Home ব্রেকিং ‘আমার বাবা-মাকে সৎ দেখতে চাই’

‘আমার বাবা-মাকে সৎ দেখতে চাই’

SHARE

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর কর্তৃপক্ষ শিশু ও কিশোর শিক্ষার্থীদের নিয়ে ব্যতিক্রমী শুদ্ধাচার কর্মসূচীর আয়োজন করেছে, যার উল্লেখযোগ্য ছিলো “বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও নৈতিকতাঃ একসূত্রে গাঁথা” শীর্ষক বিজ্ঞান বক্তৃতা, রচনা প্রতিযোগিতা, শুদ্ধাচার শপথ এবং সততা স্টোর চালুকরণ। গতকাল সোমবার বিজ্ঞান জাদুঘরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও টুইংকেল কিডস গ্রামার স্কুলের শতাধিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ধারাবাহিক বিজ্ঞান বক্তৃতা, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং শুদ্ধাচার বিষয়ক শপথ অনুষ্ঠান ও রচনা প্রতিযোগিতায় মুখর হয়ে উঠে বিজ্ঞান জাদুঘর ভবন ও প্রাঙ্গণ। বিজ্ঞান জাদুঘরের ইতিহাসে এ প্রথমবার “সততা স্টোর” নামক বিক্রেতা বিহীন একটি স্টোরের উদ্বোধন করা হয়। নানা শিক্ষা উপকরণের পসরা সাজিয়ে সুসজ্জিত ভাবে নির্মিত হয় সততা স্টোর। এ স্টোরে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাসামগ্রী বিক্রয় করা হবে। শিক্ষার্থীরা মূল্য তালিকা দেখে কাক্সিক্ষত সামগ্রী কিনে এর মূল্য নির্দিষ্ট ক্যাশবক্সে রাখবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের অবসর প্রাপ্ত অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী এ সততা স্টোরের উদ্বোধন করেন। এতে প্রায় শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এ প্রসঙ্গে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, “শিশু বয়স থেকেই শিশু কিশোররা যেন সততার চর্চা করে এবং মিথ্যা, চুরি বা অন্যায় কাজ বর্জন করে, সে লক্ষ্যে তাদের অনুপ্রাণিত করার জন্য বিজ্ঞান জাদুঘরে এ সততা স্টোরের অভিযাত্রা। আগামীতে তারা বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, প্রশাসক যেই হোকনা কেন, সততা না থাকলে সব অর্জন ধ্বংস হয়ে যাবে।” এর আগে বিজ্ঞান জাদুঘরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে খোলা আকাশের নিচে শতাধিক শিক্ষার্থী মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরীর নেতৃত্বে হাত তুলে দৃঢ়বাক্যে শপথ নেয়, “আমরা অন্যায় করবো না, মিথ্যা বলবো না, অসৎ কাজ করবো না, মোবাইলে আসক্ত হবো না, নিয়মিত পড়াশোনা করবো, বাবা -মা ও শিক্ষককে শ্রদ্ধা করবো, রাস্তাঘাটে ময়লা -আবর্জনা , প্লাস্টিক পলিথিন ফেলবো না, মিতব্যয়ী হবো, অপচয় করবো না, হিংসা করবো না, দরিদ্রদের প্রতি সদয় হবো।” শপথ গ্রহণের পর শিক্ষার্থীদের নিয়ে “আমার বাবা-মা কে সৎ দেখতে চাই” শীর্ষক এক রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ প্রসঙ্গে মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, “পিতা-মাতার সততা সন্তানদের জন্য যেন অনুকরণীয় হয়। সন্তানরা যেন পিতামাতাকে অসৎ উপার্জনে প্ররোচিত না করে এবং পিতামাতার সৎ ও পরিমিত আয়ে সন্তুষ্ট থাকে, সে লক্ষ্যে তাদের অনুপ্রাণিত করাই এ প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য। বিজ্ঞান জাদুঘরের উদ্যোগে বিরল ও ব্যতিক্রমী এ অনুষ্ঠান শিশু কিশোর, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে নৈতিকতাবোধ জাগরণে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।”

SHARE