আইসিএসবির উদ্যোগে ‘আইপিও ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডিরেক্ট লিস্টিং’ শীর্ষক সিপিডি প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

ঢাকা, ৫ নভেম্বর ২০২৬: ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারীজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি)-এর উদ্যোগে ‘আইপিও ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডিরেক্ট লিস্টিং’ শীর্ষক কন্টিনিউয়াস প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট (সিপিডি) প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে হাইব্রিড প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আইপিও ব্যবস্থাপনা ও ডিরেক্ট লিস্টিং-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বিষয়, নীতিমালা এবং প্রস্তাবিত বিধিমালা সংশোধন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আইসিএসবির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহজাহান এফসিএস। সিপিডি প্রোগ্রামের সেশন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আইসিএসবির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সানাউল্লাহ এফসিএস।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক (সাধারণ) মো. আবুল কালাম। তিনি ডিরেক্ট লিস্টিং রুলস, ২০২৬ এবং পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস, ২০২৫-এর প্রস্তাবিত খসড়া সংশোধনীর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ সময় ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের আওতায় কোম্পানির যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া, ইক্যুইটি সিকিউরিটির মূল্যায়ন, অনুমোদন, আবেদন প্রত্যাখ্যান ও সংশোধন, শেয়ার অফলোডিং এবং আইপিওর আবশ্যকীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আইসিএসবির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহজাহান এফসিএস তাঁর বক্তব্যে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন গঠন ও পুঁজিবাজারের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে আইপিও এবং ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের অপরিহার্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি স্বচ্ছতা, কমপ্লায়েন্স পরিপালন এবং শক্তিশালী করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা ও জ্ঞান বৃদ্ধিতে এ ধরনের সিপিডি প্রোগ্রামের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

টেকনিক্যাল সেশনে আলোচক হিসেবে অংশ নেন ট্রিপল এ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের পরিচালক মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান এফসিএস এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (ডিএসই)-এর রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার ও চিফ রেগুলেটরি অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া এফসিএস। তাঁরা ডিরেক্ট লিস্টিং রুলস, ২০২৬ এবং পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস, ২০২৫-এর প্রস্তাবিত সংশোধনীর বাস্তবায়ন, কমপ্লায়েন্স-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ, সুশাসনের সর্বোত্তম চর্চা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে কোম্পানি সচিবদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা নিয়ে তাঁদের অভিমত তুলে ধরেন।

সেশন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সানাউল্লাহ এফসিএস সমাপনী বক্তব্যে বলেন, পেশাগত উৎকর্ষ অর্জন এবং ধারাবাহিক শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে আইসিএসবি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরিবর্তনশীল পুঁজিবাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গভর্ন্যান্স পেশাজীবীদের দক্ষতা বাড়াতে এ ধরনের সিপিডি প্রোগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও বলেন, আইপিওর প্রস্তুতি, নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিবিধান পরিপালন, পরিচালনা পর্ষদের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, তথ্য প্রকাশ ব্যবস্থাপনা এবং তালিকাভুক্তি-পরবর্তী করপোরেট গভর্ন্যান্স নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চার্টার্ড সেক্রেটারিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। আইপিওর সংখ্যার চেয়ে গুণগত মানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি টেকসই পুঁজিবাজারের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো বিনিয়োগকারীদের আস্থা। এ আস্থা পুনরুদ্ধার ও সুদৃঢ় করতে গভর্ন্যান্স পেশাজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্ব ছিল প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা নতুন বিধিমালা বাস্তবায়নের ব্যবহারিক দিক নিয়ে আলোচকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সিপিডি প্রোগ্রামে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চার্টার্ড ও কোম্পানি সচিব, পরিচালক, করপোরেট নির্বাহী, সুশাসন পেশাজীবী, সিএস প্র্যাকটিশনার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে আইসিএসবির সেক্রেটারি ও সিইও মো. সাব্বিরুল আলম চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইসিএসবির প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট কমিটির (পিডিসি) সদস্য মুন্সী ফাহিমা রহমান এফসিএস। পরিশেষে আইসিএসবির প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট কমিটির মেম্বার-সেক্রেটারি ইসরাত জাহান রিমি এফসিএসের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে সিপিডি প্রোগ্রামের সমাপ্তি ঘটে।




