Home রাজনীতি ব্যক্তি নয়, দলের জন্য কাজ করতে এসেছি : সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান

ব্যক্তি নয়, দলের জন্য কাজ করতে এসেছি : সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান


চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ মিজানুর রহমান তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন কোন ব্যক্তি জন্য নয় আমি রাজনীতি করতে এসেছি দলের জন্য, জনগণের জন্য। যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন মানুষের সেবা করবেন এবং আওয়ামী লীগের স্বার্থে কাজ করে যাবেন। তিনি তার জীবন বৃত্তান্ত এবং বংশ পরিচয়ও তুলে ধরেছেন এই পোস্টে।

পোস্টটি তুলে ধরা হলো- মোঃ মিজানুর রহমান, পিতা আঃ রউফ চৌধুরী। দাদা নওয়াব আলী মোল্লা। বাড়ী বাখেরপুর চৌধুরী বাড়ী/নাওভাঙ্গা মোল্লা বাড়ী। ধাঁধার মত বাবা চৌঃ দাদা মোল্লা নিজে এসি মিজান। আসলে আমাদের বাড়ীটা বেশ বড় ছিল তাই মানুষ মোল্লা বাড়ী না বলে মোল্লা কান্দি বলত। বাড়ীটির মাঝখানে দিয়ে ছোট একটা নদী প্রবাহিত ছিল দুই পারেই আমার দাদাদের বংশ বসবাস করতো। এক পর্যায়ে বাড়ীর বেশীর ভাগ লোক নদীর পূর্ব-দক্ষিণ পাড় বাখরপুর বসবাস শুরু করলো। তখন থেকে বাড়ীর নাম হয় বাখরপুর চৌধুরী বাড়ী। আমার বাবা চাচাদের কোন এক দাদা (নামটা আমার এই মুহুর্তে জানা নাই) বৃটিশ আমলে সরকার থেকে চৌধুরী উপাধী পায় সেই থেকে বাপ-চাচারা এবং কম বয়সের দাদারা চৌধুরী নাম ব্যবহার করে। আমার দাদার জন্মের সময় মোল্লা নাম থাকাতে তিনি মোল্লা নাম পরিবর্তন করে নাই। আমার বাবার জন্ম চৌধুরী নাম হওয়ার পর তাই বাবা চৌধুরী ব্যবহার করতো। আমাদের বাড়ীটি ছিল প্রকৃত একলাছপুর ইউনিয়ন। ৬০/৬১ সালের দিকে জহিরাবাদ নতুন ইউনিয়ন হয়। তখন বাড়ীর পূর্ব-দ¶িন পারের বাসিন্দারা সাবেক চরকালিয়া ইউনিয়নে যায় আর আমরা পশ্চিম-উত্তর পারের বাসিন্দারা জহিরাবাদ ইউনিয়ন ভুক্ত হই। তখন আমাদের বাড়ীর নাম মোল্লা কান্দির পরিবর্তে নাওভাংগা মোল্লা বাড়ী হিসাবে পরিচয় পায় যদিও বাপদাদারা চৌধুরী নাম ব্যবহার করে। আমার চরিত্র যেমন মতলবের কিছু মানুষের কাছে ধাঁধা আমাদের বাড়ীর ও বংশ পরিচয় ও একটা ধাঁধা। উল্লেখ্য, যখন বাড়ীর নাম বাখরপুর চৌধুরী বাড়ী ছিল তখন আমার বড়-দাদা যিনি চৌধুরী উপাধী পান তিনি বাড়ীতে প্রথম বিল্ডিং করেন।সময়টি বৃটিশ আমল। ঐ সময় মতলবে হাতে গোনা ২/৩টি বিল্ডিং ছিল। আমি জীবনে কখনও কোথাও বলি নাই। এখন লিখলাম ইতিহাসের কারনে।

