Home খেলাধূলা বিপিএলের অষ্টম আসরে মানসম্মত বিদেশি খেলোয়াড় না পাওয়ার শঙ্কা

বিপিএলের অষ্টম আসরে মানসম্মত বিদেশি খেলোয়াড় না পাওয়ার শঙ্কা

SHARE

যেমন খুশি তেমন সাজো’ প্রতিযোগিতার মতো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) যখন খুশি তখন আয়োজন করা হয়। কোনো ফাঁকা স্লট পেলেই তোড়জোর করে শুরু হয় বিপিএল। আবার বিপিএল মানেই প্রতি আসরে নতুন কোনো সংযোজন। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অগোছালো পরিকল্পনাতেই এগিয়েছে এই প্রতিযোগিতা।

অষ্টম আসরের জন্য ২৮ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্লট রাখা আছে। ছয় দল নিয়ে মাসব্যাপী চলবে এ প্রতিযোগিতা। তবে এবারের প্রতিযোগিতায় মানসম্মত বিদেশি খেলোয়াড় না পাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ প্রায় একই সঙ্গে পাকিস্তানে শুরু হবে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)। ছয় দলের এই আসরের পর্দা উঠবে ২৫ জানুয়ারি।

বিপিএল ও পিএসএল পিঠাপিঠি হওয়ায় মানসম্মত বিদেশি খেলোয়াড় পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আমির এখন টি-১০ খেলায় ব্যস্ত। সেখানে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘চাইলেও আমরা বিপিএল খেলতে পারব না। সেই সময়ে দেশে আমাদের পিএসএল আছে। সত্যিই বিপিএলকে আমরা মিস করব।’

শুধু আমির নন, পিএসএলে সুযোগ পাওয়া কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটারই খেলতে পারবেন না বিপিএল। এছাড়া পিএসএল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আগেভাগেই চুক্তি সেরে নিয়েছেন টি-টোয়েন্টি ফেরি করা খেলোয়াড়রা। ফলে তাদের বিপিএলে অংশগ্রহণ করার সুযোগ কম। পিএসএলের প্লেয়ার্স ড্রাফট অনুষ্ঠিত হবে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে। ড্রাফট থেকে ছয় দল দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটারদের দলে ভেড়াবে।

অন্যদিকে ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি চেয়ে গত ২২ নভেম্বর দরপত্র আহ্বান করেছে বিসিবি। মোট সাতটি দল নিয়ে হবে বিপিএল। গত আসরে খেলা চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৫ ডিসেম্বর দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়।

এরপরই বিপিএল নিয়ে আলোচনা করতে চান প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী, ‘আমরা এখন পর্যন্ত যেটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি… ২৮ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিপিএলের স্লট রাখা আছে। এর মধ্যেই আমরা শেষ করব। ৫ তারিখ (ডিসেম্বরের) পর্যন্ত দরপত্র জমা দেওয়া যাবে। ততদিন অপেক্ষা করি। তারপর বলি।’

বিপিএল ও পিএসএলের সূচি সাংঘর্ষিক হলেও বাংলাদেশে মানসম্মত বিদেশি ক্রিকেটার খেলতে আসবেন বলে বিশ্বাস করেন বিপিএলের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ও বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস। তিনি বলেছেন, ‘বিপিএল সবসময়ই আকর্ষণীয় হয়। নভেম্বর-ডিসেম্বর যখনই আমরা আয়োজন করেছি তখনই ভালোমানের বিদেশি ক্রিকেটার পেয়েছি। তখন কিন্তু অস্ট্রেলিয়াতে বিগ ব্যাশও চলত। তবুও কিন্তু গেইল, রাসেল, লুইসরা আমাদের এখানে খেলেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। আমাদের দলগুলো চূড়ান্ত হলে খেলোয়াড়দের তালিকাও দ্রুত চলে আসবে। এখানে বিপিএলের জৌলুস আলাদা।’

গত বছর বিপিএল আয়োজন না হলেও পাঁচটি স্পন্সর নিয়ে কোনো বিদেশি ক্রিকেটার ছাড়া আয়োজন হয়েছিল বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ। এবার বিদেশি ক্রিকেটার নিয়ে পুরোদমে বিপিএল আয়োজনের পথে এগোচ্ছে বিসিবি।

২০২০ সালে সবশেষ বিপিএল আয়োজন করেছিল বিসিবি। সেবার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল রাজশাহী রয়্যালস। করোনা পরিস্থিতিতে দেড় বছর ক্রিকেট বন্ধ ছিল। এরপর বিসিবি তিনটি দল নিয়ে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ ও পাঁচ দল নিয়ে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ আয়োজন করেছিল। এরপর ১২ দল নিয়ে হয় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগও। স্থানীয় খেলোয়াড়দের নিয়ে আয়োজিত প্রতিটি টুর্নামেন্টই বেশ জমজমাট হয়েছিল।

SHARE