যাত্রাবাড়ী-শনির আখড়া ফুটওভার ব্রিজ এখন মরণফাঁদ: দনিয়া কলেজ ও বর্ণমালার শিক্ষার্থীসহ লাখো মানুষের চরম ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, 
রাজধানীর ব্যস্ততম যাত্রাবাড়ী-শনির আখড়া এলাকার ফুটওভার ব্রিজটি বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ব্রিজের বিভিন্ন অংশের লোহার জয়েন্ট ও সংযোগস্থলের ওয়েল্ডিং ভেঙে যাওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটির এমন জরাজীর্ণ ও বিপজ্জনক অবস্থায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা।সরেজমিনে দেখা গেছে,
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এই ফুটওভার ব্রিজটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অন্যতম ব্যস্ততম অংশে অবস্থিত। এর ঠিক পাশেই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী দনিয়া কলেজ এবং বর্ণমালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকুরিজীবী ও ব্যবসায়ীসহ লাখো মানুষ এই ব্রিজ দিয়ে পারাপার হন। তীব্র গতিতে যানবাহন চলাচলের এই ব্যস্ত সড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে ফুটওভার ব্রিজটি সাধারণ মানুষের জন্য একমাত্র ভরসা।
কিন্তু দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্রিজটির কাঠামোগত নিরাপত্তা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। লোহার গুরুত্বপূর্ণ জয়েন্টগুলো নড়বড়ে হয়ে গেছে এবং অনেক জায়গার ঝালাই (ওয়েল্ডিং) সম্পূর্ণ খুলে গেছে। ফলে মানুষ যখন এর ওপর দিয়ে হাঁটে, তখন পুরো ব্রিজটি বিপজ্জনকভাবে কাঁপতে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা  তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “ব্রিজটির অবস্থা দিন দিন আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। প্রতিদিন ছোট-বড় সবাই, বিশেষ করে দনিয়া কলেজ ও বর্ণমালা স্কুলের শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়েই পারাপার হচ্ছে। এত ব্যস্ত একটি সড়কের ব্রিজের এই দশা সত্যিই নিন্দনীয়। এটি দ্রুত মেরামত করা না হলে যেকোনো সময় বড় কোনো বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে।”
ব্যস্ত এই এলাকার হাজার হাজার ভুক্তভোগী মানুষ অবিলম্বে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। অতি দ্রুত প্রকৌশলীদের মাধ্যমে ব্রিজের সম্পূর্ণ কাঠামোগত নিরাপত্তা পরীক্ষা করে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।




সিলেট অঞ্চলের শাখাসমূহ নিয়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের স্ট্র্যাটেজিক কনক্লেভ অনুষ্ঠিত

সিলেট অঞ্চলের শাখাগুলোর ব্যবসায়িক কৌশল প্রণয়ন এবং গ্রাহকসেবার মান আরও উন্নত করার লক্ষ্যে কৌশলগত সভা (স্ট্র্যাটেজিক কনক্লেভ) আয়োজন করেছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি। গত ৩১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সিলেটের একটি স্থানীয় হোটেলে সরাসরি ও অনলাইন (হাইব্রিড) পদ্ধতিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (এমডি ও সিইও) জনাব মো. এহতেশামুল হক খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, গ্রাহকদের জন্য সেরা আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছে। গ্রাহকসেবার উৎকর্ষ নিশ্চিত করতে তিনি গ্রাহককেন্দ্রিক মনোভাবসহ (ক্লায়েন্ট কেয়ারিং মেন্টালিটি) বেশ কয়েকটি কৌশলগত অগ্রাধিকারের বিষয় তুলে ধরেন।

