Home লাইফস্টাইল বঙ্গবন্ধুর জন্য আমরা গর্বিত, অর্থনীতি শক্তিশালী করতে বীমার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ -শেখ কবির...

বঙ্গবন্ধুর জন্য আমরা গর্বিত, অর্থনীতি শক্তিশালী করতে বীমার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ -শেখ কবির হোসেন, প্রেসিডেন্ট, বিআইএ

SHARE

বঙ্গবন্ধু একজন বীমা ব্যক্তিত্ব। আমি সবসময় বলি, আমরা অবহেলিত হতে পারি, কিন্তু আমরা গর্বিত। বঙ্গবন্ধু-জাতির পিতা আমাদের ইন্স্যুরেন্স সেক্টরের লোকÑএ নিয়ে আমরা সবসময় গর্ববোধ করি।’ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এমন উচ্ছ্বসিত কথাগুলো বলছিলেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন। তাছাড়া দেশ গড়ার জন্য এ সেক্টরের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য বলেও মনে করেন তিনি। পয়লা মার্চ ‘জাতীয় বীমা দিবস’ উপলক্ষে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শেখ কবির হোসেন বলেন, ১৯৯৬ প্রধানমন্ত্রী যখন ক্ষমতায় এলেন, তখন আমরা বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করি। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বলি, এটি একটি অবহেলিত খাত। তখনকার সময়ে ইন্স্যুরেন্স সত্যিকার অর্থেই অবহেলিত ছিল। বীমাগ্রাহকরা খাত নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করতেন না, যারা বীমা কোম্পানির মালিক ছিল তারাও এ সেক্টরকে ততোটা গুরুত্ব দিতো নাÑএমনকি কোনো সরকারই মনে করেনি ইন্স্যুরেন্স সেক্টর একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর। দেশ গড়ার জন্য এ সেক্টরের প্রয়োজন, মানুষের জীবন রক্ষার জন্য এর প্রয়োজন। মানুষের সুরক্ষার জন্য এর দরকার। দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করার জন্য এর দরকার। এটা অন্য কেউ না বুঝলেও বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি উপলব্ধি করেছেন। তাই এ সেক্টরের উন্নয়নে ২০১০ সালে বীমা আইন প্রণয়ন করলেন। আইন করার পর আইডিআরএ গঠন করলেন। ইন্স্যুরেন্স সেক্টর ও আইডিআরএ’র মাঝে একটি কমিশন গঠন করে কার্যক্রম চালানো শুরু করলেন। সেই আইন অনুসারে আইডিআরএ কাজ শুরু করলেও সত্যিকার অর্থে ইন্স্যুরেন্স সেক্টর সে রকম উন্নতি করতে পারেনি।

এরপর প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আমরা একটি সেমিনার করি, সেখানেও আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলি, “আমরা অবহেলিত কিন্তু গর্বিত, কেননা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ইন্স্যুরেন্স ব্যক্তিত্ব ছিলেন”। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বললেন, “বঙ্গবন্ধু শুধু ইন্স্যুরেন্স ব্যক্তিত্বই নন, তিনি ইন্স্যুরেন্সে চাকরি করতেন। তৎকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধু আলফা ইন্স্যুরেন্সে চাকরি করতেন এবং আমিও সেই অফিসে গিয়েছিলাম। তখন সেটা ছিল জিন্নাহ অ্যাভিনিউয়ের (বর্তমান বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ) তৃতীয় তলায় তিনি বসতেন। তার সাথে গাজী গোলাম মোস্তফাসহ আরো কয়েকজন সেখানে বসতেন।” তিনি যে চাকরি করার জন্য ইন্স্যুরেন্স সেক্টরে যুক্ত হয়েছিলেন তা কিন্তু নয়, উনার উদ্দেশ্য ছিল রাজনীতি। এ ইন্স্যুরেন্সে বসেই কিন্তু তিনি সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তানের জনগণের কাছে পৌঁছে যেতেন। উনার এ রাজনীতি বাংলার স্বাধীনতা দেয়ার জন্য। উনি যে রাজনীতি করতেন আওয়ামী লীগের মাধ্যমে তা কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় মানুষের কাছে পৌঁছে যেতো।

