Home আইন/আদালত দুর্নীতির মামলায় শুল্ক কর্মকর্তা স্ত্রীসহ কারাগারে

দুর্নীতির মামলায় শুল্ক কর্মকর্তা স্ত্রীসহ কারাগারে

SHARE

বিশ্ববিদ্যায়ল পরিক্রমা ডেস্ক : দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর করা দুর্নীতির মামলায় চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন হাজারী ও তাঁর স্ত্রী হালিমা বেগমের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. আকবর হোসেন মৃধার আদালতে তাঁরা আত্মসমপর্ণ করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠান।

শুল্ক কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় ২০০৮ সালে চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে চট্টগ্রাম নগর লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। সমালোচনার মুখে ২০১০ সালে তিনি পদটি ছেড়ে দেন। তিনি এখন চট্টগ্রাম-কুমিল্লা-সিলেট কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসার্স এক্সিকিউটিভ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি।

দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক বলেন, হালিমা বেগম একজন গৃহিণী। অথচ ৩ কোটি ২ লাখ ৩২ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মালিক তিনি। তাঁর স্বামী আমজাদ হোসেন হাজারী চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা। অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে গত ৬ জানুয়ারি নগরের ডবলমুরিং থানায় মামলা করেছে দুদক। ১৪ জানুয়ারি এই দম্পতি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তাঁদের চার সপ্তাহের মধে৵ নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের আদেশ দেন। সেই অনুযায়ী তাঁরা হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আমজাদ হোসেন ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম কাস্টমস এপ্রেইজার হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। স্ত্রীর নামে ২০০৫, ২০০৬, ২০০৭, ২০০৯ ও ২০১০ সালে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। এরপর স্ত্রীর নামে আয়কর নথি খুলে পোলট্রি ব্যবসার অস্বাভাবিক আয় দেখিয়ে এসব অবৈধ আয়কে বৈধ করার চেষ্টা করেছেন। যে পোলট্রি খামার থেকে আয় দেখিয়েছেন, বাস্তবে সেটির কোনো অস্তিত্ব নেই।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১৯৮৭-৮৮ করবর্ষ থেকে ২০১১-১২ করবর্ষ পর্যন্ত হালিমা বেগম আয় দেখিয়েছেন ৩ কোটি ৬৩ লাখ ৯৬ হাজার ৭৩৫ টাকা এবং ব্যয় দেখিয়েছেন ৮৮ লাখ ৬৯ হাজার ৫৭৯ টাকা। প্রদর্শিত ৩ কোটি ৬৩ লাখ ৯৬ হাজার ৭৩৫ টাকা আয়ের মধে৵ নগরের পতেঙ্গা বন্দরটিলা মৌজায় ১০ শতক জমির ওপর নির্মিত পোলট্রি খামার থেকে আয় দেখিয়েছেন ৩ কোটি ২৬ লাখ ৬৭ হাজার ৫৫০ টাকা। বাকিগুলো অন্য খাত থেকে।

পোলট্রি ব্যবসা থেকে এত আয় সম্ভব কি না—প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ঢাকা কার্যালয়ে চিঠির মাধ্যমে দুদক জানতে চায়। সেখান থেকে জানানো হয়, ১৯৮৬ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দেশে ব্রয়লার জাতের মুরগি লালনপালন ছিল না। তবে লেয়ার মুরগি পালন করলে ১০ শতক জায়গায় খাঁচা পদ্ধতিতে চারটি ফ্লোরে ৮ হাজার মুরগি পালন সম্ভব। মুরগিপ্রতি গড়ে ১৮০ থেকে ২০০টি ডিম হিসাবে বছরে ১৪ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১৬ লাখ পর্যন্ত ডিম উৎপাদন সম্ভব। এর থেকে ছয় বছরে সর্বোচ্চ ৩৮ লাখ ২৪ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। এ ছাড়া আয়কর বিবরণীতে হালিমা কোনো দায়দেনা উল্লেখ করেননি। যাচাইকালেও দায়দেনা পাওয়া যায়নি।