Home খেলাধূলা ২৭ বছর পর সেমিতে ইংল্যান্ড

২৭ বছর পর সেমিতে ইংল্যান্ড

SHARE
England's Ben Stokes celebrates taking the wicket of New Zealand's Colin De Grandhomme during the ICC Cricket World Cup group stage match at Riverside Durham, Chester-le-Street. (Photo by Nigel French/PA Images via Getty Images)

বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা ডেস্ক : জনি বেয়ারস্টোর টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরির পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে লক্ষ্যটা নাগালে রেখেছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা নিতে পারলেন না দায়িত্ব। কিউইরাও যেতে পারল না লক্ষ্যের ধারেকাছে। সহজ জয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে গেল ইংল্যান্ড।

চেস্টার-লি-স্ট্রিটে বুধবার ইংল্যান্ড জিতেছে ১১৯ রানে। স্বাগতিকরা আগে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ৩০ ওভারে ১ উইকেটে তুলেছিল ১৯৪ রান। তবে পরের ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে তুলতে পারে মাত্র ১১১ রান। ৫০ ওভারে করে ৮ উইকেটে ৩০৫ রান। জবাবে নিউজিল্যান্ড থামে ১৮৬ রানে।

১৯৯২ সালের পর ইংল্যান্ড এই প্রথম বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল, ঘুচল দীর্ঘ ২৭ বছরের অপেক্ষা।

অথচ শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে টানা দুই হারে ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালের আশা ক্ষীণ হয়ে গিয়েছিল অনেকটা। শেষ দুই ম্যাচ হয়ে দাঁড়িয়েছিল বাঁচা-মরার লড়াই। যেখানে প্রথমে ভারতকে, এরপর নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল ইংলিশরা।

ইংল্যান্ডের জয়ে পাকিস্তানের সেমিফাইনালের আশাও প্রায় নিভে গেল। নেট রানরেটে নিউজিল্যান্ডকে টপকে সেমিফাইনালে যেতে হলে শুক্রবার শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানকে জিততে হবে বিশাল ব্যবধানে। না হলে শেষ দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠবে নিউজিল্যান্ড। ইংল্যান্ডের আগে সেমির টিকিট নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া ও ভারত।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্ত। বেয়ারস্টো ও জেসন রয় পাওয়ার-প্লেতে তোলেন ৬৭ রান। জুটির শতরান পূর্ণ হয় ১৪.৪ ওভারেই।

রয়কে (৬১ বলে ৬০) ফিরিয়ে ১২৩ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন জেমস নিশাম। রুটের সঙ্গে জুটি বেঁধে বেয়ারস্টো টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন ৯৫ বলে। দুজনের ৭১ রানের জুটিটা তখন জমে উঠেছিল বেশ। ইংল্যান্ডও বড় সংগ্রহের পথে। ৩০ ওভারে রান ১ উইকেটে ১৯৪।

নিউজিল্যান্ডের ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু এরপরই। বাউন্সারে রুটকে (২৪) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন ট্রেন্ট বোল্ট। পরের ওভারে ফেরেন বেয়ারস্টোও। ৯৯ বলে ১৫ চার ও এক ছক্কায় ১০৬ রানের ইনিংসটি সাজান ডানহাতি ওপেনার।

এরপর নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারিয়েছে ইংল্যান্ড। জস বাটলার (১১), বেন স্টোকস (১১), ক্রিস ওকস (৪) কেউই ইনিংস টেনে নিতে পারেননি। অধিনায়ক এউইন মরগান দলের স্কোর আড়াইশ পার করে নিজে এগোচ্ছিলেন ফিফটির দিকে। তাকে (৪০ বলে ৪২) থামান ম্যাট হেনরি।

২৭২ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর ইংল্যান্ডের সংগ্রহটা তিনশ পেরিয়েছে মূলত আদিল রশিদ ও লিয়াম প্লাঙ্কেটের অষ্টম উইকেটে ২৯ রানের জুটির কল্যাণে। শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে রশিদ ১২ বলে করেন ১৬ রান। প্লাঙ্কেট অপরাজিত ছিলেন ১২ বলে ১৫ রানে।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে বোল্ট ৫৬ রানে, হেনরি ৫৪ রানে ও নিশাম ৪১ রানে নেন ২টি করে উইকেট। একটি করে উইকেট নেন মিচেল স্যান্টনার ও দলে ফেরা
টিম সাউদি।

লক্ষ্য তাড়ায় ১৪ রানের মধ্যেই দুই ওপেনার হেনরি নিকোলস ও মার্টিন গাপটিলের উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। প্রথম ওভারে ক্রিস ওকসের বলে এলবিডব্লিউ হওয়া নিকোলাস মারেন গোল্ডেন ডাক।

ষষ্ঠ ওভারে গাপটিলকে জস বাটলারের দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরিয়ে বিশ্বকাপের এক আসরে ইংলিশ বোলার হিসেবে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার রেকর্ডে ইয়ান বোথামকে (১৬) ছাড়িয়ে যান জোফরা আর্চার (১৭)।

তৃতীয় উইকেটে ৪৭ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়েছিলেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ও রস টেলর। এরপরই দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউট হন উইলিয়ামসন (২৭)।

মার্ক উডকে ডাউন দ্য উইকেটে খেলেছিলেন টেলর। বল উডের হাত ছুঁয়ে ভেঙে দেয় স্টাম্প। উইলিয়ামসন তখন ক্রিজের বাইরে! পরের ওভারে ডাবল নিতে গিয়ে রান আউট হয়ে ইংল্যান্ডকে উইকেট উপহার দেন টেলর (২৮)।

পঞ্চম উইকেটে ৫৪ রানের একটা জুটি গড়েছিলেন টম ল্যাথাম ও জেমস নিশাম। নিশামের (১৯) বিদায়ে এ জুটি ভাঙার পর আর পেরে ওঠেনি নিউজিল্যান্ড। ল্যাথামের ফিফটি (৫৭) পরাজয়ের ব্যবধানই কমাতে পারে শুধু।

৩৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের সেরা বোলার উড। ওকস, আর্চার, প্লাঙ্কেট, রশিদ ও স্টোকস নেন একটি করে উইকেট। সেঞ্চুরির জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন বেয়ারস্টো।