Home করোনা করোনায় আরো ৩৪ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৯৭৩

করোনায় আরো ৩৪ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৯৭৩

SHARE

বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা ডেস্ক : দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৪১ জনে। এ ছাড়া নতুন করে আরও ১ হাজার ৯৭৩ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৮ জনে।

রোববার (২৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনা সংক্রান্ত নিয়মিত স্বাস্থ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১০ হাজার ৮০১টি। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ১৪ লাখ ৪২ হাজার ৬৫৬টি। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৯৭৩ জনের। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৮ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১৮ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৪২ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৪১ জনে। শনাক্ত বিবেচনায় মোট মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন আরও ৩ হাজার ৫২৪ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা থেকে সুস্থ ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯১ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার এখন পর্যন্ত ৬০ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় নতুন ৩৪ জন মৃত্যুবরণকারীর মধ্যে পুরুষ ২৪ জন ও নারী ১০। এ পর্যন্ত পুরুষ মৃত্যুবরণ করেছেন তিন হাজার ১০৬ জন ও নারী ৮৩৫ জন। এ ছাড়া মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে দুজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ছয়জন ও ষাটোর্ধ্ব ২২ জন রয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে পাঁচজন, রাজশাহী বিভাগে চারজন, বরিশাল বিভাগে একজন, সিলেট বিভাগে চারজন ও রংপুর বিভাগে দুজন। এ ছাড়া হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন ৩১ জন ও বাড়িতে তিনজন।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীন থেকে উৎপত্তি হওয়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারী ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর ১৮ মার্চ প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। দিন দিন করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ায় নড়েচড়ে বসে সরকার। ভাইরাসটি যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। কয়েক দফা বাড়িয়ে এ ছুটি ৩০ মে পর্যন্ত করা হয়। ছুটি শেষে করোনার বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেই ৩১ মে থেকে দেশের সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলে দেয়া হয়। তবে বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

এদিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, রোববার (২২ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮ লাখ ৮ হাজার ৬৯৭ জনের এবং আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৮০ হাজার ৫৬৯ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ কোটি ৫৯ লাখ ৬ হাজার ৪৭৯ জন।

করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে রোববার পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৫৮ লাখ ৪১ হাজার ৪২৮ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ১৭৪ জনের।

যুক্তরাষ্ট্রের পর করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হচ্ছে ব্রাজিল। আক্রান্ত ও মৃত্যু উভয় বিবেচনায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৩৫ লাখ ৮২ হাজার ৬৯৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ২৭৭ জনের।

বিশ্বে আক্রান্ত বিবেচনায় তৃতীয় স্থানে থাকা ভারত মৃত্যু বিবেচনায় উঠে এসেছে চতুর্থ স্থানে। এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ৪৩ হাজার ৪৩৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৫৬ হাজার ৮৪৬ জনের।

মৃত্যু বিবেচনায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী মেক্সিকো, তবে আক্রান্ত বিবেচনায় দেশটির অবস্থান সাত নম্বরে। মেক্সিকোতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৫৬ হাজার ২১৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৬০ হাজার ২৫৪ জনের।

ইউরোপের দেশ যুক্তরাজ্য মৃত্যু বিবেচনায় রয়েছে পঞ্চম স্থানে, তবে আক্রান্তের দিক থেকে দেশটির অবস্থান ১৩তম। এখন পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ২৪ হাজার ৬০১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৪১ হাজার ৪২৩ জনের।

আক্রান্তের দিক থেকে চতুর্থ অবস্থানে আছে রাশিয়া। দেশটিতে আক্রান্ত ৯ লাখ ৫১ হাজার ৮৯৭ জন। আর মৃতের সংখ্যা ১৬ হাজার ৩১০ জনের।

সুস্থতার দিক থেকেও প্রথম অবস্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্র (৩১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০ জন), দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ব্রাজিল (২৬ লাখ ৯ হাজার ৬৩৮ জন) এবং তৃতীয় অবস্থানে আছে ভারত (২২ লাখ ৭৯ হাজার ৯০০ জন)।