রেলখাতে বেসরকারি বিনিয়োগে সেবার মান বাড়তে পারে: প্রতিমন্ত্রী

মোশতাক আহমদ 

ঢাকা, ২২ এপ্রিল, ২০২৬ : যাত্রী সেবার মান বাড়াতে সরকার রেলখাতে বেসরকারি বিনিয়োগের চিন্তা করছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।

তিনি বলেন, সেবার মান বাড়াতে দেশের রেলব্যবস্থাকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

আজ বুধবার রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

বেসরকারি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও রেলখাতে বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগ এলে সেবার মান ও প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে, তবে তদারকি সরকারের হাতেই থাকবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে রেলকে ধীরে ধীরে ব্রডগেজে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ বছর সময় লাগতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রেলখাতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ জনবল গড়ে তোলা এবং বিদ্যমান লাইনের পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি বর্তমান সেবার মান উন্নয়নেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে জনগণ দ্রুত ও সাশ্রয়ীভাবে সেবা পেতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমানে রেলে লোকোমোটিভ (রেলের ইঞ্জিন) সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে মিটারগেজ ও ব্রডগেজের সমন্বয়হীনতার কারণে প্রয়োজনীয় ইঞ্জিনের ঘাটতি দেখা দেয়, যা ঈদের মতো ব্যস্ত সময়ে আরও প্রকট হয়। অনেক ইঞ্জিন মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় সেগুলো মেরামত করে চালাতে হচ্ছে।

রেলের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমানে আয়-ব্যয়ের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। ‘এক টাকা আয় করলে দুই টাকা খরচ হয়’-এমন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ভবিষ্যতে রেলকে আরও দক্ষ ও লাভজনক করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

রেলের অব্যবহৃত ও বেদখল জমি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগের কথাও জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব জমি জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে। প্রয়োজনে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, বনায়ন বা অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে এসব জমি কাজে লাগানো হতে পারে।

সেবার মান উন্নয়নের বিষয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু আধুনিক ট্রেন বা কোচ সংযোজন করলেই হবে না, পরিচ্ছন্নতা, যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা এবং কর্মীদের আচরণেও উন্নতি আনতে হবে। এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়াতে জিএম ও ডিআরএমদের নিয়মিত পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রেল দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে শুধু চালক বা গার্ড নয়, সংশ্লিষ্ট সব স্তরের কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। এতে করে দায়িত্বশীলতা বাড়বে এবং সেবার মান উন্নত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নারায়ণগঞ্জে রুটে ডেমু ট্রেন চালু প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, এ খাতে নতুন করে সরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেই। তবে বেসরকারিভাবে কেউ আগ্রহী হলে তা বিবেচনা করা হতে পারে। সার্বিকভাবে রেলকে আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব করতে সরকার স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।




সড়ক রেলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমি ফেরত নেওয়া হবে : ভূমিমন্ত্রী

মোশতাক আহমদ

ঢাকা, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ : রেল, সড়কসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অধীনে থাকা বিপুল পরিমাণ জমি যথাযথভাবে ব্যবহার না হলে তা ফেরত নেওয়া হবে এবং অতীতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি অবৈধভাবে জমি দখল করে থাকে, তা আইনের আওতায় এনে ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।

তিনি বলেন, রেল, সড়কসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনেক জমি অব্যবহৃত রয়েছে। আমরা এগুলো চিহ্নিত করছি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বিন্যাস করব।

প্রসঙ্গত, শুধু রেলের প্রায় ৬২ হাজার একর জমির মধ্যে অব্যবহৃত প্রায় ৮ হাজার ৫৫৪ একর, অবৈধ দখল প্রায় ৬ হাজার ৭৫৪ একর এবং লীজ/ইজারা দেওয়া হয়েছে ১৪ হাজার একরের বেশি জমি।

আজ সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

ভূমি রেজিস্ট্রেশন বিভাগকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে আইন, স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক মন্ত্রণালয় যুক্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, রেজিস্ট্রেশন ও নামজারি আলাদা থাকায় জালিয়াতির সুযোগ তৈরি হয়। আমরা চাই এই প্রক্রিয়াগুলো সমন্বিত হোক, যাতে জনগণ সহজে সেবা পায় এবং দুর্নীতি কমে আসে।

