Home রাজনীতি ‘বাবার স্বপ্নই আমার অনুপ্রেরণা

‘বাবার স্বপ্নই আমার অনুপ্রেরণা

SHARE

আধুনিক শরীয়তপুরের রূপকার, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত স্নেহধন্য, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম শীর্ষ সংগঠক, জাতীয় বীর, সাবেক সফল পানিসম্পদ মন্ত্রী প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাকের সুযোগ্য সন্তান নাহিম রাজ্জাক।  ২০১১ সালের ২৩ ডিসেম্বর সবার প্রিয়মুখ আব্দুর রাজ্জাক মারা গেলে শরীয়তপুর-৩ আসনের নেতৃত্বে আসেন তরুণ এই উদীয়মান নেতা।

নির্বাচনি মাঠে তারুণ্যকে ব্যবহার করে শরীয়তপুরের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। আগামীর শরীয়তপুর কেমন হবে— তার পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন আমার সংবাদের সাথে। তিন পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব। তরুণ উদীয়মান এই জনপ্রতিনিধির সাথে কথা বলেছেন —রাজিবুল ইসলাম

উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় স্বনির্ভর শরীয়তপুরের অঙ্গীকার নিয়ে ১৯৯৬ সালে জনগণের রায় নিয়ে ক্ষমতা গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে উন্নয়নের যে যাত্রা শুরু হয়, সেই অগ্রযাত্রাকে অবারো সঞ্চালন করার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে জাতির জনকের রক্তের উত্তরাধিকারী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু হয়। এমন একটি পরিস্থিতিতে ২০১১ সালের ২৩ ডিসেম্বর সকলের প্রিয় মুখ জাতীয় নেতা আব্দুর রাজ্জাক চিরবিদায় নেন। তার অনুপস্থিতিতে ওই কর্মযজ্ঞে বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হয়।

এমতাবস্থায় ২০১২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা নাহিম রাজ্জাককে শরীয়তপুর-৩ নির্বাচনি এলাকার উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন দেন। মানুষের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের সমর্থন নিয়ে পুনরায় ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৯ বছর পার করে ১০ বছরে পদার্পণে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি আত্মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে আবারো দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সংসদ সদস্য হিসেবে জয়লাভ করেন নাহিম রাজ্জাক। তার নির্বাচনি এলাকা ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা ও গোসাইরহাট উপজেলা নিয়ে। আজ প্রথম পর্বে থাকছে গোসাইরহাট উপজেলা নিয়ে। ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গোসাইরহাট উপজেলা গঠিত।

ইউনিয়নগুলো হলো— গোসাইরহাট পৌরসভা ইদিলপুর, কোদালপুর, আলাওলপুর, সামন্তসার, নাগেরপাড়া, নলমুড়ি, গোসাইরহাট ও কুচাইপট্টি। প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে গোসাইরহাট উপজেলার প্রশাসনিক ভবন ও ১০০ আসন বিশিষ্ট অডিটোরিয়ামের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রায় আটা কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে গোসাইরহাট অডিটোরিয়াম নির্মাণ সম্পন্ন। পল্লী সড়ক ও কালভার্ট মেরামত কর্মসূচি শেষ হয়েছে। ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৩.১৬ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ ও মেরামত করা হয়েছে। বৃহত্তর ফরিদপুর অবকাঠামো উনয়ন প্রকল্প প্রথম খণ্ড শেষ হয়েছে।

৭৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৮.৮৮ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ ও মেরামত করা  হয়েছে। ৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৮৬.৫৫ মি.   ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। বৃহত্তর ফরিদপুর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প দ্বিতীয় খণ্ড শেষ। প্রায় ১৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৭.০৩ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ। ১৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৫৫.৫০ মি. ব্রিজ/কালভার্ট  নির্মাণ।

রাজবাড়ী-মাদারীপুর ও শরীয়তপুর উন্নয়ন পকল্প : পাঁচ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯.৪২ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ ও মেরামত। এক কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০.৫ মি. ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ।

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প : আট কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৭.৫০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ ও মেরামত। ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭৫.০০ মি. ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ।

অংশগ্রহণমূলক ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প : এক কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২.৫১ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ। ২৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৬২.৩৬ মি. ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ। কুচাইপট্টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ। আলাউলপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ।

