Home ব্যাংক-বীমা ক্রেডিট কার্ড নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত

ক্রেডিট কার্ড নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত

SHARE

বেসিসের অনুরোধে ক্রেডিট কার্ড ও প্রিপেইড কার্ডে অনলাইন ট্রান্সসেকশন অথরাইজড ফর্ম (ওটিএএফ) পূরণে বাধ্যবাধকতা তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার বেসিস মহাসচিব হাশিম আহম্মদের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ১৪ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে ওটিএএফ ফরম পূরণে বাধ্যতামূলক করা হয়। ফলে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ইস্যু করা ক্রেডিট কার্ড গুগল, ফেসবুকসহ আন্তর্জাতিক পোর্টালে ডিজিটাল কেনাকাটার সুযোগ স্থগিত হয়ে যায়।

এতে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডে ট্রাভেল কোটায় বরাদ্দ ডলার থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং খাতে মূল্য পরিশোধের সুযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে এই প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিল যা দেশে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মতো একটি সম্ভাবনাময় খাতের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

এ নিয়ে বোববার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক হুমায়ুন কবির ও জেনারেল ম্যানেজার খুরশিদ ওয়াহাবের সঙ্গে দুটি পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামালের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে।

এ দিন বৈঠকে ১১টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের হেড অব কার্ডস ও হেড অব রিটেইল ব্যাংকিংসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বেসিসের পক্ষে উভয় সভায় বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীরের নেতৃত্বে সংগঠনটির সহ-সভাপতি শোয়েব আহমেদ মাসুদ ও ডিজিটাল মার্কেটিং স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ওটিএএফ (OTAF) ফরমের বাধ্যবাধকতা কেন ভোক্তাদের নিরুৎসাহিত করবে এবং ব্যাংকগুলো কী কী অসুবিধার সম্মুখীন হবে, এ নিয়ে বিস্তারিত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি মনোযোগী হয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জটিলতা ও নেতিবাচক প্রভাব অনুধাবন করেন। পরে তারা এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

এ বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সার্কুলার জারি করা হয়। এতে ফরম পূরণে বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে দেয়া হয়। ফলে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল তা নিরসন হয়।

এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন যে,‘এ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দকে অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই। একই সঙ্গে সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই বেসিসের সঙ্গে থাকার জন্য।’

পাশাপাশি এ ব্যাপারে সহযোগিতা করার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলককেও আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর ২ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে ফেসবুক এবং গুগলসহ অন্যান্য বিদেশি অনলাইন বিজ্ঞাপনী চ্যানেলে পরিশোধ করা হচ্ছে। এ অর্থের একটা বড় অংশ পরিশোধ করা হয় বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ইস্যুকৃত ট্র্যাডিশনাল ক্রেডিট কার্ড দ্বারা। এ সমস্ত কার্ডে ট্রাভেল কোটায় বছরে ১২ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচের সুবিধা থাকে। বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, ছোট এজেন্সি, ই-কমার্স ও এফ-কমার্স মডেলের অসংখ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা ব্যবহার করেই গুগল এবং ফেসবুকে বিজ্ঞাপনের মূল্য পরিশোধ করে থাকে।