ডিজিটাল সার্ভের মাধ্যমে অতীতের সব অনিয়ম দূর হবে জানিয়ে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, যার জমি, সেই মালিকানা নিশ্চিত করা যাবে। এতে জালিয়াতি ও দ্বন্দ্ব অনেকাংশে কমে যাবে। দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম, জটিলতা ও দুর্নীতি দূর করে একটি স্বচ্ছ, জনবান্ধব ও আধুনিক সেবা কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, শতাব্দী প্রাচীন ব্যবস্থার নানা ত্রুটি কাটিয়ে ধাপে ধাপে একটি ডিজিটাল ও জবাবদিহিমূলক ভূমি প্রশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মিজানুর রহমান মিনু বলেন, বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনার সমস্যা নতুন নয়; এর শিকড় বহু পুরোনো ইতিহাসে প্রোথিত। একসময় দেশের সাধারণ মানুষ জঙ্গল পরিষ্কার করে বসতি স্থাপন করে কৃষিনির্ভর সমাজ গড়ে তুলেছিল। তারা পুকুর খনন, কৃষি উৎপাদন এবং স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নের মাধ্যমে সমাজকে এগিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু, পরবর্তীতে বিভিন্ন শাসনামলে, বিশেষ করে বিদেশি শাসকদের সময় ভূমি ব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তন আসে। জমি বিভক্ত হয়ে পরগনা পদ্ধতিতে চলে যায় এবং খাজনা আদায়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বৃদ্ধি পায়।

তিনি উল্লেখ করেন, ব্রিটিশ আমল থেকে যে আইন ও প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি হয়েছে, তার অনেকাংশ এখনো বহাল রয়েছে। ফলে, সাধারণ মানুষের কাছে ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা তৈরি হয়নি। আমরা সেই জায়গা থেকেই পরিবর্তন আনতে কাজ করছি।

বর্তমান সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণকে শাসন করার জন্য নয়, বরং সেবা দেওয়ার জন্য কাজ করছে। ভূমি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কল সেন্টার চালু, অনলাইন অ্যাপস চালু, জনগণকে সচেতন করা এবং দালাল ও অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

তিনি বলেন, আমরা চাই, একজন সাধারণ মানুষ যেন কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি ভূমি সেবা পেতে পারে। সেই লক্ষ্যেই আইন প্রণয়ন ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ভূমি খাতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন কৃষিজমি রক্ষা। মন্ত্রী বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিজমি সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিতভাবে কৃষিজমি অকৃষি কাজে ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে, যা ভবিষ্যতের জন্য হুমকি।

তিনি জানান, আমরা কৃষিজমি সুরক্ষা আইন পাস করেছি। এখন যে কেউ ইচ্ছা মতো কৃষিজমি নষ্ট করে ভবন বা অন্য কোনো স্থাপনা তৈরি করতে পারবে না। এতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ অনলাইন পদ্ধতিতে জমি কেনাবেচা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে ডিজিটাল জরিপের পাইলট প্রকল্প চালু হয়েছে, যা শিগগিরই সারা দেশে বাস্তবায়ন করা হবে।

মাঠ প্রশাসনের অনিয়ম তিনি স্বীকার করেন যে, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে নির্দেশনা মানা হয়নি এবং দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। তবে, বর্তমান সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা পার্লামেন্টে আইন পাসের মাধ্যমে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করব। শুধু নির্দেশনা নয়, আইনগত বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হবে, যাতে কেউ তা অমান্য করতে না পারে।

ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ঐতিহাসিকভাবে যে হারে খাজনা নির্ধারিত হয়েছিল, তা বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে, এ বিষয়ে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা তৈরি করা হবে।

জলমহল ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকৃত জেলেদের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় জেলেদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জলমহল ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভূমি ধ্বংসের একটি নতুন হুমকি হিসেবে মন্ত্রী ‘ভেকু’ বা আধুনিক খনন যন্ত্রের ব্যবহারকে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব যন্ত্রের মাধ্যমে দ্রুত পুকুর খনন করে কৃষিজমি নষ্ট করা হচ্ছে, যা পরিবেশ ও কৃষির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