গোসাইরহাট পৌরসভা : ২০১১ সালে নবগঠিত গোসাইরহাট পৌরসভার কাযর্ক্রম শুরু হয়। তারপর ৯ কোটি ৮৩ লাখ  টাকা ব্যয়ে ১১৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পর ৫০ লাখ টাকার প্রকল্পও বাস্তবায়ন। ব্যবসাবান্ধব ও আধুনিক গরুর হাট উন্নয়ন প্রকল্প শেষ। গোসাইরহাট পৌরসভায় বিনোদনের লক্ষ্যে পার্ক নির্মাণ। আধুনিক বাস ও টেম্পু স্ট্যান্ড নির্মাণ। আধুনিক পৌরসভা ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন। শরীয়তপুর-গোসাইরহাট-মুলাদী-বরিশাল সংযোগ সড়কসহ ‘আব্দুর রাজ্জাক ফেরিঘাট’ স্থাপন ও পনুঃনির্মাণ।

মোস্তফাপুর-মাদারীপুর-শরীয়তপুর (মনোহরবাজার) ইব্রাহিমপুর-হরিনা-চাঁদপুর সড়ক বিগত ৯ বছরে ৪৫ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে মেরামত করা হয়েছে। মোস্তফাপুর-মাদারীপুর-শরীয়তপুর (মনোহরবাজার) ইব্রাহিমপুর-হরিনা-চাঁদপুর সড়ক বর্তমানে ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে মেরামত কাজও শেষ।

৮৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় মোস্তফাপুর-মাদারীপুর-শরীয়তপুর (মনোহরবাজার) ইব্রাহিমপুর-হরিনা-চাঁদপুর (ভাটিয়ালপুর) সড়ক (আর-৮৬০) উন্নয়ন (শরীয়তপুর অংশ)  ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কাজও শেষ। ডামুড্যা ও গোসাইরহাট উপজেলায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি ফ্লাড সেন্টার নির্মাণ। উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডসহ ভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ৬৫৯ বান্ডিল টিন বিতরণ।

শারীরিক ও মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গোসাইরহাট উপজেলায় প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ‘শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম’ নির্মাণকাজ প্রক্রিয়াধীন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুরুষ/মহিলার সংখ্যা ৩২০ জন।

পরিবার কল্যাণ ও স্বাস্থ্য বিভাগ : গোসাইরহাট উপজেলা অ্যাম্বুলেন্স প্রদান। উপজেলা হাসপাতালকে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ।

বিদ্যুৎ বিভাগ : সর্বমোট১০১১ কিলোমিটার সংযোগ লাইন নির্মাণ করা সম্পন্ন। ২০৬৬ কিলোমিটার নতুন বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ। উপজেলায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণকাজ সমাপ্ত।

জনগণের নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন জনস্বার্থে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন : দুই কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে  গোসাইরহাট উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস  স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে।  সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে নিয়ে  প্রয়াত  জাতীয় নেতা আব্দুর রাজ্জাক ফায়ার সার্ভিস স্টেশন দুটি উদ্বোধন করেন।

ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ। বুড়িরহাট পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন। গোসাইরহাট উপজেলার নলমুুড়ি ইউনিয়নে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র নির্মাণ। গোসাইরহাট উপজেলার সীমানায় ধানকাটি ইউনিয়নে একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র প্রস্তাবিত। গোসাইরহাট থানায় তিনটি পুলিশ ভ্যান/জিপ প্রদান।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক কার্যক্রম : বেকার যুবক-যুবতীদের আত্মকমর্সংস্থানের জন্য বিভিন্ন অধিদপ্তর ও বিসিকের মাধ্যমে প্রশিশক্ষণ এবং ঋণের ব্যবস্থা। প্রতিটি ইউনিয়নে বয়স্ক, বিধাব, স্বামী পরিত্যক্তা ও দুস্থ মহিলাদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা। ঐচ্ছিক তহবিল থেকে ৪৫টি সেলাই মেশিন প্রদান।

মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ : গোসাইরহাট উপজেলায় তিন কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ।

পানি সম্পদ : প্রায় তিন কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে গোসাইরহাট উপজেলায় ২০টি খাল খনন ও বাঁধ সংরক্ষণ। সুরেশ্বর খাল পুনঃখনন ও নিষ্কাশন প্রকল্পের আওতায় ৭৭.৪৪ কিলোমিটার খাল খনন।

মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন : তিন কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে গোসাইরহাট উপজেলার বিনটিয়ায় শরীয়তপুরের একমাত্র মৎস্য হ্যাচারি নির্মাণ। প্রতি বছর প্রায় এক হাজার ৫০০ মৎস্যজীবীকে চার মাসের জন্য ভিজিএফ কার্ড প্রদান।

ধর্ম বিষয়ক কার্যক্রম : উপজেলায় ইসলামিক সেন্টার কাজ প্রক্রিয়াধীন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক মসজিদ ভিত্তিক শিশু গণশিক্ষা খাতে ইমামদের প্রতি মাসে চার হাজার টাকা করে সম্মানী প্রদান।