জাতীয় প্রেস ক্লাবে কবিতাপত্র পরিষদের কবিতা পাঠের আসর

জাতীয় প্রেস ক্লাব কবিতাপত্র পরিষদের নিয়মিত আসর ৩০ জুন মঙ্গলবার ক্লাবের মওলানা আকরম খাঁ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন কবিতাপত্রের সম্পাদক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাহীন চৌধুরী।
আসরে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি বাংলা একাডেমি পদক’প্রাপ্ত কবি মোহন রায়হান ও কবি ডক্টর মুস্তাফা মজিদ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ‘কবিতা এবং আবৃত্তি’ বিষয়ে আলোচনা করেন কবি ও বাচিকশিল্পী অ্যাডভোকেট শিমুল পারভীন। এর আগে সদ্যপ্রয়াত কবি আল মুজাহিদীর স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আল মুজাহিদীকে স্মরণ করে আলোচনায় অংশ নেন কবি রফিক হাসান।
স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কবি কামার ফরিদ, কবি আবদুল মান্নান, কবি মিলি হক, কবি আবদুল মজিদ, কবি বজলুর রায়হান, কবি কল্যাণ চক্রবর্তী, কবি জয়নাল আবেদীন জয়, কবি মোশাররফ হোসেন ইউসুফ, কবি আতিকুল ইসলাম, কবি নুরুল ইসলাম খোকন, কবি আইয়ুব আনসারী, কবি শ্যামলী মন্ডল, কবি মোজাফফর বাবু, কবি মজিদুর রহমান বিশ্বাস, কবি লিলি শেঠ, কবি দেলোয়ারা ইয়াসমিন, কবি রীনা পন্ডিত, কবি ফারহানা তানিয়া, কবি খান কাওসার কবীর, কবি রাসেল আহমেদ, কবি শরীফ খান দ্বীপ, কবি আশফাকুজ্জামান, কবি আতিকুজ্জামান খান, কবি লিলি হক, কবি শহীদুল জয়, কবি প্রসপারিনা সরকার, কবি দেওয়ান মাসুদা সুলতানা, কবি মো. আবু হানিফা, কবি কুতুবউদ্দিন, কবি চান মিয়া চান্দু, গোলাম মাওলা শিকদার, কবি তাসকিনা ইয়াসমিন, কবি মেহজাবিন হক, কবি সাদিয়া রহমান, কবি আবদুর রব প্রধান, কবি হুমায়ুন কবীর, কবি রাকিব ফরায়েজী প্রমুখ।




পলিসি বিপণনে শীর্ষ ২০ কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করলো ন্যাশনাল লাইফ

পলিসি বিপণনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকারী প্রধান কার্যালয়ের ২০ কর্মকর্তাকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করলো দেশের শীর্ষতম জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসি। বুধবার (১ জুলাই) কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে মে, জুন মাসের প্রিমিয়াম সংগ্রহ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রধান কার্যালয়ের উক্ত কর্মকর্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কোম্পানীর চেয়ারম্যান জনাব তোফাজ্জল হোসেন। বক্তব্য রাখেন কোম্পানীর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ খসরু চৌধুরী, ডিএমডি এন্ড সিএফও প্রবীর চন্দ্র দাস এফসিএ, ডিএমডি মোঃ আবুল কাসেম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ এনামুল হক। অনুষ্ঠানে ডিএমডি বাহার উদ্দিন মজুমদারসহ উর্ধ্বতন নির্বাহীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় কোম্পানীর চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন বলেন ন্যাশনাল লাইফ গ্রাহকের টাকা সর্বোচ্চ সুরক্ষা দিচ্ছে এবং দাবী পরিশোধে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আসছে। বর্তমানে অনেক কোম্পানী যথাসময়ে গ্রাহকের দাবী পরিশোধে ব্যর্থ হলেও ন্যাশনাল লাইফ নির্ধারিত সময়ে গ্রাহকের হাতে দাবীর টাকা পৌঁছে দিচ্ছে।

কোম্পানীর কোম্পানীর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কাজিম উদ্দিন বলেন, যত দ্রæত দাবী পরিশোধ করা হবে তত বেশী বীমা পলিসি বিক্রি হবে এবং কোম্পানীর সুনাম বৃদ্ধি হবে। যার পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাশনাল লাইফের প্রিমিয়াম সংগ্রহের হার বাড়ছে। এ অর্জন কোম্পানীর সকল স্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয় এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফল।




আইডিআরএ’র নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানকে বেঙ্গল ইসলামি লাইফের শুভেচ্ছা

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিনকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে বেঙ্গল ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম মনিরুল আলম এবং চিফ অপারেটিং অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর কবির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং তার সফল কর্মমেয়াদ কামনা করেন।