তিনি জানান, এ বিষয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত জমি নষ্টের প্রবণতা বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মাঠ পর্যায়ে জবাবদিহিতা বাড়াতে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরো সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে এবং তাদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, দেশের প্রতিজন সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ এলাকায় ভূমি ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোথাও অনিয়ম বা দুর্নীতি হলে তা লিখিতভাবে মন্ত্রণালয়কে জানাতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। যেখানে প্রয়োজন, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পাশাপাশি উন্নয়নমূলক পদক্ষেপও গ্রহণ করা হবে।

নিজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে ভূমিমন্ত্রী জানান, তিনি এখনো শিখছেন এবং মাঠ পর্যায়ে কাজের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টা করছেন। তিনি স্বীকার করেন, ভূমি মন্ত্রণালয় একটি বিশাল ক্ষেত্র এবং এর সব দিক বোঝা সময়সাপেক্ষ।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে। স্বচ্ছতা, প্রযুক্তি এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে একটি আধুনিক ও কার্যকর ভূমি প্রশাসন গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলেও মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই, জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা। ভূমি নিয়ে যেন কোনো মানুষ হয়রানির শিকার না হয়, সেটাই আমরা নিশ্চিত করতে চাই। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।




শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা আপেক্ষিত- মতলবে এসএসসি’র পরীক্ষাকেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
গত এসএসসি পরীক্ষায় প্রশাসনের নাম করে কেন্দ্রপ্রতি ৪০ হাজার টাকা উত্তোলনকারী ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ইউএনও’র গাড়িতে করে কেন্দ্র পরিদর্শন এবং বিগত পরীক্ষায় কেন্দ্রের সবচেয়ে বেশী দুর্নীতির বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা একাডেমী সুপারভাইজারকে উপজেলার সর্বাধিক পরীক্ষার্থীর কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব দেয়া সহ উপজেলায় পরীক্ষায় নানা অনিয়ম-দুর্নীতির থাকলেও পরীক্ষা শুরুর এক ঘন্টার মধ্যেই প্রশাসন থেকে সাংবাদিকদের কেন্দ্রে প্রবেশ না করা বিষয়ে আসে নিষেধাজ্ঞা।

কোন কোন সাংবাদিক চলমান এসএসসি ও সমান পরীক্ষার কেন্দ্র ঘুরে দেখতে কেন্দ্র সচিবের অনুমতি চাইতে গেলে কেন্দ্র সচিব জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরীক্ষা চলাকালে সাংবাদিকদের কেন্দ্রে প্রবেশের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে । তাই সাংবাদিকরা তর্কে না জড়িয়ে ফিরে এসেছেন। শর্তসাপেক্ষে কেন্দ্র পরিদর্শনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনের এরকম কঠোর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে উপজেলার সাংবাদিকরা চরমভাবে ক্ষুব্ধ। ক্ষোভ প্রকাশ করে উপজেলার সিনিয়র কয়েকজন সাংবাদিক জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এরকম নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনের এই ধরনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা খুবই দুঃখজনক।
মুঠোফোনে কথা হলে উপজেলার প্রাচীনতম চরকলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি দীর্ঘ সময়ের সদস্য ও উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি আব্দুল গনি তপাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিকরা পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলে নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে আরো সহায়ক বলে আমি মনে করি। কিন্তু সে জায়গায় পরীক্ষা কেন্দ্রে সাংবাদিকের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বেলা ১১ টায়
চলতি এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উপজেলার ফরাজীকান্দি কামিল মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে দাখিল পরীক্ষা দেখতে গেলে কেন্দ্র সচিব অতাউল করিম মুজাহিদ সাংবাদিকদের জানান, একটু আগেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় পরীক্ষা চলাকালীন কোন সাংবাদিক যেনো পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ না করেন সে বিষয়ে সকল কেন সচিবকে মোবাইল ফোনে নির্দেশনা দিয়েছেন। কাজেই, আমার কিছু বলার নেই আপনার কোন কথা থাকলে ইউএনও ম্যাডামকে বলেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুল আলম গত বছরের এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নাম করে কেন্দ্র প্রতি ৪০ হাজার টাকা করে উত্তোলন করার বিষয়টি উপজেলার ৮ কেন্দ্রের কয়েকজন কেন সচিব নিশ্চিত করেন। তবে তাদের নাম প্রকাশ না করার জন্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুরোধ জানান। কেননা, উনি খুবই প্রভাবশালী। তাই তার মতের বাইরে গেলেই তিনি অনেক ক্ষতি করে ফেলবেন। চলতি এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে তার গাড়িতে করে কেন্দ্র পরিদর্শনে আসলেও উনার অথবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের জন্য এখনো টাকার বিষয়ে কোন কথা বলেননি বলেও তারা জানান।
এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, নির্দেশনাটি মূলত আমার না। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মহোদয় আমার মুঠোফোনে এই নির্দেশনা দিয়েছেন। আমি শুধু নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করেছি।




অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানবিক উন্নয়নের সমন্বয়ে টেকসই সমাজ গঠনের আহ্বান পেশাজীবীদের

 

স্টাফ রিপোর্টার

১৮ এপ্রিল, শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে রাজধানীর মালিবাগে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বনাম মানবিক উন্নয়ন শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে নগর জীবনে সবুজায়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল ছাদবাগানীদের মাঝে উন্নত জাতের সবজি বীজ ও বিভিন্ন ধরনের জৈব সার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পেশাজীবি ফেডারেশনের সভাপতি ও বিশিষ্ট লেখক সরকার মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে
অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজ উদ্দিন খান।
অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন জাতীয় ঢাকা প্রেস ক্লাব ট্রাস্টের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদ।
প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কবি প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল।

এসময় বক্তারা তাদের বক্তব্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে মানবিক উন্নয়নের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক আলতাফ মাহমুদ বলেন, প্রকৃত উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয় যখন তা মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিফলিত হয়। তিনি গ্রামীণ ঐতিহ্য, কৃষি ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে একীভূত করে টেকসই সমাজ গঠনের আহ্বান জানান এবং ছাদবাগানকে নগর জীবনে সম্ভাবনাময় সবুজ বিপ্লব হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রধান অতিথি মো. মফিজ উদ্দিন খান বলেন, কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধি নয়, বরং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, সামাজিক ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই প্রকৃত অগ্রগতি। তিনি সরকারি-বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।

প্রধান আলোচক প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল বলেন, উন্নয়নের সূচক যদি শুধু অর্থনৈতিক পরিমাপে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। মানবিক মূল্যবোধ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নৈতিকতার বিকাশকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি নগর কৃষি ও ছাদবাগানকে খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন মানবিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সকল স্তরে পৌঁছে দিতে সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। তিনি পরিবেশবান্ধব নগর গঠনে ছাদবাগানকে কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জামাল আহমেদের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, রিজিয়া বেগম, মোসা: শাহ্ নওআজ আবেদীন,শামসুল করিম, আমির হোসেন, মিয়া মো. মুজিবুল হক, মো. শহিদুল্লাহ ভুঁইয়া, সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিন্নাতুল ইসলাম জিন্নাহ, সিনিয়র সাংবাদিক এফ রহমান রুপক, হাজ্বী তারিকুল ইসলাম তরু, সাংবাদিক মো. শফিউর রহমান কাজী, এম এ করিম খাঁন, রাশেদুল হাসান, সৈয়দ মোশাররফ হোসেন পাপ্পু, মো. আসিফ হাওলাদার ইলিয়াস, এডভোকেট মনিদ্রনাথ, মো. মাকসেছুল ইসলাম নয়ন, মুরসালিনা আক্তার ডালিয়া, খন্দকার আবিদ আহমেদ, সাংবাদিক মো. আব্দুল মাবুদ জীবন, মো. সানোয়ার হোসাইন, মানবাধিকার কর্মী ও লেখক প্রসপারিনা সরকার, সাংবাদিক গিলবার্ট গমেজ শিশির, কৃষিবিদ মো. হাসান রুহি এবং বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ হাফেজ মাওলানা মুফতী মুর্তজা ইবনে মোস্তফা সালেহী সহ প্রমুখ।
আলোচনা শেষে ২০২৬ সালের SSC পরীক্ষার্থীদের সাফল্য কামনায় দোয়া করা হয়।




