Home রাজনীতি করোনাযুদ্ধে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা

করোনাযুদ্ধে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা


বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে সারা দেশে অসহায় হয়ে পড়েছেন হতদরিদ্র, ছিন্নমূল, দিনমজুর ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে এসব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে রাজনৈতিক দল, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান।

নিজ নির্বাচনি এলাকায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যরা। অসহায় ও কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী, সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছেন প্রত্যেক সংসদ সদস্যই।

ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে আলোড়ন করেছেন কেউ কেউ। সংসদ সদস্যদের এসব কর্মকাণ্ড বিভাগভিত্তিক প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে আমার সংবাদ। করোনাকালীন সময়ে জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে ধারাবাহিক আয়োজনে আজ থাকছে সিলেট বিভাগ।

আমার সংবাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এমন সংসদ সদস্যদের কর্মকাণ্ড সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরার চেষ্টা করা হলো। লিখেছেন— আসাদুজ্জামান আজম, বেলাল হোসেন ও রফিকুল ইসলাম

এ কে আব্দুল মোমেন, সিলেট-১ (সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও সদর উপজেলা) : বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে নিজ নির্বাচনি এলাকার মানুষের পাশে রয়েছেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল কালাম আব্দুল মোমেন। তিনি ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধে মাস্ক-হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিতরণ করেছেন। করোনা আক্রান্তসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসাসেবা। একই সাথে নিজ নির্বাচনি এলাকার অসহায়, দরিদ্র, শ্রমজীবী, নিম্ন এবং মধ্যবিত্ত মানুষের তালিকা তৈরি করে বাড়ি বাড়ি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। জানতে চাইলে তিনি আমার সংবাদকে বলেন, করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই মানুষের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে। একই সাথে প্রতিটি মানুষের শতভাগ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামী দিনেও এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

মোকাব্বির খান, সিলেট-২ (বিশ্বনাথ, ওসমানী নগর, বালাগঞ্জ আংশিক) : বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রথম থেকেই সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করছেন দেশের এমপি-মন্ত্রীরা। এ সময় বাড়ি বাড়ি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেয়া এবং সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা করতে গিয়ে অনেকেই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। নিজ নির্বাচনি এলাকায় কাজ করতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান। তিনি ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার আগে নিজ নির্বাচনি এলাকার অসহায়, দরিদ্র, শ্রমজীবী, নিম্নবিত্ত ও কর্মহীন মানুষের বাড়ি বাড়ি চাল, ডাল, তৈল, আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। একই সাথে স্থানীয় প্রশাসন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা করেছেন বিভিন্ন এলাকায়। জানতে চাইলে তিনি আমার সংবাদকে বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার ছিলো। তা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করেছি। মানুষের বাড়ি বাড়ি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি। আগামীতেও এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ উপজেলা) : বৈশ্বিক মহামারির শুরু থেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অসহায়, দরিদ্র, শ্রমজীবী, দিনমজুর, নিম্ন এবং মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। সরকারের পাশাপাশি নিজ অর্থায়নে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও বিতরণ করেছেন তিনি। জানতে চাইলে তিনি আমার সংবাদকে বলেন, করোনার শুরু থেকেই আমি আমার নিজ নির্বাচনি এলাকায় রয়েছি। মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে খাদ্যমাসগ্রী পৌঁছে দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, করোনার শুরু থেকেই প্রথম সমস্যা ছিলো সংক্রমণ রোধ এবং মানুষের চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা। তা আমরা করতে সক্ষম হয়েছি।

হাফিজ আহমেদ মজুমদার, সিলেট-৫ (কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলা) : করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, গ্লোভস, সাবান বিতরণসহ প্রতিটি মানুষকে সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ ও বিভিন্নভাবে সচেতনতার প্রচার-প্রচারণা করেছেন সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ আহমেদ মজুমদার। একই সাথে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, আগামী ঈদুল আজহা সামনে রেখে ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্বাচনি এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষের মাঝে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু করেছেন। জানতে চাইলে তিনি আমার সংবাদকে বলেন, দেশের যেকোনো দুর্যোগে সাধারণ মানুষের পাশে থাকা আমার দায়িত্ব। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় করোনার শুরু থেকেই মানুষের পাশে ছিলাম এবং আছি। দেশের অবস্থা স্বাভাবিক না হলে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

নুরুল ইসলাম নাহিদ, সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা) : বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ ও শ্রমজীবী মানুষকে রক্ষা করতে বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারপ্রধানের সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজ নির্বাচনি এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ান সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি সাধারণ মানুষের মাঝে ত্রাণসমাগ্রী বিতরণের পাশাপাশি হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, গ্লাভস, সাবান বিতরণসহ জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে লিফলেট বিতরণ ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা করেন। একই সাথে নির্বাচনি এলাকার প্রতিটি স্বাস্থ্যকর্মীর হাতে সুরুক্ষাসামগ্রী তুলে দেন। জানতে চাইলে তিনি আমার সংবাদকে বলেন, করোনার সংক্রমণ রোধে যেসব কার্যক্রম দরকার ছিলো তা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একই সাথে করোনা আক্রান্ত রোগীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং হচ্ছে।

আব্দুল মজিদ খান, হবিগঞ্জ-২ (আজমিরিগঞ্জ ও বানিয়াচং) : বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধ এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করেই করোনায় অসহায়, দরিদ্র, শ্রমজীবী, নিম্নবিত্ত ও কর্মহীন মানুষের বাড়িতে চাল, ডাল, তৈল, আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মজিদ খান। একই সাথে করোনা সংক্রমণ রোধে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, গ্লাভস, সাবান বিতরণসহ প্রতিটি মানুষকে সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ করেন তিনি। জানতে চাইলে তিনি আমার সংবাদকে বলেন, সরকার, দলীয় এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে আমিও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছি। তিনি আরও বলেন, করোনার শুরু থেকেই প্রতিটি মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি কাজ করতো। মানুষ যেন কোনোভাবেই হতাশ না হয়, সে বিষয়েও আমরা কাজ করছি।

আবু জাহির, হবিগঞ্জ-৩ (হবিগঞ্জ সদর ও লাখাই উপজেলা) : গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম আঘাত করে বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস। এমন অবস্থার শুরু থেকেই নিজ নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান করেন হবিগঞ্জ-৩ (হবিগঞ্জ সদর ও লাখাই উপজেলা) আসনের সংসদ সদস্য আবু জাহির। তিনি স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে সমন্বয় করে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, গ্লাভস, সাবান বিতরণসহ জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে লিফলেট বিতরণ ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা করেন। মানুষের বাড়ি বাড়ি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন। জানতে চাইলে তিনি আমার সংবাদকে বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য রাজনীতি করি। দেশের যেকোনো দুর্যোগে পাশে থেকেছি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এভাবে মানুষের সেবা করে যেতে চাই। তিনি আরও বলেন, করোনায় সরকারের যে সব নির্দেশনা ছিলো তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এছাড়া আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১৬ লাখ টাকার খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছি। ঈদকে সামনে রেখে এই কাজের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা, তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলা) : করোনা ভাইরাসের সাথে লড়াই করছেন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তির পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতারাও। স্থানীয় প্রশাসনকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংসদ সদস্যরা। সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন করোনা মহামারির শুরুর দিক থেকেই সাধারণ জনগণের পাশে আছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ করে যাচ্ছেন এ সংসদ সদস্য। তিনি প্রথম দিকে প্রায় ছয় হাজার প্যাকেট খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন। মোয়াজ্জেম হোসেন আমার সংবাদকে জানান, তার নির্বাচনি এলাকার সব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার-নার্সদের পিপিই, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়েছেন। বর্তমানে এ সংসদ সদস্য তার নেতাকর্মীদের মাধ্যমে এখনো এলাকায় অসুস্থ রোগীদের সাহায্য-সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন। তিনি বলেন, এখন তার এলাকায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কম। বর্তমানে এলাকায় জনসচেতনতায় কাজ করা হচ্ছে।

এম এ মান্নান, সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা) : করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় পাশে দাঁড়িয়েছেন সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। করোনার শুরুর দিকে এ সংসদ সদস্য তার নির্বাচনি এলাকার দুই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তারদের পিপিই, মাস্ক, হ্যান্ড গ্লোভস, স্যানিটাইজার, গোগলস্ দিয়েছেন। দুই হাজার পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, আলু, তেল ও সাবান বিতরণ করেছেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়াও নেতাকর্মীদের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার মাস্ক ও সাবান এলাকায় সাধারণ জনগণের মাঝে বিতরণ করেছেন। এ সব কিছুই তিনি নিজস্ব অর্থের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এছাড়াও গেলো রোজার ঈদে সাড়ে ৭০০ অসহায় লোকের মাঝে নগদ এক হাজার ৪০০ টাকা করে দিয়েছেন। প্রথমবার বন্যায় নিজস্ব অর্থ এবং সরকারি ত্রাণ সমন্বয় করে দুর্গত এলাকায় সাহায্য করেছেন। এখনো এটা অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।

