Home ব্রেকিং ডেঙ্গু এখনো আড়ালে

ডেঙ্গু এখনো আড়ালে

SHARE

গত বছরের ভয়াবহ আকার ধারণ করা মহামারি ডেঙ্গু এবার এখনো আড়ালেই রয়েছে। ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হওয়ার মাস মে-জুন ভয়াবহতা ছাড়াই অতিক্রান্ত হলেও ঝুঁকি এখনো শেষ হয়নি। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর হানার বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।

গত বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সারা জাতি যখন যুদ্ধে লিপ্ত, তখন মরণব্যাধি ‘ডেঙ্গু’ নিয়েও দুশ্চিন্তা রয়েছে। তবে ডেঙ্গুর প্রকোপের অন্যতম প্রধান সময় মে-জুন অতিবাহিত হওয়ায় ভাবনা কিছুটা কম। গত বছর সরকারি হিসাবে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল লক্ষাধিক মানুষ এবং মৃতু্যবরণ করেছিল ২৪৮ জন। ১৯৯৬ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হওয়ার পর ২০১৯ সালে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের ও মৃতু্যর সংখ্যা সর্বোচ্চ। ২০১৮ সালের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ। গত বছরে ডেঙ্গু ছড়িয়েছে সারা দেশে। অন্যদিকে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৪১ জন। এই সময়ে ছাড়প্রাপ্ত পাওয়া রোগীর সংখ্যা ৩৩৭ জন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতু্য হওয়ারও কোনো তথ্য নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হলে এডিস মশাকে নিধন করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে গত বছর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতা, দায়িত্বহীনতা ও ব্যর্থতার কারণে ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করেছিল। কিন্তু চলতি বছরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও কার্যকর ওষুধ ছিটিয়ে এডিস মশার ডিম ধ্বংস করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে দাবি আছে। যার ফলে এখনো ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পায়নি।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, চলতি বছরের শুরু থেকেই এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসের অভিযানে নামে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, যা এখনো চলমান। অভিযানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশনের কীটতত্ত্ববিদ ছাড়াও স্বাস্থ্য বিভাগ, বর্জ্যব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা প্রত্যক্ষভাবে কাজ করছেন। অভিযানে যেসব বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা বা এডিস মশার বংশবিস্তারের পরিবেশ পাওয়া যাচ্ছে, তার ছবি, ঠিকানা, মোবাইল নম্বরসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে একটি অ্যাপে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ডাটাবেস অনুযায়ী পরে তাদের মনিটর করা হচ্ছে।

মশা নিধনে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন ডিএনসিসির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম ও ডিএসসিসির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। আতিকুল ইসলাম বলেন, এডিসের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ করতে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। নগরবাসীকে সচেতন করার চেষ্টা চলছে। কার্যকরী পদক্ষেপের কারণে এবার এডিসের প্রজনন হ্রাস ও ডেঙ্গুর ভয়াবহতা থেকে নগরবাসীকে নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে।

একই বিষয়ে ডিএসসিসির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, মশক নিধন কার্যক্রম ঢেলে সাজাতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া বিশেষজ্ঞ ও কাউন্সিলরদের পরামর্শ নিয়ে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চলতি বছর ডেঙ্গুর ভয়াবহতা শুরু না হলেও আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে এর প্রকোপ বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত রয়েছে। এ বিষয়ে আইইডিসিআর’র সাবেক পরিচালক মো. মোশতাক হোসেন বলেন, ডেঙ্গু ভাইরাসের কয়েকটি শ্রেণি রয়েছে। গতবার যে শ্রেণিটা হয়েছে, এবার সেটা নাও হতে পারে। গতবারেরটা হলে আক্রান্তের সংখ্যা কম হবে, আর নতুন শ্রেণির ভাইরাস হলে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি হবে। মূলত প্রতি বছরের মে-জুন, জুলাইয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। আর আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। সে হিসেবে ডেঙ্গু নিয়ে দুশ্চিন্তা এবার নেই তা এখনো বলা যাবে না। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এডিসের প্রজনন স্থান ধ্বংসে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে পরিণতি ভয়াবহ রূপ ধারণ নাও করতে পারে।

করোনার সংক্রামণের আশঙ্কায় অনেকে বাড়িতে রোগ পুষছে এজন্য কি ডেঙ্গু রোগী দৃশ্যমান হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডেঙ্গু এমন একটা রোগ যা লুকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। কারণ ডেঙ্গুতে মানুষ শারীরিক অবস্থা এতটাই ভয়াবহ হয় যে, তাকে চিকিৎসকের কাছে বাধ্য হয়েই যেতে হয়।