গবেষণায় অসামান্য অবদান: ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ পেলেন অধ্যাপক ড. এম এ রহিম

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) কৃষি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডীন, কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান এবং কৃষিবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এম. এ. রহিমকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে। ‘গবেষণা ও প্রশিক্ষণ’ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি দেশের এই সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, জাতীয় উন্নয়নে গবেষণা ও প্রশিক্ষণের গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। কৃষি শিক্ষার প্রসারে এবং গবেষণায় তার নিরলস প্রচেষ্টা ও নেতৃত্ব দেশের কৃষি খাতকে সমৃদ্ধ করতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

অধ্যাপক ড. এম. এ. রহিমের এই অসামান্য অর্জনে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) পরিবার অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড, প্রশাসন এবং সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে এই কৃতি গবেষক ও শিক্ষককে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হচ্ছে।

ডিআইইউ-তে শিক্ষকতাকালীন কৃষি গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছেন ড. এম. এ. রহিম। বিশ্ববিদ্যালয়টির কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের জার্মপ্লাজম সেন্টারে পরিচালিত গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত চারটি উচ্চ ফলনশীল ও উন্নত কাঁঠালের জাত  ডিআইইউ জ্যাকফ্রুট -১, ডিআইইউ জ্যাকফ্রুট-২, ডিআইইউ জ্যাকফ্রুট-৩ এবং ডিআইইউ জ্যাকফ্রুট-৪ সম্প্রতি জাতীয় বীজ বোর্ড এবং কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত ও নিবন্ধিত হয়েছে। এই অর্জন টেকসই কৃষি উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং দেশের কৃষি খাতে উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে ডিআইইউ-এর গবেষণানির্ভর উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

অধ্যাপক ড. এম. এ. রহিম বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা ও ফল উন্নয়ন কার্যক্রমে এক অনন্য নাম। ফল চাষের প্রসার এবং উচ্চ ফলনশীল ফলের নতুন জাত উদ্ভাবনে তাঁর যুগান্তকারী অবদান দেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তাঁর গবেষণার মাধ্যমে ১২৮টি ফলের নতুন জাত উদ্ভাবিত হয়েছে, যার মধ্যে জনপ্রিয় BAU কুল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কৃষি গবেষণায় দীর্ঘদিনের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি প্রধানমন্ত্রীর গোল্ড মেডেল (২০০৪, ২০১২ ও ২০১৩), বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক (২০১৪), বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস গোল্ড মেডেল (২০১২), বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচার গোল্ড মেডেল (২০১৬)সহ বহু সম্মাননা অর্জন করেন এবং সর্বশেষ স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন। এছাড়া ২০২৪ সালে তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রথম আলো কৃষি লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন, যা তাঁর দীর্ঘ গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অবদানের স্বীকৃতি বহন করে। পূর্বে তিনি চ্যানেল আই ও আরটিভি আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন।

ড. এম. এ. রহিম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন; পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে পোস্টডক গবেষণা সম্পন্ন করেন। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এবং কৃষি অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিজ্ঞান বিভাগ ফল গবেষণা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উদ্যানতত্ত্ব চর্চায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

একাডেমিক গবেষণায় তিনি ৪০০টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন এবং ২০টিরও বেশি গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করেছেন; পাশাপাশি ১০১ জন পিএইচডি ও ৩৫০ জন এমএস শিক্ষার্থীর গবেষণা তত্ত্বাবধান করেছেন। এছাড়া কৃষি বিষয়ক ১০টি বই, ২৪টি লিফলেট, ১১টি বুকলেট ও ২৯টি ফোল্ডার প্রকাশের মাধ্যমে তিনি জ্ঞান বিস্তারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