সভায় সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন শাখার ব্যবস্থাপকরা নিজ নিজ শাখার ব্যবসায়িক কৌশল উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি উন্নত গ্রাহকসেবার মাধ্যমে নির্ধারিত ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে তারা ব্যবস্থাপনাকে আশ্বস্ত করেন।

এ সময় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন ও ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

এছাড়া সভায় বিভিন্ন শাখা ও উপশাখার কর্মকর্তারা, রকেট ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আঞ্চলিক প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অল্টারনেটিভ ডেলিভারি চ্যানেল (এডিসি) সুপারভাইজাররা অনলাইনে অংশগ্রহণ করেন।




এক্সামিনেশন সিস্টেম ‘রি-এক্সামিন’ হবে, শাস্তির আওতায় আসছেন পরীক্ষকরাও

পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশের প্রক্রিয়ায় একাধিক অসংগতি সামনে আসায় পুরো এক্সামিনেশন সিস্টেম পুনরায় পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।  একই সঙ্গে খাতা মূল্যায়নে বড় ধরনের গরমিল পাওয়া পরীক্ষকদেরও শাস্তির আওতায় আনা হবে বলেও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনা মূল্যায়নপ্রক্রিয়ার দুর্বলতা সামনে এনেছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন,  এর আগে এসএসসি পরীক্ষার প্রায় ১৩ লাখ উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষা করা হয়। এতে প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে এবং ৩ হাজার ৭৯ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

এত বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্রে ফল পরিবর্তনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এক্সামিনেশন সিস্টেমকে আবার আমরা রি-এক্সামিন করব।’ যেসব পরীক্ষকের মূল্যায়নে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এক্সামিনারের ট্রেনিং প্রোগ্রাম এবং ভ্যারিয়েশন যারা বেশি দিয়েছে, তাদের জন্য পানিশমেন্টের ব্যবস্থা নেওয়া হবে—সেগুলোরও কাজ চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যাতে করে আমরা আগামী দিনে স্বচ্ছভাবে আমরা পরীক্ষা নিতে পারি এবং আমরা রেজাল্ট ঠিকমতো দিতে পারি এবং অসচ্ছতা কোনো কিছু থাকে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  চান—যে যা করেছে, তার সঠিকভাবে মূল্যায়িত হওয়া। কাউকে যেন অনুৎসাহিত করা না হয়, স্বচ্ছ রেজাল্ট আমাদের দিতে হবে।’

 

বিগত বছরগুলোতে লাখো শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ পেলেও এবার ৪০ হাজারে নেমে আসার কারণ এবং আগের ফলাফল তদন্ত হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি মূলত বলতে পারি যে, আমাদের খাতা দেখায় স্বচ্ছতার জন্য যথাযুক্ত ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি এবং অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সেগুলি নিয়ে আপনাদের ছাত্র-ছাত্রীরা তারা রি-এক্সাম করতে পারে, তখন আগামী দিনে কী হয়েছে সেটা আমরা বলতে পারব।’

তিনি আরও বলেন, ‘লেটস ওয়েট অ্যান্ড সি, আমরা দেখি রি-এক্সামিন করে, যেমন গতবার অনেক রেজাল্ট চেঞ্জ হয়েছে, এবার কী অবস্থা হয়। আমাদের শিক্ষকদের, এক্সামিনারদের কোনো ঘাটতি হয়েছে কিনা, সেটা আমরা দেখি। তো আপাতত আমরা বলতে পারি যে, এই রেজাল্টটি যতটা হয়েছে, যদিও আমরা উদ্বিগ্ন, কিন্তু রেজাল্টে ত্রুটি আছে কিনা সে বিষয়ে আমরা এখনো নির্ধারণ করতে পারিনি। রি-এক্সামিন করার পর বোঝা যাবে।




৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের সব বই সরবরাহের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সব পাঠ্যবই সরবরাহ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। একই সঙ্গে পাঠ্যবই মুদ্রণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মান ও স্পেসিফিকেশন যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেছেন, আগামী বছর থেকে পুরনো মেশিন ব্যবহার করে মুদ্রণকাজ করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আর কাজ দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মাতুয়াইলে বর্ণমালা প্রেস এবং গ্লোবাল প্রিন্টিং ইকুইপমেন্ট পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি মুদ্রণপ্রক্রিয়া, ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, কাগজের মান এবং বইয়ের ছাপার গুণগত মান সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাঠ্যবই মুদ্রণের দায়িত্ব নেওয়ার অর্থ নির্ধারিত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করা। কাজের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকলে তা দরপত্রে অংশগ্রহণের আগেই বিবেচনায় নেওয়া উচিত। মুদ্রণযন্ত্রের সক্ষমতা বা কারিগরি সীমাবদ্ধতার অজুহাতে বইয়ের মানের সঙ্গে আপস করা যাবে না। সরকার যে মানের বই সরবরাহের জন্য কাজ দিচ্ছে, তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।

বইয়ের ছাপার মান যাচাই করতে গিয়ে তিনি কয়েকটি বইয়ে রঙের বিন্যাস ও অ্যালাইনমেন্টের অসংগতি দেখতে পান। এ ধরনের ত্রুটি যেন উৎপাদিত বইয়ের বড় অংশে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন তিনি। পাশাপাশি মুদ্রণকাজের মান নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাঠ্যবইয়ের মান নিশ্চিত করতে শুধু কাজ সম্পন্ন করলেই হবে না, প্রতিটি বই নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী মুদ্রিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। তাই এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা বা নিম্নমানের কাজ গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি সংশ্লিষ্ট মুদ্রণপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সব বই সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আধুনিক ও উপযুক্ত সক্ষমতাসম্পন্ন মুদ্রণযন্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে এনসিটিবি ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা এবং সংশ্লিষ্ট মুদ্রণপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল DMCH অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে পাঁচ হোতা

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে রোগী পরিবহনে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের দৌরাত্ম্য কমাতে চালু করা হয়েছিল বুথভিত্তিক অ্যাপস ব্যবস্থা। উদ্দেশ্য ছিল দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা, ভাড়া নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনা এবং রোগী পরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা।

অভিযোগ উঠেছে, নতুন ওই ব্যবস্থাতেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচল নিয়ন্ত্রণের পুরোনো প্রবণতা পুরোপুরি চালু ছিল। বরং অ্যাপের নির্ধারিত ভাড়ার সঙ্গে সার্ভিস চার্জ, ভ্যাট ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হয়ে রোগীর স্বজনদের ব্যয় বাড়তে থাকে। হাসপাতালকেন্দ্রিক অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ঘিরে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সংগঠনের নেতার নাম বেরিয়ে আসছে। এদের মধ্যে ঢামেক অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি আবুল হোসেন, বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাদল মাতবর, ঢামেক শাখার সাধারণ সম্পাদক ইমন এবং হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সভাপতি আজিম ও সাধারণ সম্পাদক শিপন মিয়ার নাম এসেছে। এই পাঁচজনই নিয়ন্ত্রণ করেন ঢামেক এলাকার অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট।

এদিকে ঢামেকে মঙ্গলবার থেকে ধর্মঘট পালন করছিলেন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা। গতকাল হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মো. ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর ধর্মঘট সাত দিনের জন্য প্রত্যাহার করা হয়।

ঢামেকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই পাঁচজন মিলে ঢামেক হাসপাতালে গত ২ জুলাই থেকে বুথভিত্তিক অ্যাপস ব্যবস্থা চালু করে। এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় শুধু হাসপাতালকেন্দ্রিক বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির গাড়িগুলো। সংগঠনটির অধীনে প্রায় ১৩৬টি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। অ্যাপে দেখানো ভাড়ার সঙ্গে সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাট যোগ করে তারা অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন। এর সঙ্গে হুইলচেয়ার, সাপোর্ট স্টাফ ও বকশিশের নামে বাড়তি টাকাও নেওয়া হয়। আর এই সিন্ডিকেটের বাইরে থেকে তুলনামূলক কম ভাড়ায় অ্যাম্বুলেন্স নেওয়ার সুযোগ তারা বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন রোগীর স্বজনরা।

