Home জাতীয় এবারের বাজেটে করোনা মোকাবিলায় যা থাকছে!

এবারের বাজেটে করোনা মোকাবিলায় যা থাকছে!


বিশ্ববিদ্যায়ল পরিক্রমা ডেস্ক: মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) স্বাস্থ্য খাতসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতির উপর প্রভাব ফেলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন-জীবিকা নির্বাহের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেটের প্রস্তাব করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। বিশাল এ ঘাটতি বাজেটে করোনা মোকাবিলায় ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা রাখা হয়েছে।

সাধারণ মানুষ যাতে করোনার চিকিৎসা পায়, সেজন্য শহরগুলোর পাশাপাশি জেলা-উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।

দ্বিতীয়ত করোনায় ক্ষতির দিক থেকে শীর্ষে থাকা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে শিক্ষা খাতে। রুজি-রোজগার করতে অক্ষম কিংবা অতি দরিদ্রদের জন্য সামাজিক সুরক্ষাখাতেও বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এগুলোর পাশাপাশি বিদেশ থেকে করোনার চিকিৎসার জন্য আনা সব ধরনের যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেয়া হয়েছে।

এছাড়া দেশের স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে ব্যক্তিশ্রেণীর করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হচ্ছে। সম্পদের ওপর কর বাড়ানো হচ্ছে। দেশের টাকা যাতে বিদেশে পাচার না হয়, এ টাকা যাতে দেশেই বিনিয়োগ হয়, সেজন্য বিশেষ ছাড় দেয়া হয়েছে। পুঁজিবাজার ও আবাসন খাতে যাতে যৌবন ফিরে আসে, সেই লক্ষ্যে কোনো রকম হয়রানি ও প্রশ্ন ছাড়াই অপ্রদর্শিত অর্থ (কালো টাকা) বিনিয়োগের বিশেষ সুযোগ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য কৃষি, শিল্প-কারখানা এবং ই-কমার্সের বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছেন। এর আগেও করোনার ক্ষতি পোষাতে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।

আজ বিকেলে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তার দ্বিতীয় এবং দেশের ৪৯তম বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন।

২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হচ্ছে। এ বাজেটের শিরোনাম রাখা হয়েছে ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথপরিক্রমা’।

বাজেটে রাজস্ব আদায়ের টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। আর এনবিআর বর্হিভুত কর ধরা হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। কর ব্যতীত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া বৈদেশিক অনুদান থেকে প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৩ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায় ও বৈদেশিক অনুদান মিলে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৮২ হাজার ১৬ কোটি টাকা। যা আগের বছরের তুলনায় মাত্র ৩৮ কোটি টাকা বেশি।

৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের মধ্যে পরিচালনা ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৪৩ কোটি টাকা। আর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির প্রস্তবা করা হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা।

অর্থাৎ ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে। যা ঘাটতি জিপিডি অনুসারে শতকরা ৬ শতাংশ। এর আগের বছর এ ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।

ঘাটতি মেটাতে সরকার বিদেশ থেকে ঋণ নেবে ৭৭ হাজার কোটি টাকা। আর অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ঋণ নেবে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণ নেবে ৮৮ হাজার কোটি এবং সঞ্চয়পত্র ও অনান্য খাত থেকে ঋণ নেবে ২৫ হাজার কোটি টাকা।

প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৮ দশমিক ২ শতাংশ: ২০২০-২১ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রস্তবা করা হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি ৫.৪ শতাংশ: আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কম এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমে যাওয়ায় দেশের অর্থনীতিতেও এক ধরনের সুফল পাওয়া যাবে বলে সরকার আশা করছে। সেজন্য নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশে আটকে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

প্রণোদনা: করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে রাখা হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা। এছাড়া শিল্প খাতের জন্য সাড়ে ৩ হাজার কোটি এবং কৃষি খাতের জন্য আড়াই হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা রাখা হয়েছে।