অধ্যাপক ড. এম. এ. রহিমের এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সামগ্রিক শিক্ষা ও গবেষণা দর্শনের সার্থকতা প্রমাণ করে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার অত্যন্ত বিনয়ের সাথে তাঁর এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননাকে উদযাপন করছে। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁর এই সাফল্য তরুণ গবেষকদের হৃদয়ে নতুন সম্ভাবনার বীজ বপন করবে এবং তাঁদেরকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে উৎসাহিত করবে।

উল্লেখ্য যে, ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।




ঢাবির জাতীয়তাবাদী আদর্শের সৈনিক সানজিদা ঝুমু: সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী আদর্শের সৈনিক ও জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ যোদ্ধা প্রকৌশলী কাজী সানজিদা ঝুমু রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখে ইতোমধ্যেই আলোচনায় এসেছেন।

তিনি জুলাই আন্দোলনে কারারুদ্ধ নেতা, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিইএবি)-এর সদস্য সচিব প্রকৌশলী কাজী সাখাওয়াত হোসেনের কন্যা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে তিনি মনোনয়নপত্র উত্তোলন ও জমা প্রদান করেছেন।

জাতীয়তাবাদী ছাত্র রাজনীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জেএনজি’র চলমান প্রতিনিধিত্বকে আরও শক্তিশালী করা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয়ে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।




ড্যাব নেতা ডাঃ শামীমের নববর্ষের প্রত্যয়

শেখ ফরিদ উদ্দিন ।। ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি , ড্যাব ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি চাঁদপুর জেলা বিএনপির নেতা প্রফেসর ডাঃ সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে নববর্ষের প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন,
নতুন বছরের প্রথম দিনে সকল শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধু, সহকর্মী ও পরিবারকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।
তিনি আর-ও বলেন,
এবারের নববর্ষ আমাদের সামনে এক বিশেষ সুযোগ নিয়ে এসেছে: নতুনভাবে ভাবার, আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার এবং একসাথে একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলার। বহুদিন পর আমরা সত্যিই এক নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি।
আমাদের সকলের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের উন্নয়নে দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে ডাঃ সরকার শামীম বলেন,
এই সময়টাকে আমরা যদি ইতিবাচকতা, সহমর্মিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কাজে লাগাতে পারি, তবে আগামীর দিনগুলো হয়ে উঠবে আরও উজ্জ্বল ও আনন্দময়। আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ অর্জন করবে সমৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা, ইনশাআল্লাহ।
নতুন বছরে সফলতার প্রত্যয়ে তিনি বলেন,
আসুন, সেই আশাবাদ ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে আমাদের প্রিয় নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সামনে এগিয়ে যাই, এবং নিজের অবস্থান থেকে পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য ভালো কিছু করার অঙ্গীকার করি। নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক সর্বাঙ্গীন শান্তি, সুস্থতা ও সাফল্য।




কুয়াকাটায় জেনিথ ইসলামী লাইফের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্স

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির বিজনেস ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্স-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) আয়োজিত এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেনিথ ইসলামী লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের এক্সিকিউটিভ সদস্য এস এম নুরুজ্জামান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠন প্রধান মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. আবদুল কাদের, মো. হাবিবুর রহমান, মো. তাজুল ইসলামসহ সিনিয়র উন্নয়ন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে অবলিখন বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করেন অবলিখন ও কাস্টমার সার্ভিস বিভাগের এসভিপি ও ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উন্নয়ন প্রশাসন বিভাগের এসভিপি ও ইনচার্জ মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন।




রাজধানীর মগবাজারে ‘স্বপ্ন’র নতুন আউটলেট চালু

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাজধানীর মগবাজারে চালু হলো দেশের অন্যতম রিটেইল চেইন শপ স্বপ্ন-এর নতুন আউটলেট। আজ রবিবার মগবাজার কনভেনশন সেন্টার লিমিটেডে অবস্থিত স্বপ্ন-এর ৮৬৫তম আউটলেটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসিআই লজিস্টিক লিমিটেড-এর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিজনেস ডিরেক্টর সোহেল তানভীর খান, অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর (অপারেশন) সাইফুল আলম রাসেল, হেড অব অপারেশন (বিগ বক্স প্রিমিয়াম আউটলেট) মোঃ কৌশিক রহমান এবং রিজিওনাল হেড অব অপারেশন কামরুজ্জামান স্বাধীন।

