Home জাতীয় আবরারের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দেয়ার নির্দেশ

আবরারের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দেয়ার নির্দেশ

SHARE

বিশ্ববিদ্যায়ল পরিক্রমা ডেস্ক : বাসচাপায় নিহত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীর পরিবারকে জরুরি খরচ বাবদ ১০ লাখ টাকা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (২০ মার্চ) একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়।

সুপ্রভাত পরিবহনকে কর্তৃপক্ষকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ অর্থ পরিশোধ করতে বলেছেন আদালত।

সড়কে সাধারণের নিরাপত্তা দিতে কর্তৃপক্ষের অব্যাহত ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং নিহত আবরারের পরিবারকে কেন পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

এতে চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, সড়ক ও সেতু সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিআরটিএ, সুপ্রভাত পরিবহনসহ আট বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রুহুল কুদ্দুস কাজল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারোয়ার কাজল।

রুহুল কুদ্দুস কাজল পরে সাংবাদিকদের বলেন, আদালত ওই দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) পরিচালককে একটি প্রতিবেদন দিতে বলেছে।

এদিকে রাজধানীর প্রগতি সরণিতে চাপা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরীকে হত্যাকারী সুপ্রভাত বাসচালকের ভারী যান চালানোর লাইসেন্স ছিল না।

ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, হালকা যান চালনোর লাইসেন্স নিয়ে তিনি বাসের মতো ভারী যান চালাচ্ছিলেন।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রবেশমুখে আসেন মেয়র আতিকুল। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ও বিইউপির উপাচার্য মেজর জেনারেল এমদাদ-উল বারী।

বিস্ময় প্রকাশ করে মেয়র বলেন, হালকা যানের লাইসেন্স নিয়ে ভারী যান চালাচ্ছিলেন ওই চালক। এটি কীভাবে সম্ভব! আইন অনুসারে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, সুপ্রভাত পরিবহনের সব বাসের সার্ভিস বন্ধ রাখা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির রুট পারমিট।

এদিকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো ফের রাস্তায় নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার রাজধানীর শাহবাগ, ফার্মগেট, প্রগতি সরণি, রামপুরা, ধানমণ্ডি, উত্তরা ও রায়সাহেব বাজারে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আওয়াজ তোলেন। এতে এসব এলাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় প্রবেশমুখে অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসসহ (বিইউপি) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী জড়ো হন। আবরার ছিলেন বিইউপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী।

এ সময় ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম এসে শিক্ষার্থীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান করে বলেন, আমি আপনাদের সব দাবির সঙ্গে একমত, আমিও ন্যায়বিচার চাই। আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। এখানে একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ হবে। আপনারা আমার সঙ্গে থাকেন। আপনাদের সব দাবি বাস্তবায়ন করা হবে।