Home ব্রেকিং চরম দুর্ভোগে বানভাসি মানুষ

চরম দুর্ভোগে বানভাসি মানুষ

1
0
SHARE

মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান : বানের পানিতে নিমোজ্জিত ২৭টি জেলার বন্যাদুর্গত মানুষ দিশেহারা । তাদের দুর্ভোগ-কষ্টের যেন শেষ নেই। আশ্রয় আর খাবারের অভাবে তারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। গবাদিপশু নিয়ে তারা চরম বিপাকে। গোদের উপর বিষপোড়ার মতো পেটের পীড়াসহ পানিবাহিত নানা রোগ তাদের কাবু করে ফেলছে।

এখনো অনেক নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন করে বন্যা ছড়িয়ে পড়ছে নতুন নতুন এলাকায়। আবার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভাঙ্গন। বন্যার পানি আবাদি ফসল আর ঘর-বাড়ি তলিয়ে গেলেও ভাঙন সবকিছু নছনছ করে দিচ্ছে। কৃষিজমি আর বাপদাদার বসতভিটা নদীর সর্বনাশা ভয়াল ঢেউ আর প্রবল স্রোত কেড়ে নিচ্ছে।

একদিকে বন্যা তাদের ঘরবাড়ি ছাড়া করেছে, অন্যদিকে খাবার সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে; এর উপর নদী ভাঙন মড়ার উপর খাড়ার ঘায়ের মতো অবস্থার সৃষ্টি করেছে। পানিবাহিত রোগ এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় তারা চোখে সরষে ফুল দেখছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে পেটের পীড়া, আমাশয়, ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

বন্যায় এ পর্যন্ত গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, টাঙ্গাইল, জামালপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় অর্ধশত মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। এর মধ্যে গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামেই মারা গেছে ১৭ জন। টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে মারা গেছে ৫ শিশু। বন্যাকবলিত এলাকায় হাজার হাজার মানুষ পানিবাহিত নানা রোগে ভুগছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। শিগগিরই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

বন্যাদুর্গত মানুষ নিদারুণ খাবার সংকটে ভুগছে। এখনো অনেকেই কোনো রকম ত্রাণ পায়নি। আর ত্রাণসামগ্রী ঘুরে-ফিরে একই এলাকায় বিতরণ করা হচ্ছে! ফলে যারা বঞ্চিত, তারা বঞ্চনার কাতারেই থেকে যাচ্ছে। দুর্গম এবং দুরবর্তী এলাকায় কেউ যাচ্ছে না। তাদের খবরও কেউ নিচ্ছে না। সবাই মূল সড়ক ও সদরের আশপাশে তাদের দায়িত্ব সারছেন।

ত্রাণ না পাওয়া মানুষগুলোর হাহাকার কারো চোখে পড়ছে না। খাবারের অভাবে এ মানুষগুলো পেটের জ্বালা নিবারণে অখাদ্য-কুখাদ্য খেয়ে জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। চাপকলগুলো বানের পানি ডুবে যাওয়ায় সুপেয় পানি পাওয়া যাচ্ছে না। নিরুপায় হয়ে তারা বানের পানিই খাচ্ছে। কোথাও ত্রাণের খবর ফেলে তারা বানের পানির স্রোতের মতোই দলবেঁধে ছুটে। কিন্তু হায়, প্রায় নিরাশ হতে হয় তাদের। রাস্তাঘাট ভেঙ্গে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে।

বন্যার ত্রাণসামগ্রী প্রসঙ্গে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘জেলায় সবচেয়ে বেশি বন্যা আক্রান্ত উপজেলা তাহিরপুর। ছয়টি ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আনুমানিক পাঁচ হাজার কাঁচা ঘর-বাড়ি নষ্ট হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাত্র দুই হাজার ৬০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে; যা চাহিদার তুলনায় নগণ্য।’

যতই দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী ত্রাণের সংকট নেই বলছেন, সেব যে কথার কথা; বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ সেসব কথাকে আমলে নিতে নারাজ। আর যার সত্যতা মিলছে তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুলের সাংবাদিকদের দেওয়া বক্তব্যে।এক্ষেত্রে তার বক্তব্যটি প্রণিদানযোগ্য। এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় ত্রাণের নামে বানভাসি মানুষের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা কীভাবে তামাশা করছে।