মগবাজার কনভেনশন সেন্টার লিমিটেড-এর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেদী হাসান মুন্না ও পরিচালক রাশেদ হাসান সাইফি। এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং অন্যান্য সম্মানিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন এই আউটলেট উদ্বোধন প্রসঙ্গে সোহেল তানভীর খান বলেন, “নগরজীবনের ব্যস্ততার মধ্যে গ্রাহকদের জন্য সহজ, নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত কেনাকাটার অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। মগবাজারে নতুন এই আউটলেট সেই লক্ষ্য পূরণের আরেকটি ধাপ। আমরা বিশ্বাস করি, আধুনিক রিটেইল সেবার মাধ্যমে মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করা সম্ভব, এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকবে।”

আউটলেটটিতে গ্রাহকরা নিত্যপ্রয়োজনীয় গ্রোসারি পণ্য থেকে শুরু করে তাজা ফলমূল, সবজি, মাছ ও মাংসসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির পণ্য এক ছাদের নিচে সহজেই পেতে পারবেন। আধুনিক স্টোর লেআউট, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং দ্রুত সেবার মাধ্যমে এখানে একটি স্বাচ্ছন্দ্যময় কেনাকাটার অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

উদ্বোধন উপলক্ষে গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় অফার ও বিশেষ ছাড় চালু করা হয়েছে, যা কেনাকাটায় বাড়তি আনন্দ যোগ করবে।

স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে মানসম্মত ও আধুনিক রিটেইল সেবা পৌঁছে দিতে তারা ধারাবাহিকভাবে নতুন আউটলেট চালু করে যাচ্ছে।




চুয়েট ও পূবালী ব্যাংক পিএলসির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর সাথে পূবালী ব্যাংক পিএলসির মধ্যকার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় চুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য পূবালী ব্যাংক এর আধুনিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা হবে। এর অংশ হিসেবে পূবালী ব্যাংক চুয়েটের টিএসসি ভবনের নিচতলায় একটি ডিজিটাল ব্যাংকিং বুথ স্থাপন করবে যেখানে ২টি সিআরএম (CRM) এবং একটি করে আরটিডিএম (RTDM) ও কেইওএসকে (KEOSK) সিস্টেম থাকবে। এই ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টা অনলাইন ট্রানজেকশন সুবিধা চালু থাকবে। শিক্ষার্থীরা ব্যাংকের সিআরএম (CRM), আরটিডিএম (RTDM) ও কেইওএসকে (KEOSK) সিস্টেম, অনলাইন ব্যাংকিং এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টিউশন ফি ও অন্যান্য ফি সহজেই পরিশোধ করতে পারবে, ফলে কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হবে না। এছাড়া সকল লেনদেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষিত হবে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের পেমেন্ট হিস্ট্রি দেখতে এবং যেকোনো সময় রিসিপ্ট ডাউনলোড করতে পারবে। একইসাথে ব্যাংক শিক্ষার্থীদের জন্য সিআরএম ডেটার ভিত্তিতে স্টুডেন্ট লোনসহ বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে পারবে। উক্ত বুথে শিক্ষার্থীরা সহজেই ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারবে এবং তাদের আর্থিক লেনদেন আরও দ্রুত ও সুবিধাজনক হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশা প্রকাশ করেছে, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন আর্থিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে এবং ক্যাম্পাসে আধুনিক সেবা ব্যবস্থার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গত ০২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) ২০২৬ খ্রিঃ সন্ধ্যায় চুয়েটের উপাচার্যের কার্যালয়ে আয়োজিত উক্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চুয়েটের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া মহোদয়। চুয়েটের পক্ষ থেকে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন চুয়েটের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির এবং পূবালী ব্যাংক পিএলসির পক্ষ থেকে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন পূবালী ব্যাংক পিএলসির মদুনাঘাট শাখার ব্যবস্থাপক জনাব রশিদুল হাসান ভুঁইয়া। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়েট এর ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল আলম, ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ আবু মোয়াজ্জেম হোসাইন ও অধ্যাপক ড. মোঃ সাইফুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক জনাব মো. মাসুম রানা প্রামাণিক।