Home ক্যাম্পাস খবর স্কুলশিক্ষক হৃদয় চন্দকে গ্রেফতারে ঢাবি শিক্ষক সমিতির উদ্বেগ

স্কুলশিক্ষক হৃদয় চন্দকে গ্রেফতারে ঢাবি শিক্ষক সমিতির উদ্বেগ

SHARE

ধর্ম অবমাননা’র দায়ে মুন্সীগঞ্জ সদরের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মন্ডলকে গ্রেফতারের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষকের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে তারা।

শুক্রবার সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, “গত ২০ মার্চ ২০২২ তারিখে উল্লেখিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দশম শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় পত্রের শ্রেণি শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলকে ক্লাসে পাঠানো হয়। বিজ্ঞানের ক্লাসে অপ্রাসঙ্গিকভাবে ধর্মের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল ধর্মকে ‘বিশ্বাস’ আর বিজ্ঞানকে ‘প্রমাণভিত্তিক জ্ঞান’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। শিক্ষকের এ বক্তব্য গোপনে রেকর্ড করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়। ধারণা করা যায়, কোনো মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ কাজে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করেছে। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলেন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে তার আগেই গত ২২ মার্চ বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী এবং বহিরাগত ব্যক্তি হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের শাস্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।”

এতে আরও বলা হয়, হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল একুশ বছর ধরে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। এ ধরনের প্রবীণ শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারির মাধ্যমে মামলা করানো হয়, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রতীয়মান হয়। এছাড়া তড়িঘড়ি করে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করাটাও রহস্যজনক। গ্রেফতারকৃত শিক্ষকের জামিনের শুনানিকালে ‘এখন জামিন দিলে জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে বাদীপক্ষের আইনজীবী যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি উদ্বেগজনক। আর যে কোনো নাগরিকের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। একটি মহল রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করে ঘোলাজলে মাছ শিকারের জন্য অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে-উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ ঘটনা তারই অংশ বলে আমরা মনে করি। শিক্ষকের শিক্ষাদানের স্বাধীনতাকে অক্ষুন্ন রাখতে হবে। এ ধরনের অপতৎপরতা সমূলে উৎপাটন করা না গেলে যেকোনো শিক্ষকের পক্ষে স্বাধীনভাবে শ্রেণিশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
বিবৃতিতে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।