Home ব্রেকিং নানান বিশেষজ্ঞ, তাদের নাম দিয়েছি ভুল ধরার পার্টি: ড. হাছান মাহমুদ

নানান বিশেষজ্ঞ, তাদের নাম দিয়েছি ভুল ধরার পার্টি: ড. হাছান মাহমুদ

SHARE

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘করোনা পরিস্থিতি যখন শুরু হলো তখন বহু বিশেজ্ঞ, বাংলাদেশে নানান ধরনের বিশেষজ্ঞ আছে। কিছু সত্যিকার বিশেষজ্ঞ, কিছু বিশেষ কারণে অজ্ঞ বিশেষজ্ঞ, আবার কিছু সব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। এই বিশেষজ্ঞরা শুরুতে বলেছিলেন, বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষ অনাহারে মৃত্যুবরণ করবে। তাদের আকাঙ্ক্ষাকে ভুল প্রমাণিত করে, শেখ হাসিনার সঠিক নেতৃত্বের কারণে কেউ অনাহারে মৃত্যুবরণ করেনি। যেসমস্ত বিশেষজ্ঞ রাত ১২টার পরে টেলিভিশনের পর্দা ফাটিয়ে দেন, আর যে সমস্ত সুশিল নেতৃবৃন্দ শুধু পরামর্শ দেন আর ভুল ধরেন, আমি তাদের নাম দিয়েছি ভুল ধরার পার্টি। তাদের কাজ হচ্ছে শুধু ভুল ধরা। এখন তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এক মুটো চাল নিয়েও কারও কাছে যায়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি করোনা সঠিক মোকাবিলা না করতে পারতেন, মৃত্যুর হার তো ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে বেশি হত।’

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কৃষক লীগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আজ শনিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু ২৩ এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধান কার্যালয়ে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী। আলোচনা সভাটি পরিচালনা করেন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলছুম স্মৃতি। এতে উপস্থিত ছিলেন শেখ জাহাঙ্গীর আলম, আকবর আলী চৌধুরী, মোস্তফা কামাল চৌধুরী, কৃষিবিদ বিশ্বনাথ সরককার বিটু, বেগম হোসনে আরা এমপি,আলহাজ্ব এডভোকেট মোঃ নুরুল আমিন রুহুল এমপি , আবুল হোসেন, ড. কৃষিবিদ নজরুল ইসলাম,  অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসি এমপি, অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম পানু, আজম খান, সাগিরুজ্জামান শাকীক, হিজবুল বাহার রানা, রেজাউল করিম রেজা, লায়ন আহসান হাবীব,আব্দুস সালাম বাবু, হালিম খান প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। তারপর প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সকল আমন্ত্রিত অতিথিকে সাথে নিয়ে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করেন।

বিএনপির প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তারা (বিএনপি) ঘর থেকে বের হয় না। ঘরে বসে জুম মিটিংয়ে টেলিভিশনে উঁকি দেয়। আর যারা ঘরের মধ্যে বসে বসে উঁকি দেয়, সরকারের সমালোচনা করেন, তাদের বলব, ঘরে বসে উঁকি দিয়ে সরকারের সমালোচনা করবেন না। জনগণের পাশে দাঁড়ান।’

বিএনপিকে কৃষক লীগ থেকে শেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা কৃষক লীগ থেকে শিখুন। ধান কাটার সময় কৃষক লীগ ধান কেটেছে। বিএনপিকে দেখা যায়নি। শুধু কেটেছে তা নয়, মাথার ওপর করে বাড়িতে দিয়ে এসেছে। এই কাজটি তো বিএনপি করে নাই। আজকে প্রধানমন্ত্রী একটি দিনও ঘরে বসে নাই। তিনি সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। দলের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তার সঠিক নেতৃত্বের কারণে সরকার আল্লাহর রহমতে করোনাভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। আমরা যদি সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, তাহলে ভবিষ্যতে পুরোপুরিভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। আসুন এক সাথে দেশটাকে গড়ে তুলি। আমরা আপনাদেরও আহ্বান জানাই, একসাথে জনগণের পাশে দাঁড়াই।’

বক্তব্যের শুরুতে ১৫ আগস্টে নিহত সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংসার পেতেছিলেন, কিন্তু সংসার করেননি। তিনি সংসার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন এই পুরো জাতিকে। বাঙালি জাতি ছিল তার সংসার। আর সেই সংসারকে ধরে রেখেছিলেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা । শুধু সংসার ধরে রেখেছিলেন তা নয়, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা বঙ্গবন্ধু যখন জেলে থাকতেন তখন দলটাকে ধরে রেখেছেন। বঙ্গবন্ধুর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ এসেছে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছার কাছ থেকে।

হাছান মাহমুদ আরও বলেন, গত কয়েক দশকে আমাদের অনেক নেতা নেত্রীর (শেখ হাসিনা) কাছ থেকে দূরে সরে গেছেন। এটা বঙ্গবন্ধুর সময় হয়েছিল। তখন বঙ্গমাতা সঠিক পরামর্শ দিয়েছেন। বাংলার ইতিহাস লিখতে গেলে যেমন বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস লেখা হয়ে যায়। তেমনি বঙ্গবন্ধুর জীবন লিখতে হলে, অবদান লিখতে হলে, সাথে সাথে চলে আসে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা।