Home জাতীয় পদ্মা সেতুর বাঙালির গর্জনের প্রতীক অভিবাদন তোমায় বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা

পদ্মা সেতুর বাঙালির গর্জনের প্রতীক অভিবাদন তোমায় বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা

SHARE

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের সক্ষমতা ও সাহসের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বঙ্গকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহসিকতায় বিশ্বজয় করেছে বাঙালি। নিজস্ব অর্থায়ণে পদ্মা সেতুর প্রশংসা এখন বিশ্বজুড়ে। তলাবিহীন ঝুড়ির আখ্যা পাওয়া বাংলাদেশ এখন আত্মনির্ভরশীল, সেটার উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত স্বপ্নের পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতুর কারণে উন্নত সমৃদ্ধ জীবনের স্বপ্ন বুনন করছে পদ্মাপাড়েরর মানুষ। প্রমত্তা পদ্মার বুকে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর বিশাল অবকাঠামো নয়, এ যেন বীরের জাতি হিসেবে বাঙালি গর্জনের প্রতীক।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন- বাঙালিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না, পদ্মা সেতু হলো সেই দাবিয়ে না রাখতে পারার প্রতীক। যার সকল কৃতিত্ব একমাত্র বঙ্গবন্ধু কন্যার। সেতু নির্মানের পেছনের গল্পটি কঠিন বেদনাতুর ও অপমানের। স্বীয় স্বার্থে জাতীয় স্বার্থ বিলিয়ে দেশিয় জ্ঞানপাপী ষড়যন্ত্রকারীদের মুখে চপেতাঘাত। সকল ষড়যন্ত্র আর দুর্নীতি কালিমা মোচন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় প্রত্যয় আর সাহসি পদক্ষেপে সেতু নির্মাণ সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ হয়েছে আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র। এটা কেবল সম্ভব হয়েছে একজন সৎ, মানবতাবাদী রাষ্ট্রনায়ক থাকায়।

পদ্মা সেতু ছিলো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গণমানুষের দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন। উত্তাল পদ্মায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের সব স্বপ্ন থমকে রেখেছিল। প্রতিনিয়তই এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম করতে হতো। যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে গড়ে উঠেনি শিল্পকারখানা, বাড়েনি কর্মসংস্থান। এমনকি দক্ষিনাঞ্চলের জেলা বিসিক নগরীতে তেমন শিল্পপ্রতিষ্ঠান হয়নি।

রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা দৈনতার কারণে উদ্যোক্তা শিল্প প্রতিষ্ঠান করেননি। ভারী বা বৃহদায়তন শিল্প নেই বললেই চলে। বাধ্য হয়ে কর্মক্ষম মানুষগুলো জীবিকার খোঁজে পাড়ি জমাতে হয় রাজধানীসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে। অনেকেই পরিবারকে ভালো কিছু উপহার দিতে প্রবাসযাপন করছেন। মাঝে মধ্যেই পদ্মার নৌ-দূর্ঘটনায় কেড়ে নেয় শত শত প্রাণ।

কেবল মাত্র নদীপার হতে না পারায় পদ্মাপাড়ের ঘাটে মারা গেছেন বহু অসুস্থ রোগি। ফেরি পারাপারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ঘন্টার পর ঘন্টা। একজন মুমুর্ষ রোগিকে নিয়ে ঘাটে অপেক্ষা যে কতটা কষ্টের, সে ঐ অঞ্চলের মানুষই বুঝে। পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে হাজারো পরিবারকে নি:স্ব হতে হয়েছে। এ অঞ্চলের অনেকেই পদ্মার বুকে ব্রীজ দেখার স্বপ্ন নিয়ে চলে গেছেন পৃথিবী ছেড়ে। আর অনেকেই বয়সের শেষ প্রান্তে এসেও অপেক্ষায় আছেন পদ্মা সেতু দেখার জন্য। পদ্মাপাড়বাসীর সেই আশা পুরণ হবে শনিবার। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার সরাসরি সড়ক পথের দ্বার উন্মোচন হবে।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতু সমগ্র বাংলাদেশের জন্য এটি এখন মর্যাদার সেতু। পদ্মায় চোখ পড়লেই সেতুর বিশাল অবকাঠামো বাংলাদেশকে নতুন দিবালোক স্বপ্নে বিভোর করে। পদ্মা সেতু বাংলাদেশকে এমন সক্ষমতা এনে দিয়েছে যে, এখন দাতা সংস্থাগুলো নিজেরাই বিনিয়োগে আগ্রহী দেখাচ্ছে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে বাংলাদেশ সরকারের চলমান প্রচেষ্টায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকো।

