Home ব্রেকিং বিএনপির কর্মসূচির দিকে নজর আ’লীগের

বিএনপির কর্মসূচির দিকে নজর আ’লীগের


বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা ডেস্ক : রাজনৈতিক ময়দানে জোরদার কোনো আন্দোলনের কর্মসূচি না থাকা সত্ত্বেও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ও দলগুলো কী করছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ সে দিকে নজর রাখছে। সংসদ অধিবেশনে বিএনপিকে যুক্ত করা নিয়ে কিছুদিন আওয়ামী লীগ চিন্তিত থাকলেও বর্তমানে সে দুশ্চিন্তা কেটেছে। বিএনপি সংসদ অধিবেশনে যোগদান করে বিভিন্ন ইস্যুতে বক্তব্য রাখছে। সে বিষয়টিও ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে সরকারি দল।

তবে বিএনপি এ অবস্থায় তাদের দলীয় প্রধানকে কারামুক্ত করতে কঠোর কোনো কর্মসূচি দেয় কি না সে বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক ক্ষমতাসীনেরা। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিএনপির নেতৃবৃন্দ বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে সম্ভাব্য কর্মসূচির মনোভাব ব্যক্ত করার পরই সরকারি দল এ নিয়ে নতুন করে ভাবছে। বিএনপি কী ধরনের কর্মসূচি দিতে যাচ্ছে সে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিভিন্ন মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করবে বলে আ’লীগের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের অন্যতম মুখপাত্র ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি আর কী আন্দোলন করবে! সম্প্রতি দেখলাম ছাত্রদল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় তালাবদ্ধ করে রেখেছে। তাদেরতো নিজেদের মধ্যেই কোনো শৃঙ্খলা নেই, তারা আর কী আন্দোলন গড়ে তুলবে। তিনি বলেন, গত ১০ বছর ধরেতো বিএনপির অনেক আন্দোলন দেখেছি। বিএনপি এখন জনবিচ্ছিন্ন একটি দলে পরিণত হয়েছে। অতীতে দেখেছি তাদের আন্দোলনের ডাকে কেউ সাড়া দেয়নি।

জানা গেছে, গত ২২ জুন অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলীয় প্রধানের মুক্তির দাবিতে জুলাই মাসে আন্দোলনে নামবে ২০ দলীয় জোট, এমন সিদ্ধান্তের কথা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। জুলাইয়ে ২০ দলীয় জোট ঢাকাসহ সারা দেশে কর্মসূচি পালন করবে বলেও ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু কী কর্মসূচি পালন করবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

দলটির এ ঘোষণার পরই এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। তারা বিএনপির আন্দোলনের সফলতা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দী খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য এখন পর্যন্ত তেমন জোরালো কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি বিএনপি কিংবা তাদের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট।

আ’লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক নেতা আলাপকালে জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি ও দলটির নেতৃত্বের জোট কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবে না। দলটির চেয়ারপারসন কারাবন্দী, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিদেশে এবং শীর্ষ নেতৃত্বে বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে সমন্বয় না থাকায় বিএনপি কিংবা ঐক্যফ্রন্ট সরকারবিরোধী জোরালো কোনো আন্দোলন কর্মসূচির দিকে আপাতত যেতে পারছে না। এজন্য মাঝে মাঝে আন্দোলনের হাকডাক দিয়ে সরকারের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করেন বিএনপির নেতারা। কিছু সময় সরকারকে চাপে ফেলারও চেষ্টা করেন। আ’লীগ নেতারা মনে করেন, আগের চেয়ে সরকার অনেক শক্তিশালী, অনেক পোক্ত। দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে লবিংয়ের ক্ষেত্রে অনেক বেশি শক্তিশালী। বিএনপির তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নেতৃত্বে সমস্যা থাকার কারণে শক্ত কোনো কর্মসূচিও দিতে গেলে অনেক ভেবেচিন্তে দিতে হবে। অতীতের মতো আন্দোলনে ব্যর্থ হলে দলটিকে রাজনীতির মাঠ থেকে চিরতরে বিদায় নিতে হতে পারে।

সরকারের নীতিনির্ধারক সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে নতুন যাত্রা শুরুর কিছুদিন পরই কারাবন্দী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে নমনীয় অবস্থান নেয় সরকার। বিএনপি প্রধানের প্যারোলের বিষয়ে সরকারের সাথে মধ্যস্থতা করেন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের তিন নেতা। এ বিষয়ে সরকারের সাথে সমন্বয় করেন প্রধানমন্ত্রীর এক উপদেষ্টা। প্যারোলের বিষয়ে শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সমঝোতা না হওয়ায় এ বিষয়ে আগের নমনীয় অবস্থান থেকে কিছুটা হলেও সরে এসেছে সরকার।

বিএনপির আন্দোলন কর্মসূচি প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপি আন্দোলন করবে এ কথা তো বারবার বলেই যাচ্ছে। এখনো তারা পুরনো কথাই বলছেন। গত দশ বছর ধরে তাদের আন্দোলন করতে দেখছি, এখন কবে দেখব তারাই জানেন। সক্ষমতা থাকলে আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনুক বিএনপি।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব:) ফারুক খান এ প্রসঙ্গে বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করলে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাতে অংশ নেবেন না। যা অতীতেও আমরা দেখেছি। বিএনপি অতীতেও খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। সেগুলোতে দলটির নেতাকর্মীরা অংশ নেননি। জনগণও তাদের আন্দোলন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন না।