Home ব্রেকিং অনিয়ম রোধে সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ চেয়ে আইনী নোটিশ

অনিয়ম রোধে সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ চেয়ে আইনী নোটিশ

SHARE

বৈশ্বিক মহামারিতে পরিণত হওয়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। এমন পরিস্থিতিতে সারাদেশে অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বচ্ছল জনগোষ্ঠীর তালিকা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য খাদ্য ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের বরাবর আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে ডিজিটাল পদ্ধতি ই-মেইলের মাধ্যমে সরকারের এসব মন্ত্রণালয়ের দপ্তরে নোটিশটি পাঠানো হয়।

নোটিশে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর তালিকা প্রস্তুত করে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে তাদের নিকট খাদ্য ও ওষুধসামগ্রী পৌঁছানোর দাবি জানানো হয়েছে।

সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান সংশ্লিস্ট দপ্তরে এ নোটিশটি পাঠান।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালককে নোটিশে বিবাদী করা হয়েছে।

মহাদুর্যোগ করোনাভাইরাস থেকে জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক এবং অনিশ্চয়তা দূর করতে এবং ত্রাণ বিতরণের আগে আত্মসাৎ ঠেকাতে এই নোাটিশ দেয়া হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই নোটিশে আরো বলা হয়, করোনাভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণের প্রেক্ষিতে অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এই মুহূর্তে আতঙ্ক এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। স্বল্প আয়ের মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক থেকে শুরু করে নানা পেশার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার লজ্জায় মুখফুটে সাহায্য চাইতে পারছে না। এ সমস্ত পরিবারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য এবং ওষুধের অভাব কিংবা ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

এ আইনজীবী জানান, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, টিভি মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে এ -সংক্রান্ত নানা খবর প্রকাশ পেয়েছে। এই অবস্থায় সরকারের দায়িত্ব অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর তালিকা প্রস্তুত করে তাদের নিকট খাদ্য ও ওষুধসামগ্রী পৌছে দেয়া।

তিনি বলেন, যদিও দাবি করা হচ্ছে দেশে খাদ্যসংকট নেই, তথাপি যথাযথভাবে এই খাদ্যের সরবরাহ এবং বিতরণ নিশ্চিত করতে না পারলে ভয়াবহ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান আরো বলেন, করোনা মোকাবিলায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হলে এই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অন্তত খাদ্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধের নিশ্চয়তা সরকারকে দিতে হবে। রাষ্ট্রের কাছ দুর্যোগকালে এই সহায়তা পাওয়া তাদের নাগরিক অধিকারের।

অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর তালিকা প্রস্তুতে সেনাবাহিনীর সহায়তা নেয়া যেতে পারে। এছাড়া খাদ্য এবং ওষুধ সরবরাহ কাজের দায়িত্বও সেনাবাহিনীকে দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। ইতঃপূর্বে নানা দুর্যোগে সেনাবাহিনী সাফল্যের সাথে সরকারকে সহায়তা করেছে এবং জনসাধারণের আস্থা অর্জন করেছে।

ইতোমধ্যে ত্রাণকাজে বিভিন্ন অনিয়ম, নির্বাচিত প্রতিনিধি কর্তৃক চাল চুরি ও মজুত এবং সমন্নয়হীনতা লক্ষ্য করা গেছে। এই পর্যায়ে একমাত্র সেনাবাহিনীর মাধ্যমে এই ত্রাণ বিতরণ এবং সরবরাহের কাজ যথাযথভাবে পরিচালনা সম্ভব।

এই আইনজীবী বলেন, জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক এবং অনিশ্চয়তা দূর করতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর তালিকা প্রস্তুত করে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে তাদের নিকট খাদ্য ও ওষুধসামগ্রী পৌঁছানোর দাবি জানিয়ে এই আইনি নোটিশ প্রেরণ করা হয়েছে।