বিআইএ প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, তখনকার দিনে রাজনীতি করা খুবই কঠিন ছিল এবং বঙ্গবন্ধু তার জীবনের অর্ধেকের বেশি সময় জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। তার সে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মালিকও ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানি। তাদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তিনি সেখানে বসেই ইন্স্যুরেন্স সেক্টরকে সম্মুখে এনে রাজনীতি করতেন।

রাজনৈতিক বিভিন্ন বার্তা দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে পৌঁছে দিতে বঙ্গবন্ধু বীমাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। এমনই অভিমত জানিয়ে বিআইএ প্রেসিডেন্ট বলেন, এটা স্পষ্ট যে আলফা ইন্স্যুরেন্সে বঙ্গবন্ধুর যে চাকরি ছিল, তা ছিল দেশের মানুষের পক্ষে রাজনীতি করার জন্য। আর এর মাধ্যমেই তিনি সাধারণ মানুষের সাথে মিশতেন ও সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তানের সকল বাঙালির কাছে তার বার্তা পৌঁছে দিতেন। এটিই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ইন্স্যুরেন্সের বড় ভূমিকা ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, জাতির পিতা যে প্ল্যাটফর্মে থেকে দেশ স্বাধীন করা ও বাঙালিদের কাছে টেনে নেয়ার যে সুযোগ হয়েছিল তা ছিল এই ইন্স্যুরেন্স সেক্টর। সেজন্য বলা যায়, দেশকে স্বাধীন করার জন্য ইন্স্যুরেন্স সেক্টরের বড় ভূমিকা বা অবদান রয়েছে। বঙ্গবন্ধু আলফা ইন্স্যুরেন্সে কোনো দায়িত্বে ছিলেনÑএমনটা জানতে চাইলে শেখ কবির হোসেন বলেন, তিনি ডেভেলপমেন্ট (উন্নয়ন তথা ব্যবসা সংগ্রহ) সেক্টরে ছিলেন। তিনি যে রুমে বসতেন, সেখানে তার পদবি ‘উপদেষ্টা’ লেখা ছিল।

বঙ্গবন্ধু ১৯৬০ সালের ১লা মার্চ ইন্স্যুরেন্সে যোগদান করেন। স্বাধীনতার এতো বছর পর কিভাবে এটি আপনারা জানতে পারলেনÑএমন প্রশ্নে বলেন, জাতির পিতা যে ইন্স্যুরেন্সে ছিলেন সেটা আমার জানা আছে। কিন্তু অনেকদিন থেকেই জানার চেষ্টা করেছিলাম যে, কবে তিনি ইন্স্যুরেন্সে যুক্ত হয়েছেন। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের যিনি কিউরেটর এনআই খান (নজরুল ইসলাম খান) এ তথ্য উদ্ধারে বেশি ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি এসবি রিপোর্ট, ডিবি রিপোর্ট সংগ্রহ করে সেখান থেকে এটি বের করেন। এটি বের করা খুবই কঠিন কাজ ছিল। এরপর আমরা দিনটিকে ‘জাতীয় বীমা দিবস’ হিসেবে ঘোষণার জন্য একটি রেজুলেশন নিলাম এবং ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের বোর্ড মিটিংয়ে সেটা পাস করলাম। ওই রেজুলেশন আমি বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টে স্থানান্তরিত করলাম। আপনারা জানেন, ওই ট্রাস্টের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ট্রাস্টের মিটিংয়ের এক পর্যায়ে আমি একটি এজেন্ডায় বললাম যে, আমরা জাতীয় বীমা দিবস করার একটি কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। সভাপতি মহোদয়কে একটি পত্র দিলাম। তাকে বললাম, আমরা এটি করতে চাই। এ জন্য আপনার অনুমতি প্রয়োজন। আপনারা জানেন যে, ট্রাস্টের অধীনে কিছু করতে গেলে সেখানে ট্রাস্টের অনুমোদন লাগে। তখন তিনি ট্রাস্টের সকলকে জিজ্ঞাসা করে বললেন, এটি একটি মহতী উদ্যোগ, আমরা কি এটি অনুমোদন দিতে পারি। তখন সকলে সম্মতি জানালে ট্রাস্টের সভাপতি, তথা প্রধানমন্ত্রী তার অনুমোদন দিলেন।

