Home ব্রেকিং শিমুলিয়া কাওড়াকান্দি ফেরী রুটঃ নাব্য সংকট নদীতে হয় না- সংকট হতে পারে...

শিমুলিয়া কাওড়াকান্দি ফেরী রুটঃ নাব্য সংকট নদীতে হয় না- সংকট হতে পারে কৃত্রিম চ্যানেলে

1
0
SHARE

 বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা ডেস্ক :  মেঘনার হঠাৎ ভাঙ্গনে চাঁদপুরে পুরানবাজারের হরিসভা এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধে ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এতে বাঁধসহ বেশকিছু বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। শনিবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভাঙ্গনের এই তাণ্ডব চলেছে ভোর রাত পর্যন্ত। এমন পরিস্থিতিতে প্রাচীন ৭টি মন্দির নিয়ে গঠিত হরিসভাসহ আশপাশের জনপদ মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে। ভাঙ্গন ঠেকাতে জরুরিভাবে বালিভর্তি জিও ব্যাগ এবং সিসিব্লক ফেলতে শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

চাঁদপুর শহরে মেঘনাপাড়ে বাঁধ দিয়ে নদীতীর সংরক্ষণ করার কারণে গত কয়েকবছর ধরে আশপাশের এলাকা বেশ নিরাপদ। মূল ভূখণ্ডে নদীভাঙ্গন অনেকটা বন্ধ ছিল। এতে স্বস্তিতে ছিল নদীপাড়ের পুরানবাজারের বাসিন্দারা। কিন্তু সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এবং একাধিক মন্দির নিয়ে গঠিত হরিসভা এলাকায় শনিবার রাত থেকে ফের নদীভাঙ্গন শুরু হয়। এতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শহর রক্ষা বাঁধের প্রায় তিন শত মিটার এলাকা মেঘনা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এসময় মরণ সাহা, আদি সাহা, দীপক দে, শম্ভু দে’সহ অনেকের বসতবাড়ি, দোকানপাট নদীতে তলিয়ে যায়। এখন প্রচণ্ড হুমকির মুখে ৭টি মন্দির নিয়ে হরিসভা এবং তার আশপাশের এলাকা। আশপাশের অনেকেই নিরাপদে আশ্রয় চলে যেতে শুরু করেছেন।

মজিবুর রহমান, কার্তিক সাহাসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড আগাম কোনো প্রস্তুতি না নেওয়ার কারণে তারা এমন ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে। তারা আরো বলেন, এবারের বর্ষার শুরুতে ভাঙ্গনের এমন আশঙ্কার কথা স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু বিষয় আমলে নেওয়া হয়নি। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও হরিসভার মন্দির কমিটির প্রধান সুভাষ চন্দ্র রায় বলেন, এভাবে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে গোটা হরিসভা এলাকা মেঘনাগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। জরুরিভিত্তিতে ভাঙ্গন রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুতএগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে হঠাৎ ভয়াবহ ভাঙ্গনের সংবাদ পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, চাঁদপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র সিদ্দিকুর রহমান ঢালী, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা তোফাজ্জল হোসেন পাটোয়ারীসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা এবং মন্দিরের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ভাঙ্গন রক্ষায় তাৎক্ষণিকভাবে বালিভর্তি জিও ব্যাগ এবং সিসিব্লক ফেলার কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুরুত্ব দিয়ে ভাঙ্গন রক্ষায় সবধরণের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান। অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ভাঙ্গন রক্ষায় তাদের সবধরণের প্রস্তুতি রয়েছে।

বিগত ২০১০ ও ২০১১ সালে এককোটি টাকা ব্যয়ে চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার এলাকায় মেঘনা নদীপাড়ে তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়।