Home ক্যাম্পাস খবর অটো প্রমোশন চান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, যা বললেন শিক্ষকরা

অটো প্রমোশন চান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, যা বললেন শিক্ষকরা

SHARE

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ ৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়িয়েছে সরকার। করোনাভাইরাসের সংকটের মুখে দেশের প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষামূলক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা যাতে বাড়িতে বসে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারে, সে লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগে সংসদ বাংলাদেশ টিভিতে গত ২৯ মার্চ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষার্থী ও ৭ এপ্রিল থেকে কারিগরি ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য দূরশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হয়।

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনীর মত এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাও নেবে না সরকার। আটকে যাওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চিরাচরিত নিয়মে না নিয়ে এসব শিক্ষার্থীর অষ্টমের সমাপনী এবং এসএসসির ফলাফলের গড় করে এইচএসসির ফল নির্ধারণ করা হবে বলে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছেন।

এদিকে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি গণমধ্যমকে জানিয়েছেন, চলতি বছর খুলছে না স্কুল, পরবর্তী ক্লাশে উত্তীর্ণ হবার জন্য অ্যাসাইনমেন্টভিত্তিক মূল্যায়ন হবে শিক্ষার্থীদের। এজন্য এক মাসের জন্য একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রণয়ন করে তার ওপর হবে এই মূল্যায়ন।

তিনি বলেছেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ অনলাইনে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট পাঠিয়ে দেবেন, এবং এরপর অনলাইনে কিংবা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্কুলে গিয়েও উত্তর জমা দেয়া যাবে।

শিক্ষামন্ত্রী এও বলছেন, বছর শেষে পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে এই অ্যাসাইনমেন্টের উত্তরপত্রের মূল্যায়ন কোন প্রভাব ফেলবে না। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মাধ্যমিক পর্যায়ে এভাবেই শিক্ষা কার্যক্রম চলবে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে যেহেতু এ সিদ্ধান্ত হয়েছে তাই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও তাদের জন্য এমন সিদ্ধান্তের দাবি জানাচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সহ ক্যাম্পাস ভিত্তিক বিভ্ন্নি গ্রুপে।

তবে শিক্ষকরা বলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অটো প্রমোশন কোনও সমাধান নয় বরং ভবিষ্যতে চাকরির ক্ষেত্রে ফেলবে নেতিবাচক প্রভাব।

বর্তমান করোনা সংকট ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি সর্ম্পকে রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ইব্রাহিম আহসান জাবেদ বলেন, এইচএসসি শিক্ষার্থীদের অটো প্রমোশন দেয়া আর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অটো প্রমোশন দেয়া এক কথা নয়। নির্দিষ্ট বর্ষে এইএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়া দরকার ছিলো কারণ তাদের ইউনিভার্সিটিতে এডমিশনের ব্যাপার থাকে। এক ব্যাচের পর আরেক ব্যাচ অপেক্ষমান থাকে।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য তাদেরকে পরীক্ষা দিয়ে টিকতে হবে। সুতরাং একেবারেই ফ্রি তা নয়। আর বিশ্ববিদ্যালয় হলো সংশ্লিষ্ট বিষয় বা ফিল্ডে জ্ঞান অন্বেষণের জায়গা। এখানে পাশ বা ফেল যে নির্দিষ্ট ইয়ারে করতে হবে এমন নয়।

একাধিক ব্যাচ বা সেশন দীর্ঘায়িত হওয়ার বিষয় কিন্তু ইউনিভার্সিটিতে অতীতে ও ছিলো সুতরাং এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। ব্যাচেলর ডিগ্রি তার পরবর্তী জীবনের সার্ভিস লাইফে এবং বিশেষায়িত জ্ঞান ব্যবহারের বিশাল একটি কর্মযজ্ঞ।

প্রত্যেক ইয়ারের সিলেবাস আলাদা সাবজেক্ট অনুযায়ী কোর্সের সংখ্যা আলাদা। এছাড়াও একেক ইয়ারে বা সেমিস্টারে একেক জনের একেক রকম রেজাল্ট হয়। সবকিছু মিলিয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রির ক্ষেত্রে অটো পাশের কোনও সুযোগ নেই।

এ সর্ম্পকে ঢাকা কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অটোপ্রমোশনের আসলে কোনও সুযোগ নেই। স্কুল কলেজে যেটা সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয়ে সেটা সম্ভব নয়। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় একটি সামগ্রিক জ্ঞাণ বিস্তারের ক্ষেত্র।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করেই চাকরির জন্য সবাই নিজেকে উপস্থাপন করে। সেক্ষেত্রে পরীক্ষা মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করা একটি বড় বিষয়। আর যারা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অটোপ্রমোশন চায় তারা আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন থেকে শেখার কিছু জানতে চায় না। তবে করোনার পর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর যদি দ্রুত পরীক্ষা এবং ফলাফল দেয়া যায় তাহলে আশা করি কোনও সেশনজট হবে না।

শিক্ষার্থীদের সর্ম্পকে তিতুমীর কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোস্তফা জামাল চৌধুরি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য আসলে অটো প্রমোশন বলতে কোনও কিছু নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা মানে নিজের জাত চেনা। এখানে শিক্ষক ক্লাস শুধু তোমাকে রাস্তায় দেখিয়ে দেবে।

যেহেতু করোনার মধ্যে সব কিছুই বন্ধ সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলে এখানে কোনও হাত নেই। শুধু যে সাত কলেজেই এমন সমস্যা তা নয় পুরো শিক্ষাব্যবস্থাতেই এমন প্রভাব ফেলেছে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের উচিত বাড়িতে থেকেই সিলেবাস অনুযায়ী কোর্স শেষ করা।

অধিভুক্ত সাত কলেজের প্রধান সমন্বয়ক কবি নজরুল কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম উল্লাহ খোন্দকার গণমাধ্যমকে বলেন, সাত কলেজের অধ্যক্ষদের নিয়ে আমরা দফায় দফায় মিটিং এ বসার চেষ্টা করছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের যে দিক র্নিদশেনা দেবেন আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবো। শিক্ষার্থীদের বলছি তোমরা অনলাইনে ক্লাস চালিয়ে যাও। পরবর্তী কোন সিদ্ধান্ত আসা অবধি অপেক্ষা করো।

উল্লেখ্য, শিক্ষামন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অটোপ্রমোশন সম্ভব নয়।