Home ব্রেকিং কন্যাশিশুর নিরাপত্তায় পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা

কন্যাশিশুর নিরাপত্তায় পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা

SHARE

 শামসুজ্জামান ডলারঃ   ২০১৮ সালে বাংলাদেশে ২২৭ জন শিশু নিহত এবং ৩৫৬ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে মারা গেছে ২২ জন এবং আহত হয়েছে ৩৩৪ জন। দেশের ছয়টি জাতীয় দৈনিকের শিশু বিষয়ক সংবাদগুলো পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের শিশু পরিস্থিতির একটি চিত্র তৈরি করেছে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থা। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই ছয় মাসে দেশে ৩৯৯জন শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছে। শিশুদের জন্য আমরা দিনে দিনে কত ভয়ঙ্কর হয়ে যাচ্ছি, তা অনুধাবন করতে উপরের তথ্যগুলোই যথেষ্ট।

কোন সন্দেহ নেই দেশে শিশু হত্যা, যৌন ও শারীরিক নির্যাতন আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে যৌন নির্যাতনের সংখ্যা প্রকাশিত খবরের তুলনায় বাস্তবে আরও বেশি। কিন্তু এগুলো জানা যায় না কারণ মানুষ সহজে মামলা করে না কিংবা পুলিশের কাছে যায় না। তবে কেন মামলা করে না বা পুলিশের কাছে যায় না, তার পেছনেও কারন রয়েছে। এটা একটা উদ্বেগজনক বিষয় যে, আমরা আমাদের শিশুদের নিরাপত্তা দিতে পারছি না। আমাদের শিশুরা এখন কোথাও নিরাপদ নয়- নিজ গৃহ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কোথাও না।

সম্প্রতি ঢাকার ওয়ারীতে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা দেশে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। এটা একটা স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, দেশে একটা খুন বা ধর্ষণের ঘটনা ঘটবে এবং আমরা সবাই সেটা নিয়ে খুব প্রতিবাদমুখর হয়ে যাব। এবং কতদিন আমরা এই প্রতিবাদমুখর থাকব তা নির্ভর করছে পরবর্তী খুন বা ধর্ষণের ঘটনা কতদিন পরে ঘটছে। তারপর আমরা আবার সেই পরবর্তী ঘটনার জন্য অপেক্ষা করব।

এখন যে কাউকেই জিজ্ঞেস করলে সে বলতে পারবে, ওয়ারীতে ধর্ষণের পর খুন হওয়া শিশুটির নাম সামিয়া আক্তার সায়মা, সে সিলভারডেল স্কুলে নার্সারিতে পড়ত। কিন্তু কিছুদিন পরে আমরা যখন আবার নতুন কোন খুন বা ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদমুখর থাকব, নিশ্চিতভাবে সে সময় আমরা অনেকেই এই শিশুটির নাম ভুলে যাব। ঠিক যেভাবে আমরা ধর্ষণের শিকার হওয়া পূর্বের শিশুগুলোর নাম ভুলে গেছি। আর এখনতো কোন খুন বা ধর্ষণের ঘটনা ফেসবুকে ভাইরাল না হলে অপরাধীরা গ্রেফতার হবে- তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আমাদের ন্যায়বিচার এখন অনেকটাই নির্ভর করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উপর- এর থেকে বড় প্রহসন আর কি হতে পারে!

শিশু ধর্ষণ শুধু বাংলাদেশে নয়, এশিয়াতে নয়, নির্দিষ্ট কোন ধর্মে নয়, নির্দিষ্ট কোন আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষিতেও নয়, শিশু ধর্ষণ বিশ্বজুড়ে এক মহাসংকট। সব মিলিয়ে শিশু ধর্ষণ বিশ্বে একটি মহামারী আকার ধারণ করেছে। দেখা গেছে ব্যক্তিগত পর্যায়ে- পরিবার, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক এবং প্রতিবেশীদের দ্বারাই শিশু-ধর্ষণ বেশি সংঘটিত হয়। বয়সে বড় এবং অধিকতর শক্তিশালী আরেক শিশু, দায়িত্বপ্রাপ্ত অভিভাবক বা কতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক যেমন স্কুল শিক্ষক, ধর্মগুরু প্রৃভৃতি সম্পর্কের দ্বারাও শিশু ধর্ষিত হতে পারে।

২০১৮ সালে চিলির কর্তৃপক্ষ সেদেশের রোমান ক্যাথলিক গির্জার ৩০ জন সদস্যের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করেছিল। বলা হয়েছিল ২০০০ সাল থেকে এই ধর্মীয় নেতারা হয় যৌন নির্যাতন করেছেন, না হয় অভিযোগ ধামা-চাপা দিয়েছেন। সে সময় ২৬৬ জন, যাদের ৬৭ শতাংশই শিশু, অভিযোগ করেছিল যে, তারা পাদ্রী, বিশপদের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

ধর্ষণ-অপরাধ বিবেচনায় আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের অবস্থান বিশ্বের মধ্যে চতুর্থ। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো অনুযায়ী ২০১২ সালে ভারতে ধর্ষণের অভিযোগ জমা পরেছিল ২৪ হাজার ৯২৩টি। দিল্লিভিত্তিক এশিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটসের এক পরিসংখ্যানমতে ভারতে ধর্ষণের শিকার প্রতি তিনজনের একজন শিশু। সে দেশে ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত শিশু ধর্ষণের হার ৩৩৬ শতাংশ বেড়েছে। এই এক দশকে ৪৮ হাজার ৩৩৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

শিশুদের উপর যৌন নিপীড়ন চালানোর একটা বড় কারণ বিকৃত মানসিকতা, যাকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘পেডোফেলিয়া’। পেডোফেলিয়া বা শিশুকামিতাকে সব সমাজেই একটি বিকৃত যৌনাচার হিসেবে গণ্য করা হয়। যারা শিশুদের যৌন উৎপীড়ণ করে আনন্দ পায় তারা পেডোফাইল বা শিশুকামী। পৃথিবীতে একে সবচে’ হিংস্র এবং জঘন্য ধরনের অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

দুঃখজনক হলেও সত্যি, যারা শিশু ধর্ষণ করছে তারা আমাদেরই কারো না কারো আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব। ওয়ারীতে শিশু হত্যাকারী হারুন-উর-রশিদ একই ভবনে গত এক মাস যাবৎ তার খালাতো ভাইয়ের বাসায় ছিল। ৫ জুলাইয়ের পূর্বে হারুন এধরণের কোন অপরাধ আর করেছিল কি’না, তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে। তবে, ওইদিন যদি হারুন এই অপকর্মটি না করত তাহলে আজকেও সে একই ভবনে থাকত এবং ওই ভবনের সবার সাথে দিব্বি ঘুরে বেড়াতো। কেউ বুঝতেও পারত না যে তাদের মধ্যে একজন পেডোফাইল বসে আছে, এবং সে দেখতে ঠিক মানুষের মতই!

মনে প্রশ্ন আসতে পারে, আমাদের সাথে ঘুরে বেড়ানো আমাদের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবরা হঠাৎ কেন শিশু ধর্ষণের মত জঘন্যতম কাজটি করে? এব্যাপারে আমাদের স্মরণ রাখতে হবে মানুষের অন্তরে সবসময় দুটি সত্তা থাকে। এই দুটি সত্তার মধ্যে দ্বন্দ্ব চলতে থাকে অবিরাম। একটি সত্তা পাপের পথে কিংবা অমানবিকতার পথে মানুষকে প্রলুব্ধ করে। অন্য সত্তাটি প্রতিনিয়ত বলতে থাকে অমন খারাপ কাজ করো না, অমন পাপের পথে পা বাড়িও না। পর্নোগ্রাফী বা মাদকের মত বস্তুগুলো আমাদের মধ্যেকার খারাপ সত্তাটিকে উস্কে দেয়। বর্তমানে এগুলোর সাথে যুক্ত হয়েছে মেড ইন চায়না সেক্স ডল, যা শিশুদের আদলেই তৈরি। ভবিষ্যতে হয়ত আমাদের সন্তানদের জন্য আরও ভয়াবহ কিছু অপেক্ষা করছে।

পারিবারিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ নিলে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মোকাবেলা করা সম্ভব। শিশু ধর্ষণ অপরাধের জন্য আইনের মাধ্যমে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত করার কথা সবাই বলছেন; এটার কোন বিকল্প নেই। অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ থাকলে, বিচার প্রক্রিয়া প্রলম্বিত হলে বা অপরাধের তুলনায় শাস্তির মাত্রা কম থাকলে অপরাধ করার প্রবনতা সব সমাজেই বেশি থাকে। গোটা পৃথিবীর মধ্যে সন্তান এবং শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের বিষয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয়। এই দেশে একজন ধর্ষকের শাস্তি মাত্র ২ বছরের কারাবাস! সম্প্রতি প্রতিবেশী ভারত ১২ বছরের কম বয়সী শিশু ধর্ষণের সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন পাস করেছে। আমাদের দেশেও যেভাবে শিশু ধর্ষণ বাড়ছে, তাতে এ ধরনের আইনের কথা ভাবা যেতে পারে।

কিন্তু কেবল আইন-আদালত-বিচারের বিধান কঠোর হলেই যে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি মিলবে, তা কিন্তু নয়। এ জন্য আমাদের সমাজকে প্রস্তুত করতে হবে। কারন যতদিন মানবজাতি টিকে থাকবে, ততদিন মানুষের মধ্যে এই দ্বৈত সত্তা থাকবে। কিন্তু আমাদের কন্যাশিশুদের ঠিকই লেখাপড়া করতে হবে, বড় হতে হবে, উড়তে শিখতে হবে; পাশাপাশি তাকে আত্মরক্ষার কৌশলও শিখতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে শিশুদের এগুলো সেখাবে কে? কাদের দায়িত্ব? দায়িত্বের কথা আসলে সবার আগে মা-বাবার কথাই চলে আসে। আমাদের মা-বাবা, বিশেষ করে মায়েরা সবসময় এব্যাপারে তাদের সন্তানদের আগলে রাখেন। সন্তানদের যৌন নির্যাতন বিষয়ে সচেতন করা এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সে কিভাবে তা মোকাবেলা করবে তা সব মায়েরাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাদের সন্তানদের শেখান।

তবে যার নিজের একটা কন্যাশিশু রয়েছে, তিনি জানেন একটি ছোট বাচ্চাকে বিষয়টি বোঝানো কতটা কঠিন। ‘যৌন নির্যাতন কাকে বলে’, ‘তাদের নিজের প্রতি তা ঘটছে কিনা’ ‘সেটি সে কিভাবে চিহ্নিত করবে’- এই কথাগুলো নিজের সন্তানকে বোঝানো একজন মায়ের জন্য অনেক বিব্রতকর। একজন মা কিভাবে এমন স্পর্শকাতর একটা বিষয় তার ছোট্ট শিশুকে শেখাবেন? যেটা সন্তানকে জানাতে চান তা জানানোটা কতটা মুশকিল তার জন্য, সেটা শুধু তিনিই বলতে পারবেন। বাবাদের জন্য বিষয়টি আরও বেশি কঠিন।

তারপরেও কাউকে না কাউকেতো কথা বলতেই হবে। আমি যখন নিম্ন-মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক ছিলাম, তখন লক্ষ্য লরেছি কিছু কিছু বিষয় যেটা মা-বাবা তাদের সন্তানদের সহজে বলতে পারছেন না, সেটা শিক্ষকরা পারছে। কিছু বিষয় আছে যা শিশু-কিশোররা তাদের মা-বাবার মুখ থেকে শুনলে যতটা গুরুত্ব দেয়, শিক্ষকদের মুখ থেকে শুনলে তারচে’ বেশি গুরুত্ব দেয়। অনেক অভিভাবক আমাকে অনুরোধ করতেন তাদের সন্তানদের কিছু বিষয়ে মোটিভেট বা উদ্দীপ্ত করতে, যেটা তারা নিজেরাই করতে পারতেন। এমন নয় যে তাদের মোটিভেট করার দক্ষতা আমার চাইতে কম; আসলে তারা চাচ্ছেন বিষয়টা আমি উপস্থাপন করি। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে শিক্ষার্থীরা আমার কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছে, যেসব কথা হয়ত তাদের মা-বাবা পূর্বে তাদের বোঝাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন।

পশ্চিমা অনেক দেশেই শিশুদের যৌন আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার কৌশল বিষয়ে স্কুলে শেখানো হয়। কিন্তু আমাদের দেশের সামাজিক পরিস্থিতিতে স্কুলে শিশুদের সাথে এসব বিষয়ে আলোচনার প্রচলন এখনও তেমন নেই। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায়, শিশুর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা যৌন নির্যাতন এবং তা থেকে আত্মরক্ষার মত স্পর্শকাতর বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে পারেন।

