Home ঢাকা ক্যাম্পাস ৩ পরীক্ষাতেই একই নম্বর পেয়েছে জাবির ইতিহাস বিভাগের সকল শিক্ষার্থী!

৩ পরীক্ষাতেই একই নম্বর পেয়েছে জাবির ইতিহাস বিভাগের সকল শিক্ষার্থী!

SHARE

জাবি প্রতিনিধি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইতিহাস বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনধরে শিক্ষার্থীদের টিউটোরিয়াল পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন না করেই নম্বর দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষক খাতা না দেখেই ইচ্ছামতো নম্বর বসিয়ে দিয়েছে ফলে একজন শিক্ষার্থী প্রথম টিউটোরিয়ালে যে নম্বর পেয়েছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় টিউটোরিয়ালে একই নম্বর পেয়েছে এবং বিভাগের সকল শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রেই একই ঘটনা ঘটেছে।

ইতিহাস বিভাগের ৪৫ তম আবর্তনের একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে এ ঘটনা জানা যায়। তবে ভয়ে শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্যে কোন অভিযোগ করছেন না।

জানা যায়, গত ১৮ই মার্চ ৪৫ ব্যাচের তৃতীয় বর্ষের স্নাতক (সম্মান) চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষা শুরু হয়। তবে ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হলেও ৩০৪ নং কোর্সের টিউটোরিয়াল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। এই কোর্সটির কোর্স শিক্ষক অধ্যাপক এম নূরুল ইসলাম। চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষা শুরু হওয়ার প্রায় ১০ দিন পরে নোটিশ বোর্ডে অধ্যাপক এম নূরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, অধ্যাপক এম নূরুল ইসলাম প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় টিউটোরিয়ালে একই নম্বর দিয়েছে।

টিউটোরিয়াল পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের প্রায় ৮২ জন শিক্ষার্থী ৩০৪ নং কোর্সের টিউটোরিয়াল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে প্রত্যেক শিক্ষার্থী প্রথম টিউটোরিয়ালে যে নম্বর পেয়েছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় টিউটোরিয়ালে সেই একই নম্বর পেয়েছে। অর্থাৎ যিনি প্রথম টিউটোরিয়ালে ৫ নম্বর পেয়েছেন, বাকি দুই টিউটোরিয়ালেও ৫ নম্বর করে পেয়েছেন। এমন ঘটনা ঘটেছে ওই ব্যাচের সকল শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রেই।

শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যাপক এম নূরুল ইসলাম ইসলাম খাতা না দেখেই নম্বর দেন। কারণ তারা প্রথম টিউটোরিয়ালে যে নম্বর পেয়েছে বাকি দুই টিউটোরিয়ালেও সেই একই নম্বর পেয়েছে। একজন দুই জনের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটতে পারে। তবে ৮২ জনের বেলাই একই ঘটনা ঘটা সম্ভব না। খাতা দেখে নম্বর দিলে এমনটি হতো না। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, অনেক সময় যে শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেননি, তিনিও আশ্চর্যজনকভাবে নম্বর পান। এতে বোঝা যায় এই শিক্ষক খাতা দেখে নম্বর দেন না।

এ বিষয়ে অধ্যাপক এম নূরুল ইসলামের সাথে যেগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “নাউযুবিল্লাহ! কি বলো ভাই? সবাইকে গড়ে…” এটুকু বলার পরেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর দুদিনে অসংখ্যবার ফোন দিলেও তার সাথে কথা বলা যায়নি।

ইতিহাস বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আরিফা সুলতানা বলেন, অনেক শিক্ষকই এরকম করেন যা ঠিক নয়। তিনি ক্লাস ঠিকমত নেন না এবং পরীক্ষার খাতা সময়মতো দেখেন না। এ বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তবে খাতা না দেখে নম্বর দেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। এ নিয়ে তার সাথে কথা বলব।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. নূরুল আলম বলেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর তিনটি টিউটোরিয়ালে সমান নম্বর পাওয়া সত্যিই অস্বাভাবিক। আমি কখনও এমনটা শুনিনি। খাতা সঠিকভাবে পর্যালোচনা করে নম্বর দিলে এমনটা হবার কথা না। এ ব্যাপারে ওই শিক্ষকের সাথেও কথা বলব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।