আমার বাবা একা ৪ বোন ছিল। বড়জন লুতু ফুপুর বিবাহ দেয় কুমারধন মোল্লা বাড়ী, পরের জন সলু ফুপু গজরা মিয়া বাড়ী, মেজো ফুপু চাঁদপুর পুরান বাজার বেপারী বাড়ী, (পুরান বাজার হাজী ওসমানিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ফুপুর শশুর) আমার বাবার অতি প্রিয় এবাদী ফুপুর বিবাহ হয় নোয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী ভূইয়া বাড়ী। যদিও আমার ফুপু আমার বাবাকে ছেড়ে যান নাই মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। ভাই বোনের অসম্ভব জুরি। আমার মামার বাড়ী রামদাসপুর মিজি বাড়ী নানা আঃ আজিজ মাষ্টার মৌচাক সিদ্ধেশ্বরী স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। বড় মামা অধ্যাপক খোরশেদ আলম। অবঃ অতিরিক্ত সচিব। আমার ৪ বোন ছিল ১ বোন ২ বছর বয়সে আর এক বোন ১২ বছর বয়সে মারা যায়। ২ বোন বিবাহীত এবং পরিবার সহ আমার মায়ের সাথে থাকে বোনদের পরিবারের সকল খরচ আমি সংস্থান করি।
যাহোক আমার বাবা চট্টগ্রাম কাস্টমসে তৃতীয় শ্রেনীর চাকরী পান এবং কয়েক বৎসরের মধ্যে চালনা (বর্তমান খুলনা) কাস্টমসে বদলী হন। তারপর আমার পরিবার খুলনাতে যায় আমি আমার ছোটবেলা থেকে ১৯৮৬ সাল পর্য্যন্ত খুলনাতে ছিলাম। পিতার সততার কারনে আমাদের পরিবার সবসময় অভাবগ্রস্ত ছিল। বাবা কয়েক বছর পর পর গ্রামে এসে জমি বিক্রি করে দায় দেনা পরিশোধ করতো এভাবে বাবা মৃত্যুর আগে প্রায় সকল জমি বিক্রি করে ফেলেন। আমি এখনও আমার বাবার সততার জন্য গর্ব করি। ওনার সহকর্মীরা এমন কেহ ছিল না যাদের খুলনা শহরে বাড়ী ছিল না। পিতার সততার আদর্শ ধারন করে বেঁচে আছি। তখনও ঘর সহ কিছু জমি ছিল তাও মেঘনার গর্ভে বিলীন। তখন বাবা মামার বাড়ী (সানকিভাংগা পাটোয়ারী/ডাক্তার বাড়ী) এবং আমার মার মামার বাড়ী (সানকিভাংগা মুন্সী/সরকার) এই গ্রামে জমি ক্রয় করে এবং বাবা খুলনাতে থাকার কারনে এবং অর্থের সংকটে সানকি ভাংগাতে পরিবার নিয়ে বসবাসের যোগ্য ভাল ঘর করতে পারে নাই। ছিল একটা দোচালা টিনের ঘর আর জায়গা বলতে ২ ১/২ করা বসত জমি। এইটুকুই আমাদের সম্পত্তি। বাড়ীটা অনেক বড় ছিল বাকীটা আমার ফুপুর নামে। কারন আমার ফুপা তখন কলকাতায় ভাল চাকুরী করত আর্থিক ভাবে অনেক সচ্ছল ছিল। বাবার মৃত্যু ১৯৮০ সালের পর আমি ছাড়া আমার পুরো পরিবার গ্রামে এসে আমার ফুপুর ঘরে বসবাস করে। তখন মা বাবার মাসিক পেনশনের টাকা আর পেনশনে প্রাপ্ত নগদ অর্থ এক ব্যবসায়ীকে দিয়ে মাসে হাজার তিনেক টাকার চুক্তিতে ২০০০ টাকা মাকে দিত আর ১০০০ টাকা আমার থাকা খাওয়া বাবদ কেটে রাখত । যেহেতু আমি ওনার বাসায় থাকতাম। ১৯৮১ সাল থেকেই আমার জীবন সংগ্রাম ১৯৮২ সাল থেকে আমার লেখাপড়ার খরচ আর পকেট খরচ আসতো আমার টিউশনির টাকায় তখন আমি ৮ম শ্রেনীর ছাত্র। ৯ম আর ১০ম শ্রেনীতে পড়ার সময় আমি খুলনা টেক্সটাইল মিলে চতুর্থ শ্রেনীর তালিকা ভুক্ত হয়ে মাসিক বেতনে খুলনা প্রথম বিভাগে ফুটবল খেলি। যদিও আমি কখনও প্রথম একাদশের প্লেয়ার ছিলাম না। জাতীয় ফুটবলার রুমি সমসাময়িক ছিল। যাই হোক ১৯৮৫ সালের প্রথম দিকে আন্ত বিভাগীয় ফুটবল টুর্ণামেন্টে বরিশাল হাতেম আলী কলেজের সাথে খেলার সময় পায়ের হাটু ডিসপ্লেস হয়ে যায়। আর ফুটবল খেলা হয় নাই। ১৯৮৪ সালে কলেজে ভর্তির পর থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত হই। রাজনীতির কথা পরে লিখব। ১৯৮৬ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরী¶ার পর ঢাকাতে বেড়াতে আসি তখন আমার সেজো মামা ইঞ্জিনিয়ার ফখরুল আলম এর পরামর্শে আর আমার ফুপাতো ভাই মমিনুল হক চৌধুরীর ( এলাকায় গরীবের জন্য সাহায্য করত ) বাসায় থেকে সেনাবাহিনীতে ২১ বিএমএ তে অংশগ্রহন করি এবং উর্ত্তীর্ন হই। (মেডিকেল ফিটনেসের জন্য মমিন ভাইয়ের অর্থে নাকের অপারেশন করি) তারপর ১৯৮৭ সালে বিএমএতে যোগদান করি দীর্ঘ ১৮ মাসের প্রশিক্ষণ শেষে স্বভাবজাত ভাবে অন্যায় হজম না হওয়ার রোগে সহপাঠীর নাক ফাটাইয়া বিদায় নেই। আমি চির কৃতজ্ঞ আমার ঐ সহপাঠীর কাছে যে আহত হয়েও আমাকে রক্ষার আপ্রান চেষ্টা করে। কিন্তু সেনা নিয়ম অন্যায় করলে সাজা পেতেই হবে। ঐ ১৮টি মাস ছিল আমার জীবনে শিক্ষার সর্বোচ্য গুরুত্বপূর্ণ সময়। যার ফল এখনও আমি ভোগ করি। আমার সেই প্রশিক্ষণ কালীন বন্ধুরা এখনও আমরা একই রকম মনে হয় এখনো মনে হয় এক সাঁথে জাঙ্গিয়া পরে ড্রেনে সিনিয়ারদের সাজা খাটতেছি। যদিও সবাই আমরা ৫০ উর্দ্ধে কিন্ত এখনও মিললে সেই ক্যাডেট বয়স। সবাই আমরা তুই কেহই তুমি না।