এক রোগীর স্বজন অ্যাম্বুলেন্সের জন্য বুথে যান। সেখানে অ্যাপে ভাড়া দেখানো হয় ২ হাজার ৩০০ টাকা। এর সঙ্গে সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাট বাবদ আরও ২০০ টাকা যোগ করে মোট ২ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। অথচ আগে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে ঢাকার মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যেত।

জিসান নামে রোগীর স্বজন জানান, ঢামেক থেকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় যেতে অ্যাপে ভাড়া দেখানো হয় ৩ হাজার ৮৬৪ টাকা। সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাট বাবদ আরও ৩৩৬ টাকা যোগ করে নেওয়া হয় ৪ হাজার ২০০ টাকা। বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স নিলে একই পথে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায় যাওয়া সম্ভব।

এক মালিকের অভিযোগ, অ্যাপ পরিচালনাকারীরা মোট ভাড়ার ৮ শতাংশ কমিশন কেটে নেন। আর অ্যাপে গাড়ি অন্তর্ভুক্ত করতে গাড়িপ্রতি ৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়। আবার ওই অ্যাপে যুক্ত না থাকলে ঢামেক থেকে রোগী নেওয়ারও সুযোগ নেই।

জানতে চাইলে ঢামেক অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, আমরা কোনো সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করি না। এখানে হাজার হাজার অ্যাম্বুলেন্স বিনা বাধায় রোগী আনা-নেওয়া করে থাকে।

ঢামেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, সরকারি জায়গায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবসা করার সুযোগ নেই। আর জরুরি বিভাগের সামনে অল্প একটু জায়গায় প্রতিদিন ২০-৩০টি অ্যাম্বুলেন্স ঘোরাঘুরি করছিল, এতে রোগীদের ভোগান্তি হতো এবং অরাজকতা ছিল। তাই আমরা তাদের নিষেধ করে দিয়েছি।

ঢামেক বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমন আলী বলেন, আমি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করি, এর কোনো প্রমাণ কেউই দিতে পারবে না।

জানা যায়, উন্নত ও জরুরি চিকিৎসার আশায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন ঢামেকে ছুটে আসেন হাজারো রোগী ও তাদের স্বজন। তবে এখানে ঢোকা সহজ হলেও রোগী নিয়ে বের হওয়া কঠিন। কারণ অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের হাতে রীতিমতো জিম্মি এ হাসপাতাল। সিন্ডিকেট সদস্যদের অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া অন্য কোনো অ্যাম্বুলেন্স ঢাকা মেডিকেলের রোগী নিতে পারে না। আর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আদায় করা হয় ইচ্ছামতো ভাড়া। গত ১ অক্টোবর ঢামেক থেকে ধানমন্ডির পপুলারে যেতে ভাড়া নেওয়া হয় আড়াই হাজার টাকা। একইভাবে ২ অক্টোবর পল্লবী-১২ পর্যন্ত যেতে ভাড়া ২ হাজার ৮০০ টাকা। একই দিন শ্যামলী পর্যন্ত আরেক ট্রিপের জন্য ভাড়া নেওয়া হয় ২ হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া ঢামেক থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরত্বে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতেও হাজার টাকা ভাড়া আদায়ের তথ্য পাওয়া যায়।

এদিকে ঢামেকে আটটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে দুটি অচল। সচল ছয়টির পাঁচটি সাধারণ এবং একটি আইসিইউ সাপোর্টেড অ্যাম্বুলেন্স। জোরালো তদবির ছাড়া এসব অ্যাম্বুলেন্সের সেবা পাওয়া সাধারণের নাগালের বাইরে। তবে সান্ধ্যকালীন সরকারি চালক-সহকারীরা মিলে রাজধানীর আশপাশে টাকার বিনিময়ে রোগী পরিবহন করে থাকেন বলে জানা গেছে।




ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

মাসিক ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর ব্যস্ততম মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন কয়েকটি পোশাক কারখানার কয়েকশ শ্রমিক। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ ওই চত্বর ও এর আশপাশের সড়কগুলোতে সব ধরনের যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে মিরপুর-১০ গোলচত্বরের মূল সড়কে অবস্থান নেন।

 

পল্লবী ট্রাফিক জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সাজিয়া আফরোজ জানান, সকাল সাড়ে নয়টার দিক থেকে বেশ কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভকারী শ্রমিকেরা সুনির্দিষ্ট কোন কোন কারখানার, তা নিশ্চিত করা যায়নি।

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে বিভিন্ন কারখানার কয়েকশ শ্রমিক বেতন বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে দিতে মিরপুর-১০ নম্বর মোড়ে এসে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা গোলচত্বরের চারপাশের রাস্তা আটকে বিক্ষোভ শুরু করলে যান চলাচল পুরোপুরি থমকে যায়। অফিসগামী যাত্রী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ তীব্র ভোগান্তিতে পড়েন।

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পদক্ষেপ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার বলেন, মাসিক বেতন ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

 

এদিকে মিরপুর ট্রাফিক ডিভিশনের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়, পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট রুটের যাত্রীদের বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।



ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা, অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তবে বিরোধী জোটও সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত আসন পায়নি। ফলে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুই দেশটির অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) পর্যন্ত প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে ইসরায়েলের প্রধান তিনটি সম্প্রচারমাধ্যমের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেতে পারে। এই জোটে রয়েছে ডানপন্থী, কট্টর ডানপন্থী ও অতি রক্ষণশীল ধর্মীয় দলগুলো।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। ফলে আসনসংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেননি নেতানিয়াহু।

নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরব ইসরায়েলিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর অবস্থান। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এসব দল সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে। বিরোধী জোটের পক্ষে সরকার গঠন করতে হলে তাদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়ে ইসরায়েলের অনেক ইহুদি রাজনৈতিক নেতার আপত্তি রয়েছে।

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে আইজেনকট নেতানিয়াহুকে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন রাজনৈতিক চাপের মুখে নতি স্বীকার না করেন।

আইজেনকট বলেন, নেতানিয়াহুর হাতে জনগণের নতুন কোনো ম্যান্ডেট নেই, এমনকি জনগণের আস্থাও নেই। সরকারি কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সংস্থার প্রধানদের নিজেদের অবস্থানে দৃঢ় থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ভোট গণনা শেষ না হওয়ায় আসনসংখ্যার হিসাবে পরিবর্তন আসতে পারে। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর জোট ও বিরোধীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রাথমিক পূর্বাভাসে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন নেতানিয়াহুবিরোধী জোট প্রত্যাশিত ফল পায়নি।

নতুন সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যে পরিস্থিতি অনুযায়ী আগামী বছর আবারও নির্বাচন হতে পারে। এর আগপর্যন্ত নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের গবেষক গাই লুরি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়মিত সরকারের মতোই ক্ষমতা ভোগ করে। তবে কিছু ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তাদের সংযম দেখানোর বাধ্যবাধকতা থাকে।

তাঁর মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতার পরিধি নিয়ে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সরকারের থাকবে।

আইজেনকটও স্বীকার করেছেন, নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে তার আশঙ্কা, নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে দেশের নিরাপত্তার বিষয়টিকে ব্যবহার করতে পারেন।

এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলিদের মধ্যেও ভোট দেওয়ার হার ছিল উল্লেখযোগ্য। দেশটির মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশের বেশি এই জনগোষ্ঠীর।

এর আগে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সক্ষম হওয়া একটি জোট ছোট একটি আরব দলের সমর্থন পেয়েছিল। এবার বিরোধী জোটের আসন প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়ায় সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জয়েন্ট লিস্টের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটির অধিকাংশ ইহুদি রাজনৈতিক নেতা আরব দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোট গঠন থেকে বিরত থেকেছেন।