মা-বাবা তাদের সন্তানদের যে কথাগুলো বলতে বিব্রতবোধ করেন, আশা করি শিক্ষকরা সেই কথাগুলো শিক্ষার্থীদের সহজে বলতে পারবেন। চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা গেলে শিক্ষার্থীরাও অধিক মনোযোগী হয়ে কথাগুলো শুনবে এবং সেই অনুযায়ী আচরণ অনুশীলন করবে। শিশুদের কিভাবে কাঙ্খিত আচরণ শেখানো যায় এই ব্যাপারে শিক্ষকদের যত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা আছে তা অন্যদের না থাকাই স্বাভাবিক। আমাদের দেশের শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরাও বর্তমানে স্কুল পর্যায়ে ধর্ষণ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে আত্মরক্ষার কৌশল শেখানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।

আমাদের শিক্ষকরা এমনিতেই অনেক ব্যস্ত থাকেন। এটা এমন কিছু পেশার মধ্যে অন্যতম, যেখানে কর্মস্থল থেকে গৃহে ফেরার পর আবার কাজ শুরু করতে হয়। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ‘ওয়ান সিটিং’-এ যৌন নির্যাতনের মত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর বিষয় উপস্থাপন করা সহজ কথা নয়। কাজটা করতে হবে একটু খেলার ছলে, ছবি এঁকে অথবা গল্প করে ধীরে ধীরে ধারণাটা শিশুদের মাথায় দিতে হবে। বিষয়টি উপস্থাপনের কাজ সঠিকভাবে করার জন্য শিক্ষকদের পূর্বপ্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে, এবং আলোচনার বিষয়বস্তুর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ উপকরণেরও প্রয়োজন রয়েছে।

সবথেকে ভালো হয়, আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজেরাই যদি এই বিষয়টি উপস্থাপনের জন্য একটি মডিউল তৈরি করে দেন। তাহলে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপস্থাপনের ধরণ ও আলোচনার ব্যাপ্তি একই থাকবে। যেহেতু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে দেশের সেরা শিক্ষাবিদ, পেডাগজি বিশেষজ্ঞ, মনস্তত্ববিদ, অপরাধবিজ্ঞানীরা কাজ করেন, সেহেতু মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিলেই কার্যকরী মডিউল তৈরি করা সহজ হবে।

আমারা চাইব না আগামীকাল আর কোন শিশু ধর্ষিত বা খুন হোক। কিন্তু যদি আগামীকাল তা ঘটে তাহলে সেই শিশুটি অবশ্যই আজকে তার স্কুলে গিয়েছে, মা-বাবার সাথে বসে রাতের খাবার খাবে। সে জানেনা আগামীকাল তার সাথে কি ঘটতে যাচ্ছে। কাজেই আমাদের সকলের কন্যাশিশুরাই কিন্তু কালকের জন্য বিপদের মুখে রয়েছে। যে নরপিশাচ আগামীকাল শিশু ধর্ষণের মত জঘন্য কাজ করবে সে আজকে আমাদের মাঝেই রয়েছে। আমাদের কারো না কারো আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব হয়ে আমাদের সাথে মিশছে, একসাথে খাবার খাচ্ছে।

আমাদের সবথেকে বড় শক্তি হল ‘শিক্ষা’। শত বাধা ও প্রতিকূলতার মাঝেও যেদিন আমরা আমাদের কন্যাশিশুদের প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারবো সেদিন আমাদের সন্তানেরাই তাদের আত্মরক্ষার শক্তি অর্জন করবে। আমরা যদি ভয়ে আমাদের কন্যাশিশুদের ঘর থেকে বের হতে না দেই তাহলে তারা সারা জীবন শিকারেই পরিণত হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কন্যাশিশুদের সুরক্ষায় ছেলে শিশুদেরও ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি বিরোধী মূল্যবোধ শেখাতে হবে; যাতে বেড়ে ওঠার সময় থেকেই তাদের মধ্যে এ ধরনের সচেতনতা তৈরি হয়। কেননা, মানুষ আজীবন তার পারিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া শিক্ষা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধই ধারণ করে থাকে।

নজরুল ইসলাম : লেখক ও এমফিল গবেষক, স্কুল অব এডুকেশন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।