Home সারা বাংলা সড়কে গাছ ফেলে নয়,লকডাউন হোক প্রশাসনের নজরদারিতে প্রকৌশলী নেছার পাটওয়ারী

সড়কে গাছ ফেলে নয়,লকডাউন হোক প্রশাসনের নজরদারিতে প্রকৌশলী নেছার পাটওয়ারী

SHARE

আশির সরকা :  কভিড-১৯’ হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া করোনা ভাইরাস ডিজিজ-২০১৯ এর অফিশিয়াল নাম। পৃথিবীর প্রায় দেশেই ‘নোবেল করোনা ভাইরাস’র প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। করোনা ভাইরাস আক্রমনের বিষয়টি এখন আন্তার্জাতিক ক্রাইসিস হিসেবে পরিগনিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিশ্বের অন্যান্য করোনায় আক্রান্ত দেশ গুলোর ন্যায় আমাদের দেশে ও বাস, ট্রাক, স্কুল, কলেজ বন্ধ, শহর-বন্দর লগডাউন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের আগে বহু দেশ লকডাউন কর্মসূচি পালন করছে এভাবে রাস্তায় গাছ পেলে রাস্তা বন্ধ করে লকডাউন পালন করতে হয়নি তাদের।

এগুলো নতুন সৃষ্ট ‘নোবেল করোনা ভাইরাস’এর মতই পৃথিবীর মনুস্যসৃষ্ট মহা আতঙ্ক বলেই মনে হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইনে কি হতে পারে জানা নেই, তবে দেশের প্যানাল কোড-৫০৫/খ ধারা অনুযায়ী অপরাধের শামিল, অপরদিকে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রন ও নির্মুল আইন ২০১৮ অনুযায়ী ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি (কোয়ারেন্টাইনে) আলাদা ও (আইসোলেশন) চিকিৎসায় অবহেলা করলে তাকে এবং তার পরিবারকে জেল এবং জরিমানা করার বিধান রয়েছে।

আজ কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মহাসড়ক/সড়ক এমন কি গ্রামের মূল রাস্তা টা ও বন্ধ করে দিচ্ছি গাছ পেলে অথবা গ্রামীণ কায়দায়, আমার মনে হয় এটা করে তেমন সুফল আসবে না এবং করাটা ও সঠিক নয়। এভাবে মূল সড়ক গুলোর মাঝে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করলে, জরুরি সেবার বিগ্ন ঘটবে, অবনতি হবে পাড়া-মহল্লার আইনশৃঙ্খলা।

মহাসড়ক/সড়ক/গ্রামের মূল রাস্তা গুলো আমাদের জরুরি সেবার জন্যে খোলা রাখতে হবে। কেউ অসুস্থ হলে জরুরি হাসপাতালে নিতে হবে এই রাস্তা গুলো ব্যাবহার করে,আমার গ্রাম মহল্লার আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখার জন্যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টহল দিবে এই রাস্তা গুলো ব্যাবহার করে, আমাদের মহল্লার ঔষুধের দোকান টায় আমার-আপনার অসুস্থ মা/বাবা/ভাই/বোনের জরুরি অষুধ আসবে এই রাস্তা গুলো দিয়ে, আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার আসবে এই রাস্তা গুলো দিয়ে, সরকারি জরুরি সেবা দেওয়ার জন্যে সেচ্ছাসেবী টিম আসবে এই রাস্তা গুলো দিয়ে, এছাড়াও আরো অনেক জরুরি প্রয়োজন হবে এই বিপদের দিনে।

আরে ভাই করোনা গাড়ি হাকিয়ে আসবে না, যে আপনি আমি আমাদের মূল সড়ক অথবা গ্রামের মূল রাস্তা বন্ধ করলে আর ডুকতে পারবে না, এটা মোটেও করবেন না।যতক্ষণ পর্যন্ত আমি আর আপনি করোনাকে আনতে বাহিরে না যাব, ততক্ষণ পর্যন্ত করোনা আমাদের মাঝে আসবে না কারন করোনার পা নাই।