বুথফেরত জরিপের ফল প্রকাশের পর জয়েন্ট লিস্টের সদর দপ্তরে সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। সেখানে উপস্থিত লোকজন হাততালি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। দলটির প্রার্থী ফাতেন গাত্তাস বলেন, ‘আমরা দখলদারত্ব ও বর্ণবাদ প্রত্যাখ্যান করি। আমরা এখানেই থাকব।’

সরকার গঠনের সমীকরণে আরব দলগুলোর ভূমিকা এবারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে তাদের সমর্থন পেলেও বিরোধী জোট শেষ পর্যন্ত সরকার গঠন করতে পারবে কি না, তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার ওপর।




বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল, শান্তি আলোচনার আশায়

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দুই প্রধান সূচকের দাম নিম্নমুখী হয়েছে। সংঘাতের অবসানে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে এই প্রভাব পড়েছে। তবে বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত বাড়তে থাকায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এখনো কাটেনি।

ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১১৪ ডলার ৫০ সেন্টে নেমেছে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ৪ সেন্ট বা ১ শতাংশ কমে ১০১ ডলার ৭৪ সেন্ট হয়েছে।

এই দরপতনের ফলে আগের দিনের মূল্যবৃদ্ধির একটি অংশ কমে এসেছে। তবে ইয়েমেনসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত তীব্র হওয়ায় তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শান্তি আলোচনার খবরে তেলের বাজারে নিম্নমুখী চাপ তৈরি হলেও স্বস্তি পুরোপুরি স্থায়ী নাও হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সংঘাত বাড়লে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়ে তেলের দাম আবারও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।




ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহরে রূপান্তর করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকাসহ সারা দেশকে পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাজধানী ঢাকাকে জাপানের টোকিও শহরের মতো পরিচ্ছন্ন করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাপানের টোকিওতে হোটেল নিউ ওতানিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ কমিউনিটি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, টোকিওর রাস্তাঘাটে সাধারণত ময়লা-আবর্জনা দেখা যায় না। কিন্তু ঢাকার বিভিন্ন স্থানে আবর্জনা জমে থাকতে দেখা যায়। এ অবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন। বর্জ্য থেকে জীবাণু ছড়াতে পারে। তাই নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সঠিকভাবে বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, বায়ুদূষণ কমানো, পরিবেশের উন্নয়ন এবং বিভিন্ন স্থানে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তায় আবর্জনার কারণে মানুষের চলাচলে যেন ভোগান্তি না হয় এবং দূষিত বাতাসের কারণে মানুষকে যেন অসুস্থ হতে না হয়, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব হলে সেটি বড় ধরনের সংস্কার হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংস্কারের সুফল সমাজের প্রান্তিক ও খেটে খাওয়া মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের উন্নয়নে এমন উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি এমন সংস্কারকে গুরুত্ব দেন, যার সুবিধা দেশের প্রান্তিক মানুষও পান। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয় এমন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রমনা মানুষের সমর্থন পেলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তারেক রহমানের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের উপকারে আসবে এমন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিএনপি সরকারকে বাধাগ্রস্ত করার পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে প্রবাসীদের পরিবারসহ দেশের সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। তাই উদ্যোগগুলোকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলছি না যে বিএনপিকে ভোট দেন। কাজগুলো যদি আপনাদের কাছে সঠিক মনে হয়, তাহলে সমর্থন দেন, যাতে আমরা সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি।’

এ সময় উপস্থিত প্রবাসীরা করতালি দিয়ে তাকে সমর্থন জানান।

তারেক রহমান আরও বলেন, কিছু সংস্কারে সীমিতসংখ্যক মানুষ উপকৃত হতে পারেন। তবে তার অগ্রাধিকার এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা, যাতে সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী লাভবান হয়। এসব কাজ সম্পন্ন করতে পরিশ্রম, ধৈর্য ও ঐক্য প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে বিভিন্ন খাতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তারেক রহমান। শিশুদের জাপানি ভাষা শেখানো, স্বাস্থ্যসেবা ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ করে গড়ে তোলা, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করা, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরা।

অনুষ্ঠানে জাপান বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে আলোকচিত্র উপহার দেওয়া হয়।