Home ব্রেকিং রংপুরের শূন্য আসন নিয়ে নতুন সমীকরণ!

রংপুরের শূন্য আসন নিয়ে নতুন সমীকরণ!

SHARE

বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা ডেস্ক :  জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে আসনটিতে বিজয়ী হওয়াই এখন দলীয় নেতাকর্মীদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। কারণ আসনটিতে জোটবদ্ধ নির্বাচন না হলে সজিব ওয়াজেদ জয়ের মতো ভিভিআইপি প্রার্থীর সাথেও লড়তে হতে পারে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে। তাই বিজয় নিশ্চিতে কিভাবে দলটির প্রার্থী চূড়ান্ত হবে তা-ই এখন টক অব দ্য রংপুর।

গত ১৪ জুলাই সকালে মারা যান এরশাদ। ১৬ জুলাই রংপুরের পল্লী নিবাসে সমাহিত করা হয় তাকে। ওইদিনই সংসদ সচিবালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) আ ই ম গোলাম কিবরিয়া আসনটি শূন্য হওয়ার গেজেট প্রকাশ করেন। সংবিধান অনুযায়ী আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে ওই আসনে উপ-নির্বাচন হবে। এরশাদের অবর্তমানে আসনটি জাতীয় পার্টির ঘরে রাখা এখন রংপুরের নেতাকর্মীদের প্রধান ও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজনৈতিক বিভিন্ন সূত্র বলছে, রংপুর-৩ আসনটি আওয়ামী লীগ তাদের ঘরে তুলতে এখন মরিয়া। সদর আসনটি বাগিয়ে নিয়ে পুরো রংপুর বিভাগে আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র আধিপত্যের প্রমাণ দিতে চান তারা। সেক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে যাতে আসনটিতে মহাজোটবদ্ধ নির্বাচন না হয়, সে লক্ষেই চলছে তাদের লবিং। এ ছাড়াও রংপুরে বাজারে চাউর হয়ে আছে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় এখানে নির্বাচন করছেন। সেক্ষেত্রে এ ভিভিআইপি প্রার্থীকে বিজয়ী করাও হবে ক্ষমতাসীন দলের চ্যালেঞ্জ। অন্য দিকে, এরশাদের সমাধি রংপুরে হওয়ায় এখানকার জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়েছে। এ অবস্থায় তারা এ আসন হাতছাড়া করতে নারাজ তারা।

এসব কারণে এ আসনটির উপ-নির্বাচনে জাতীয় পার্টি প্রার্থী বাছাই করতে চায় অত্যন্ত সতর্কতার সাথে। প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে এখন জাতীয় পার্টির সামনে পারিবারিক ও রাজনৈতিক দু’টি ফ্যাক্টর রয়েছে। পারিবারিকভাবেই প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকলেও রাজনৈতিকভাবে প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। কারণ হিসেবে নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, রংপুরে এরশাদের পারিবারিক বলয় রাজনীতিতে খুব একটা অবস্থান করতে পারেনি। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে দলীয় ধারাই সেক্ষেত্রে প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।

পারিবারিক ও দলীয় বিভিন্ন সূত্র বলছে, পারিবারিকভাবে প্রার্থিতার আলোচনা ঘুরপাক খাচ্ছে এরশাদের ছোট ভাই আমেরিকা প্রবাসী হুসেইন মুহম্মদ মোর্শেদ আপেল, জ্যেষ্ঠ পুত্র রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ, ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ, ভাতিজা প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর (অব:) খালেদ আখতার, ভাগ্নি জামাই জিয়াউদ্দিন বাবলুর মধ্যে। অন্য দিকে, দলের বর্তমান চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকেও প্রার্থিতার আলোচনায় রেখেছেন অনেকেই। সেক্ষেত্রে তিনি প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হলে লালমনিরহাট-৩ আসনটি ছেড়ে দিতে হবে।

অন্য দিকে রাজনৈতিকভাবে প্রার্থিতার সিদ্ধান্ত নিলে সেক্ষেত্রে প্রথম আলোচনায় আছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য, মহানগর সভাপতি রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। কিন্তু সেক্ষেত্রে মেয়র পদটি ছেড়ে দেয়ার জটিলতা থাকায় প্রার্থিতার আলোচনায় আরো আছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক এস এম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর, এস এম ইয়াসির, হাজী আব্দুর রাজ্জাক, লোকমান হোসেন ও হাসানুজ্জামান নাজিম।

জাতীয় পার্টির বিভিন্ন সূত্র জানায়, রাজনৈতিকভাবে যদি প্রার্থী চূড়ান্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, আর মোস্তফাকে মেয়র হিসেবেই রাখা হয়, সেক্ষেত্রে বর্তমান মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাও প্রার্থী আলোচনায় আসতে পারে। তখন তাকে রংপুর-১ আসটি ছেড়ে দিতে হবে।

এ ব্যাপারে পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা নয়া দিগন্তকে জানান, শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসন আমাদের দলীয় প্রধানের আসন। এখানে অতীতেও জোটবদ্ধ নির্বাচন হয়েছে। উপ-নির্বাচনও সেভাবেই হবে ইনশা আল্লাহ। প্রার্থিতার ব্যাপারে তিনি বলেন, পারিবারিক, রাজনীতিক দু’টি বিষয়ই আছে প্রার্থিতা চূড়ান্তের তালিকায়। সেক্ষেত্রে প্রেসিডিয়াম বৈঠকেই মূল সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।