যাহোক ১৯৮৯ বিদায় নিয়ে আবার ঢাকাতে ফুফাতো ভাইয়ের বাসায় বেকার ১ ১/২ বছর। কাজ বলতে ঢাকায় বিভিন্ন মহলে (বিবরন পরে) আড্ডাবাজী আর রাজপথে আন্দোলনে আওয়ামী লীগের প্রতিটি সংগ্রামে সরাসরি অংশগ্রহন। এটার কথাও পরে রাজনীতির অধ্যায়ে। ১৯৯১ স্নাতক পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর অধীনে শেষ মুহুর্তে রেজিস্ট্রেশন করে অংশ নেই, ফল প্রকাশিত হওয়ার কিছুদিন পুর্ব থেকে ধারের টাকায় রোজগারের প্রচেষ্টায় মতিঝিলে গাড়িতে করে বিরানী বিক্রির ব্যবসার চেষ্টা, ফল ৭ দিনে পুজি শেষ তখন মনের দুংখ ঘুচাতে খুলনায় আমার ফুফাতো বোনের বাসায় দীর্ঘ বেড়ানোর লক্ষ্য। কিন্ত ভাগ্য ভাল তিন দিনের মাথায় আমার একজন সিনিয়ার রিটায়ার্ড অফিসারের মাধ্যমে চাকুরীর সুযোগ। কোম্পানীর মালিক ২ জন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা এবং অফিসের সিংহ ভাগ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা। তারপর চাকুরী শুরু ১৯৯১ সালে বিক্রয় নির্বাহী পদে ১৯৯৫ সালের শেষ দিকে চাকুরী শেষ নির্বাহী পরিচালক হিসাবে। সর্বশেষ চাকুরীতে অফিস থেকে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য জাপানী সুজুকি জীপ গাড়ী পাই অবশ্য ড্রাইভার ছাড়া। আমিই ড্রাইভার তাতে কি জীবনে প্রথম গাড়ী আনন্দের শেষ নাই। আল্লাহ রহমত আর বাবা মার দোয়ায় কোন তদবীর সুপারিশ ছাড়াই জীবনের পথ চলা। আমার প্রতিটা পাওয়া আমার মেধা আর পরিশ্রমের ফল। ১৯৯৫ সাল থেকে এসির ব্যবসা শুরু আমি নিজে একটি আমেরিকান কোম্পানীর এসির এজেন্সী নিয়ে ব্যবসা শুরু পার্টনার নিয়ে পরে ১৯৯৯ সাল থেকে একক ভাবে। এখনও একই ব্যবসায়। ব্যবসার সুবাদে নাম হয় এসি মিজান। ১৯৯৫ সালের শেষের দিক থেকে মতলবে নিজ উদ্যোগে আওয়ামী রাজনীতির জন্য কাজ করি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের ৪ দিন আগে মায়া ভাই আমাকে প্রথম নিজে ডেকে নিয়া যায় যখন জানতে পারে আমি নিজ অর্থে জহিরাবাদ ইউনিয়নের নৌকার পক্ষে প্রায় সকল নির্বাচনী খরচ দেই সাথে একলাছপুরের কিছু অংশ ও ফরাজিকান্দীর কিছু অংশে খরচ দেই। সেদিনই প্রথম মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ভাইয়ের সাথে পরিচয়। মায়া ভাইয়ের প্রশ্ন ছিল তুমি আমার নির্বাচনে এতকিছু করছো আমার কাছে আসো নাই কেন। আমি বিনীত ভাবে বলেছিলাম মায়া ভাই আমি প্রায় ৭/৮ যাবত এলাকায় এই নির্বাচনে নৌকার বিজয়ের জন্য কাজ করছি আমিতো কোন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে আসি নাই। দলের জন্য কাজ করছি। আপনি নিজ থেকে আমাকে ডেকে মুল্যায়ন করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমি যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন আওয়ামী লীগের জন্য জনগণের জন্য কাজ করবো। ব্যক্তি নয় দলই আমার কাছে উর্ধে। এরপর প্রায় সব মতলব বাসীর জানা। পর্ব-১।