Home ব্রেকিং চাঁদপুর জেলা পরিষদে ওচমান গণিকেই মনোনয়ন দিল আওয়ামী লীগ

চাঁদপুর জেলা পরিষদে ওচমান গণিকেই মনোনয়ন দিল আওয়ামী লীগ

SHARE

চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ফের বিদায়ী চেয়ারম্যান ওচমান গণি পাটওয়ারীকেই মনোনয়ন দিয়েছে। কারণ নতুন চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউসুফ গাজীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আমরা ইউসুফ গাজীর পরিবর্তে নতুন করে ওচমান গণি পাটওয়ারীকেই দলীয় মনোনয়ন দিয়েছি।

ওচমান গণি পাটওয়ারী ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের মনোনয়নে চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার বদলে এবার চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইউসুফ গাজীকে মনোনয়ন দিয়েছিল আওয়ামী লীগ।

গত ২৩ আগস্ট এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। সে অনুযায়ী আগামী ১৭ অক্টোবর ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচন হওয়ার কথা।

এদিকে এই নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) কামরুল হাসান রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ইউসুফ গাজীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী তিনদিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন ইউসুফ গাজী এবং তিনি আপিল করবেন বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু এরই মাঝে দলীয় সমর্থন পরিবর্তন করল আওয়ামী লীগ।

জানা গেছে, বিদায়ী চেয়ারম্যান ওচমান গণি পাটওয়ারী আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইউসুফ গাজীর বিরুদ্ধে মামলা সংক্রান্ত একটি অভিযোগ আনেন। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে শুনানি শেষে ইউসুফ গাজীর প্রার্থিতা বাতিল করে।

অভিযোগে বলা হয়, প্রতারণার অভিযোগে ইউসুফ গাজীর বিরুদ্ধে ২০০৪ সালে খুলনার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা করেন হুমায়ুন কবির নামে এক ব্যক্তি।

ওই মামলায় আদালত আসামিকে খালাসের রায় দিলেও ২০০৮ সালে ওই রায়ের বিরুদ্ধে খুলনা দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন বাদী।

আপিল শুনানি শেষে ইউসুফ গাজীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

ইউসুফ গাজী উচ্চ আদালতে আপিল করলে হাইকোর্ট পাঁচ বছরের সাজা ও অর্থদণ্ড বহাল রাখেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি ২০১৯ সালে লিভ টু আপিল করেছেন, যা শুনানির অপেক্ষায় আছে।

জেলা পরিষদ আইনের ২০০০-এর ৬(২)ঘ ধারা অনুযায়ী, নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে কোনও ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার যোগ্য হবেন না।