Home জাতীয় ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত

ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত

SHARE

বিশ্ববিদ্যায়ল পরিক্রমা ডেস্ক : কবি নির্মলেন্দু গুণের ভেতর এক অন্যরকম আলোড়ন ঝড় তুলেছে কোনো এক বসন্তে, তাই লিখছেন-মনের ভিতর জুড়ে আরো এক মনের মর্মর,/পাতা ঝরা, স্বচক্ষে স্বকর্ণে দেখা চাঁদ, জ্যোৎস্নাময়/ রাতের উল্লাসে কালো বিষ । এ না হলে বসন্ত কিসের ?

হ্যা, সেই বসন্ত জাগ্রত দ্বারে।ঋতু বৈচিত্র্যের এই দেশে পহেলা ফাল্গুন আজ। তাই প্রকৃতিতে অন্যরকম শিহরণ।রবী ঠাকুরের গীতিময় উচ্চারণ ভাসছে বাতাসে-আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে/ তব অবগুণ্ঠিত কুণ্ঠিত জীবনে, করো না বিড়ম্বিত তারে/ আজি খুলিয়ো হৃদয় দল খুলিয়ো/ আজি ভুলিয়ো আপনপর ভুলিয়ো’।

তরুণের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে একথাও-আকাশে বহিছে প্রেম, নয়নে লাগিল নেশা / কারা যে ডাকিল পিছে! বসন্ত এসে গেছে / মধুর অমৃত বাণী, বেলা গেল সহজেই / মরমে উঠিল বাজি; বসন্ত এসে গেছে।

হৃদয় প্রসারিত করার দিন বসন্ত বলে, সবাই কেমন যেন রোমান্টিক হয়ে উঠেছে।প্রকৃতিও সেজেছে নন্দন মধুরিমায়।প্রত্যেকটি প্রাণ সতেজ হয়ে উঠেছে অন্য এক আবেশে, অনুভূতিতে।মানুষের ভেতরে জঞ্জাল, যে অনাহুত উৎপাত। যার ফলে জন্ম নেয় ঈর্ষা-দ্বেষ তা যেন দূর করতেই বসন্ত আসে প্রতি বছর দেশে দেশে।যেমন আজ এই ভাটির দেশেও দৃশ্যমান।

এ ঋতুতে প্রকৃতপক্ষে যাপিত জীবন যাতে সুন্দর হয়-যেন তারই আহ্বানে ক্ষণে ক্ষণে বেজে ওঠে বীণা।মনের গহীন কোণে যে প্রেমের বাণি উৎকীর্ণ হয়-তাতে খসখসে গদ্য হারিয়ে কাব্যময় হয়ে ওঠে-আবাল-বৃদ্ধ-বণিতার জীবন।

জীবন কোনো বদ্ধ জলাশয় নয়। কিংবা কূপমণ্ডকতায় স্থৈর্য্য হওয়াও যে নয়-তাই বোধ হয় মননে চেতনে আলোড়িত একগুচ্ছ বোধ নিয়ে আসে বসন্ত। মানুষ সুন্দরের পূজারী। সে সুন্দর শুধু ধলা আর কালায় যে নয়।আরো আরো উদ্ভাসনে বসন্ত বিরাজিত বলেই ফোটে পলাশ,শিমুল।বনে বনে ছোটে রঙিন ফুলের সৌরভ।

সে কারণে ফাগুন হাওয়ায় দোল দিয়ে এসে গেছে বসন্ত। সভ্যতার চাকার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেঁচে থাকা ঋতুরাজকে বরণ করে নিতে কুহু স্বরে ডেকে উঠছে কোকিল। বসন্তকে বরণ করে নিতে তারুণ্য সেজেছে বাসন্তী সাজে।

কৃষ্ণচূড়ার রঙে আজ সাজবে তরুণ-তরুণীরা। লাল-হলুদের বসনে নিজেদের রাঙানোর পাশাপাশি হলুদ গাঁদার ফুলে ভিন্ন এক সাজে তরুণীরা সাজাবে নিজেদের। ঘুরে বেড়াবে প্রিয়জনের হাত ধরে। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথের ১৪০০ সাল কবিতার প্রতি উত্তরে নজরুল ১৪০০ সাল নামেই একটি কবিতায় লিখেছিলেন— ‘আজি নব বসন্তের প্রভাত বেলায়, গান হয়ে মাতিয়াছ আমাদের যৌবন মেলায়’।

এত কিছুর পরেও অন্য এক বসন্তের সাথে যে মানুষের সাক্ষাৎ ঘটে হররোজ তা বলতে কিন্তু কবি ভোলেন নি। সুভাষ মুখোপাধ্যায় তাই লিখছেন-‘ফুল ফুটুক না ফুটুক/ আজ বসন্ত।/ শান-বাঁধানো ফুটপাথে/ পাথরে পা ডুবিয়ে এক কাঠখোট্টা গাছ/ কচি কচি পাতায় পাঁজর ফাটিয়ে/হাসছে।/ ফুল ফুটুক না ফুটুক/আজ বসন্ত।/ আলোর চোখে কালো ঠুলি পরিয়ে /তারপর খুলে–/ মৃত্যুর কোলে মানুষকে শুইয়ে দিয়ে/ তারপর তুলে–/ যে দিনগুলো রাস্তা দিয়ে চলে গেছে / যেন না ফেরে।’ সত্যি এই অনাহুত অন্ধকার বিদায় হয়ে দোরে দোরে বিদ্যমান থাকুক হররোজ বসন্ত। জীবন রাঙিয়ে যাক আশার আলোয়।