অতি সম্প্রতি ইতো নাওকো দূত বলেন, বর্তমানে জাপান সরকারের অবস্থান হচ্ছে ‘আমরা বাংলাদেশ সরকারের দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে আমাদের সহযোগিতা প্রস্তাবের সুযোগ নেব।’

১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৭ সালে জাপান সফরে পদ্মা ও রূপসা নদীর ওপর সেতুর প্রস্তাব দিলে জাপান রাজি হয়। ২০০১ সালে পদ্মা সেতুর সমীক্ষার তথ্য আসে। ওই বছরের ৪ জুলাই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন শেখ হাসিনা। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে অগ্রাধিকার তালিকায় যুক্ত করে আওয়ামী লীগ সরকার। এরপরের ঘটনা এখন সবারই জানা। পদ্মা সেতুর অর্থায়ণ নিয়ে ২০১১ সালে সরকার বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ঋণ চুক্তিবদ্ধ হয়।

২০১২ সালে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে ১২০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি বাতিল করে। বিশ্বব্যাংকের পাশাপাশি জাইকা, এডিবিসহ দাতাসংস্থাগুলোও সরে দাঁড়ায়। সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় ও সচিব মোশারেফ হোসেন ভূইয়াকে জেলে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে এমন কোনও অভিযোগ প্রমাণ না পাওয়ায় কানাডীয় আদালত মামলাটি বাতিল করে দেয়। দুর্নীতির অভিযোগ পরবর্তীতে আদালতে খন্ডিত হয়। পরে জাতীয় সংসদে প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব সম্পদ থেকে অর্থায়ন করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পদ্মা সেতুর অর্থায়ণ থেকে দাতাদের সরে আসার পেছনে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে বিএনপি ও গ্রামীন ব্যাংকের এমডি ড. ইউনুসের নাম উঠে আসে। পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে সর্বশেষ গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ব্যক্তিস্বার্থে কেউ দেশের এত বড় ক্ষতি করতে পারে তা আমার জানা ছিল না। ব্যাংকের এমডি পদের লোভে একজন ব্যক্তি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন আটকে দেন। তার সঙ্গে আরও কিছু ব্যক্তি সহায়তা করেছেন। তাদের ষড়যন্ত্রে ও মিথ্যা তথ্যে বিশ্বব্যাংক একটা পর্যায়ে পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে সরে যায়।’

তিনি বলেন, ব্যাংকের একটা এমডি পদ এতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে ওই ব্যক্তির কাছে। পদটা চলে যাওয়ায় তিনি দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করলেন। নিজস্ব অর্থায়ণে করার ঘোষণা আসার পরও নানা ধরণের ষড়যন্ত্র ও গুজব ছড়ানো হয়। নিজস্ব অর্থায়ণের সাহসি ঘোষণা সাধারণ মানুষ স্বাগত জানালেও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি চেয়ারপারসন ও বুদ্ধিজীবীরা সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে উপহাস করে নানা কথা বলেছিলেন। কিন্তু একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার প্রবল ইচ্ছা শক্তির কারণে পদ্মার বুকে পদ্মা সেতু আজ বাস্তব। আর জাতির কাছে ড. ইউনুস গংরা চিহ্নিত হয়ে থাকবেন ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে। যার কারণে সেতুটি এক দিকে বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রতিক, অন্যদিকে, ষড়যন্ত্রকারীদের মুখে ছাঁই।

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ৪২টি পিলার ও ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যানের মাধ্যমে মূল অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর (মূল সেতু) দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। দুই প্রান্তের উড়ালপথ (ভায়াডাক্ট) ৩ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার। সব মিলিয়ে সেতুর দৈর্ঘ্য ৯ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর মূল সেতু ও নদীশাসন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেতুটির নকশা প্রণয়ন করেছে এইসিওএম। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড।

পদ্মা সেতু একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের সঙ্গে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর যুক্ত হবে। ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটবে। দুই স্তরবিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস ব্রিজটির ওপরের স্তরে থাকবে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরটিতে একটি একক রেলপথ। পানি প্রবাহের বিবেচনায় বিশ্বে আমাজন নদীর পরই এর অবস্থান। মাটির ১২০ থেকে ১২৭ মিটার গভীরে গিয়ে পাইল বসানো হয়েছে এই সেতুতে। পৃথিবীর অন্য কোনো সেতু তৈরিতে এত গভীরে গিয়ে পাইল বসাতে হয়নি। যা পৃথিবীতে একটি অনন্য রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে সারাদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাইলফলক সৃস্টি হবে। দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১ দশমিক ২৩ শতাংশ হারে বাড়বে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২ দশমিক ৩ শতাংশ।

