতলে থাকব। হেরে গেলে বিদায়। এর আগে চিটাগংয়ের কাছে দুবারই হেরেছি। তবে সোমবার সম্পূর্ণ নতুন ম্যাচ। আমি বিশ্বাস করি আমাদের দল পুরোপুরি প্রস্তুত। আন্দ্রে রাসেল অসাধারণ একজন ক্রিকেটার। সে একাই ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখেন। সাকিব বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারদের একজন। আশা করি অধিনায়ক হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিবেন।’

চিটাগংকে হারাতে ঢাকা এরই মধ্যে উড়িয়ে এনেছেন শ্রীলঙ্কার উপুল থারাঙ্গা, লুক রাইটকে। তবে পিছিয়ে নেই মুশফিকের চিটাগং। দলটি ঢাকার বিপক্ষে ১১ রান ও ৩ উইকেটে জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই আজ দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার্সে ওঠার লড়াইয়ে নামছে চিটাগং।

image_pdfimage_print