পীর ফজলুর রহমান, সুনামগঞ্জ-৪ (বিশ্বম্ভরপুর ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা) : প্রাণঘাতী করোনার শুরুর দিক থেকেই সাহায্য-সহযোগিতা করে আসছেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির নেতা পীর ফজলুর রহমান। তিনি আমার সংবাদকে বলেন, সুনামগঞ্জ সদরে ২৫০ শয্যার হাসপাতালে করোনা শনাক্তে একটা বুথ স্থাপন করেন। ছয় হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন। পীর ফজলুর রহমান আরও বলেন, জাতীয় সংসদের ঐচ্ছিক তহবিলের পাঁচ লাখ টাকা এবং সমাজকল্যাণ ফান্ড থেকে এক লাখ টাকা মোট ছয় লাখ টাকা গরিবদের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছি। এ অর্থ সহায়তা গত রোজার সময় দেয়া হয়েছে বলে জানান এ সাংসদ।

মো. শাহাব উদ্দিন, মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা ও জুড়ি উপজেলা) : করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় জাতীয়পর্যায়ে এবং নিজ নির্বাচনি এলাকায় সমানতালে কাজ করছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী ও মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহাব উদ্দিন। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনি এলাকার মানুষকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণমুক্ত রাখতে প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন। বেশ কয়েক ধাপে প্রায় ১০ হাজারের অধিক অসহায় ও কর্মহীন পরিবারের মাঝে খাদ্যসমাগ্রী বিতরণ করেছেন। বর্তমানে এ সহযোগিতা অব্যাহত আছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে করোনা ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১২২ জন নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীর মাঝে পাঁচ লাখ ৬০ হাজার টাকার বিশেষ অনুদানের চেক বিতরণ করেন। বন্যার সময় এ সংসদ সদস্য নিজের অর্থে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। বড়লেখা ও জুড়ি উপজেলায় সরকারি ত্রাণ সহায়তা সুষম বণ্টনে নিয়েছেন কার্যকর পদক্ষেপ। ব্যক্তিগতভাবে করোনা থেকে রক্ষা পেতে সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ করেছেন। চিকিৎসক ও নার্সদের সুরক্ষায়ও নিয়েছেন নানান পদক্ষেপ। সম্প্রতি পরিবেশ রক্ষায় নিজ মন্ত্রণালয় থেকে সারা দেশে এক কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে কর্মসূচিটি উদ্বোধন করেছেন।

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ উপজেলা) : করোনা শনাক্তের শুরুর দিক থেকেই কাজ করে যাচ্ছেন মৌলভীবাজার-২ আসনের প্রবীণ সংসদ সদস্য ও গণফোরামের নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। তিনি বলেন, তার নির্বাচনি এলাকায় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে গরিব পরিবারের মাঝে সাহায্য-সহযোগিতা করে আসছেন। এছাড়াও দুই উপজেলার নির্বাহী অফিসারের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে কাজ করে যাচ্ছেন। তার উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেন রোগীদের করোনাকালীন সময়ে সুচিকিৎসা নিশ্চিত হয় সে বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন এ সংসদ সদস্য।

মো. আব্দুস শহীদ, মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা) : করোনার দিনগুলোতে এলাকায় গিয়ে সাহায্য-সহযোগিতা করার সময় নিজেই কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের মো. আব্দুস শহীদ। তিনি আমার সংবাদকে বলেন, জুনের ১৭ তারিখ আমি করোনায় আক্রান্ত হই। এর আগে করোনার শুরুর দিক থেকে আমার করোনা আক্রান্তের আগে পর্যন্ত এলাকায় থেকে অসহায়দের নিজের অর্থে সহায়তা করেছি। আব্দুস শহীদ বলেন, সরকারের রিলিফ আলাদাভাবে দেয়া হয়েছে এবং আমার নিজের পরিবার থেকেও অনেকেই সাহায্য করেছেন। তিনি বলেন, করোনা আক্রান্ত রোগীদের বাসা লকডাউনের সময় ওইসব পরিবারের মাঝে ১৫ দিন থেকে ৩০ দিনের খাবার দিয়েও সহায়তা করেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, চেয়ারম্যানদের সাথে সমন্বয় করে করোনাকালীন সময়ে কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া কোথাও করোনা অসুস্থ রোগীর সাহায্য-সহযোগিতা লাগলে তাৎক্ষণিক আমার দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে তার সমাধান করছি বলে জানান এ সংসদ সদস্য