হ্যাঁ এবার বলবেন মানুষ চলাফেরা বন্ধ করতে হবে, আমি আপনার সাথে ১০০% একমত এক্ষেত্রে আসুন আমরা সকলে, নিজ নিজ বাড়ির রাস্তা গুলো পুরোপুরি লকডাউন করে দেই, যাতে করে আমার বাড়িতে কেউ আসতে না পারে আর আমি ও কারও বাড়িতে যাব না বৈশ্বিক মহামারী করোনা নিয়ন্ত্রণ হওয়া পর্যন্ত। কারও সাথে জরুরি যোগাযোগের প্রয়োজন হলে অনলাইনে অথবা মোবাইল ফোনের সাহায্য নিতে পারেন।

লকডাউন করতে পারেন প্রশাসন কে ফাঁকি দিয়ে ঝোপঝাড়ে অস্থায়ী বসা সিগারেট/পান/চায়ের দোকান গুলো, লকডাউন করতে পারেন খেলার মাঠ, গন-জামায়েত। সচেতন করুন আপনার পাড়া-মহল্লার লোক গুলোরে, মেনে চলুন সরকারের সকল নিদেশনা।

কতৃপক্ষ/স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি প্রত্যেক জেলা/উপজেলা/ইউনিয়নের প্রবেশ দ্বার গুলোয় চেকপোস্ট বসান, কেউ বের হতে চাইলে উপযুক্ত কারন এবং ডকুমেন্ট ছাড়া বের হতে দিবেন না, এবং ডুকতে চাইলেও একই নিয়ম অনুসরণ করুন, প্রয়োজনে ছাড়পত্রের ব্যাবস্তা করুন। কতৃপক্ষ/স্থানীয় প্রশাসন, চেয়ারম্যান/মেম্বার/গ্রামের মাতাব্বরদের সহযোগিতা নিয়ে প্রত্যেক গ্রাম/পাড়া/মহল্লায় রেড এলাট জারি করুন, বেশী বেশী মাইকিং করুন, মনে রাখবেন শহরের তুলনায় গ্রামের মানুষ বেশী অসচেতন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি, প্রত্যেক উপজেলা/পৌরসভা/ইউনিয়ন/ওয়ার্ড/পাড়া/মহল্লায় পর্যায় ক্রমে সেচ্ছাসেবী টিম গঠন করুন, সেচ্ছাসেবীদের পর্যাপ্ত ট্রেনিং এবং দিকনির্দেশনা দিয়ে ওদের নির্দিষ্ট এলাকার দায়িত্ব দিয়েদিন।

জনগনে উদ্দেশ্যে বলব, ঘরে থাকুন, বেশী বেশী সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করুন, নাকে মুখে এবং চোখে হাত দিবেন না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু/রুমাল অথবা পরিষ্কার কাপড় ব্যাবহার করে তা নির্ধারিত জায়গায় নিজে ফেলুন এবং অন্যকে ফেলতে উৎসাহিত করি। আপনি রোগাক্রান্ত হলে মুখে মাস্ক ব্যাবহার করুন। অসুস্থ পশুপাখি এড়িয়ে চলুন, প্রতিদিনের ব্যবহৃত কাপড়, ঘর এবং ব্যবহৃত জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখুন।রান্নার আগে খাবার ভালো ভাবে ধুয়ে নিন এবং রান্নার সময় ভালো ভাবে সেদ্ধ করে নিন। জ্বর,সর্দি,শুকনো কাশি, মাথাব্যাথা, হলে অবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

সবশেষে, আসুন সবাই সরকার ঘোষিত নিয়মগুলো মেনে চলি, নিজে সুস্থ থাকি ও অন্যকেও সংক্রমণের থেকে সুরক্ষায় সহায়তা করি।