এরপর এই অনুমোদন নিয়ে আমরা অ্যাসোসিয়েশনে মিটিং করে তা পাঠিয়ে দিলাম আইডিআরএ ও মন্ত্রণালয়ের কাছে। তারপর আনুষ্ঠানিকতা পালন শেষে মন্ত্রিপরিষদ থেকে দিনটিকে ‘জাতীয় বীমা দিবস’ হিসেবে পালনের জন্য গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। যেহেতু বঙ্গবন্ধু পয়লা মার্চ বীমা কোম্পানিতে যোগদান করেছেন, সেই হিসেবে পয়লা মার্চকে জাতীয় বীমা দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু বীমা পেশায় ছিলেন, এটা বীমা খাতের জন্য কতটুক প্রেরণারÑএমন প্রশ্নে বিআইএ প্রেসিডেন্ট বলেন, জাতির জনক যেহেতু বীমা সেক্টরের লোক, তথা বীমা ব্যক্তিত্ব ছিলেন, তিনি কবে এ সেক্টরে যোগদান করেছেন তা আমার খুঁজে বের করা উচিত বলে মনে করলাম। যদি আমরা দিনটি বের করতে পারি, তাহলে সরকার একে জাতীয় দিবস হিসেবে গ্রহণ করবেন। যদিও তা করতে দেরি হয়েছে, তবু আমরা দিনটি খুঁজে পেয়েছি। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীকে আমরা যখন বলেছিলাম, জাতির পিতা বীমা ব্যক্তিত্ব সে হিসেবে প্রধানমন্ত্রীও আমাদের এ পরিবারের একজন। তখন প্রধানমন্ত্রী আমাদের এ কথার সাথে একমত পোষণ করে বলেছেন, ‘আমার বাবা যেহেতু এ পরিবারের একজন, আমি তার কন্যা। আমিও গর্বিত যে, আমি এ পরিবারের একজন।’

প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য আমাদের আরো বেশি আশা ও উৎসাহ জুগিয়েছে। ফলে আমরা আরো অধিক মনোবল নিয়ে এ সেক্টরে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি, দেশ গড়ার ক্ষেত্রে দিবসটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। আমি মনে করি, এ দিবসটি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে, জিডিপি বৃদ্ধি পাবে ও দেশের সার্বিক গতিশীলতা ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

শেখ কবির হোসেন বলেন, দেশ গড়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর যে অবদান, তার জন্য শুধু ধন্যবাদ নয়, তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আপনারা খেয়াল করলে দেখবেন যে, দেশে ইন্স্যুরেন্স যত বেশি উন্নত, সে দেশের অর্থনীতি তত বেশি শক্তিশালী। এর মাধ্যমে দেশের মানুষকে, তথা জনগণকে নিরাপত্তা দেয়া যায়। জনগণের অর্থকে সরকার নিরাপত্তা দেয়। উন্নত দেশে দেখা যায়, ইন্স্যুরেন্স Insurance guaranty is more stronger than any other guaranty. আমাদের দেশে এটি অবহেলিত ছিল। আগামীতে মানুষ এ গ্যারান্টিটাই নিবে ইন্স্যুরেন্স থেকে, যেটি এখন ব্যাংক থেকে নিচ্ছে। এছাড়াও বর্তমানে ইন্স্যুরেন্স সেক্টর অনেক উন্নতি করেছে। এখন এটা শৃঙ্খলার মধ্যে আছে। আইডিআরএ’র শক্তিশালী ভূমিকা এবং ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সহায়তায় বীমা খাত সুশৃঙ্খলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।