পদ্মা সেতুর কারণে ইতোমধ্যে বদলে যেতে শুরু করেছে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চল। সেতুটির কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড নতুন গতি পেয়েছে। সরকারী-বেসরকারী উদ্যোগে গড়ে উঠতে শুরু করেছে শিল্পকারখানা, স্কুল কলেজ, পর্যটন কেন্দ্র। কৃষি ও মৎস্য নির্ভর শিল্পকারখানা গড়ে উঠতে শুরু করেছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের প্রিয় ভ্রমণ ও অবকাশকেন্দ্র হয়ে উঠেছে পদ্মার পাড়। সেতুর অবকাঠামো তৈরি হবার পর হতেই পর্যটকদের পথচারণা বাড়ছে।

ইতোমধ্যে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত এলাকা পর্যটকদের আকর্ষনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হলে মংলা বন্দরের কর্মচাঞ্চল্য অনেক গুণ বেড়ে যাবে। ফরিদপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ, খুলনা, নড়াইল, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, মংলা, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও মুন্সীগঞ্জসহ ২১ জেলায় নতুন শিল্পায়ন শুরু হয়েছে।

ইতোমধ্যে সড়ক পথে বিশাল পরিবর্তন এসেছে। ৩৮ টি রুটে সরাসরি বাস যোগাযোগ শুরু হবে, চলবে বিআরটিসি বাসও। দেশের বড় বড় ব্যসায়ী প্রতিষ্ঠানসহ অনেক নতুন উদ্যোক্তা শিল্প-কারখানা গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন। সবমিলিয়ে পদ্মার তীর ঘেষে হাতছানি দিচ্ছে সমৃদ্ধির দক্ষিণাঞ্চর। ইতোমধ্যে জাজিরা প্রান্তে ক্যান্টনমেন্ট এবং স্কুল-কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রিপোর্ট, হোটেল গড়ার কাজ হাতে নিয়েছেন।

শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদুপর ও রাজবাড়ীতে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে বাসা-বাড়িতে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় গ্রামেই দৃষ্টিনন্দন বাড়ি-ঘর করার চেস্টা করছেন অনেকেই। যার কারণে পাল্টে যেতে শুরু করেছে গ্রামীন জীবনমান। হাট-বাজারগুলোতে বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানীর শো রুম গড়ে উঠছে। পোশাক কারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে অনেকে। এতে রাজধানীর উপর বসতি চাপ অনেকটা কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পদ্মা সেতুর মতো সারাদেশে বর্তমান সরকারের নেতৃত্ব নেওয়া বড় বড় মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলেছে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমন, ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গঠন ও মানবতায় বিশ্বের মোড়লদের মধ্য আলোকবর্তিকা হয়ে উঠেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার আলোয় আজ গোটা বাংলাদেশ বিশ্বের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্ব, যোগ্যতা, নিষ্ঠা, মেধা-মনন, দক্ষতা, সৃজনশীলতা, উদার-মুক্ত গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হয়েছে। তাকে বলা হয় বাংলাদেশের বিস্ময়কর উত্থানের নেপথ্যে কারিগর।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পিছিয়ে পড়া দেশ-জাতি জনগোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবে বিশ্বনন্দিত নেতা। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি, একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যসম্পন্ন করা, সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি ও সমুদ্রবক্ষে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ব্লু ইকোনমির নতুন দিগন্ত উন্মোচন, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাকাশ জয়, সাবমেরিন যুগে বাংলাদেশের প্রবেশ, মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদুৎকেন্দ্র স্থাপন, কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, নতুন নতুন উড়াল সেতু, মহাসড়কগুলো ফোর লেনে উন্নীত করা, এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, দারিদ্র্যের হার হ্রাস, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৫ হাজার মেটাওয়াট ছাড়িয়ে যাওয়া, ৯৯.৫ শতাংশ মানুষকে বিদ্যুৎ-সুবিধার আওতায় আনা, যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ, ফোর-জি মোবাইল যুক্তির ব্যবহার চালুসহ অসংখ্য ক্ষেত্রে কালোত্তীর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

সর্বোপরি নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে, জাতি হিসেবে আমরা কতটা আত্মপ্রত্যয়ী। এ কৃতিতের¡ পুরোটাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তণয়া, পদ্মাপাড়ের বঙ্গকণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। এজন্য দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের গর্বিত সন্তান, বিশ্বজয়ী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিবাদন।

লেখক- সিনিয়র রিপোর্টার, দৈনিক আমার সংবাদ, সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, কেন্দ্রীয় কমিটি।