এসময় আরোও উপস্থিত ছিলেন আইডিআরএ’র সদস্য (প্রশাসন) মো. ফজলুল হক এবং সদস্য (লাইফ) মো. আপেল মাহমুদ।

সাক্ষাৎকালে দেশের বীমা খাতের সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, গ্রাহকসেবা সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর বীমা কার্যক্রম এবং বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বেঙ্গল ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রতিনিধিবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, মীর নাদিয়া নিভিনের দক্ষ নেতৃত্বে দেশের বীমা শিল্প আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও আধুনিক হয়ে উঠবে এবং জনগণের মধ্যে বীমার প্রতি আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে




শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে ‘পুঁজিবাজার পর্যালোচনা’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত।

 


শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুঁজিবাজার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ-সংক্রান্ত জ্ঞান সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে (বিইউ) ‘পুঁজিবাজার পর্যালোচনা: আগামী প্রজন্মের বিনিয়োগকারীদের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক একটি বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল ​বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেটস (BASM)-এর আয়োজনে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি বিজনেস ক্লাব (BUBC)-এর সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রুমে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ব্রি. জে. মো. মাহবুবুল হক (অব.)। ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান ড. মো. মুজাক্কিরুল হুদার সভাপতিত্বে কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএএসএম (BASM)-এর মহাপরিচালক মি. কামরুল আনাম খান, এফসিএমএ (FCMA), ফ্যাকাল্টি মিস নিপা সাহা ( ফ্যাকাল্টি গ্রেড -৩ )এবং মো: সাদ্দাম হোসাইন খান ( ফ্যাকাল্টি গ্রেড -৫ )।

​কর্মশালায় বক্তারা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের কাঠামো, বিনিয়োগের মৌলিক ধারণা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, আর্থিক সচেতনতা এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য দায়িত্বশীল বিনিয়োগের গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
​কর্মশালার একটি বিশেষ সেশনে বিএএসএম-এর ফ্যাকাল্টি মো: সাদ্দাম হোসাইন খান পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ব্যবহারিক দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (IPO) এবং লিস্টিং প্রক্রিয়ার (Listing Process) ধাপসমূহ তুলে ধরেন। এছাড়া, বিনিয়োগের পূর্বে তথ্য বিশ্লেষণ ও ঝুঁকি মূল্যায়নের কৌশল হিসেবে “Three Filter Theory for Calculative Risk Management” এবং শেয়ারবাজারে মূল্য প্রবণতা বিশ্লেষণে ‘টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস’ (চার্ট প্যাটার্ন, ট্রেন্ড অ্যানালাইসিস, সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল) বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক ধারণা প্রদান করেন, যা শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি আর্থিক ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত জ্ঞান শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এ ধরনের কর্মশালা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

​কর্মশালায় আলোচিত বিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বিশেষ কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এবং সঠিক উত্তরদাতাদের আকর্ষণীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়।

​অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে বিশেষজ্ঞদের সাথে সরাসরি মতবিনিময় করেন।




আইডিআরএ চেয়ারম্যানকে পপুলার লাইফের শুভেচ্ছা

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিনকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট বি এম ইউসুফ আলী তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নন্দন ভট্টাচার্য, সিনিয়র ডিএমডি ইমাদ উদ্দিন আহমেদ প্রিন্স, ঊর্ধ্বতন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (জনসংযোগ বিভাগ) আলমগীর ফিরোজ।




আইডিআরএ নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানকে জেনিথ ইসলামী লাইফের শুভেচ্ছা

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছে জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আইডিআরএ কার্যালয়ে এই শুভেচ্ছা জানানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম নুরুজ্জামান। তিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানান এবং তার দায়িত্ব সফলভাবে পালনের জন্য শুভকামনা জানান।




বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমার আয়োজনে চাঁদপুরে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়ন বিষয়ক সাময়িকী ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা’–এর উদ্যোগে চাঁদপুর জেলার এইচএসসি-২০২৫ পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান ও সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জিপিএ-৫ ও কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদপত্র ও শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, মাদকবিরোধী সচেতনতা, সামাজিক অবক্ষয় রোধ এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ বিষয়ে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এ কে এম সালেহ উল্লাহ সেলিম। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার মূল শক্তি। শিক্ষার্থীদের কেবল পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করলেই চলবে না; নৈতিকতা, মানবিকতা, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চার মাধ্যমে নিজেদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “জীবনে সফলতা অর্জনের পেছনে শুধু ব্যক্তিগত মেধা নয়, পরিবার, শিক্ষক ও সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তোমরা আজ যে কৃতিত্ব অর্জন করেছ, তা তোমাদের একার নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাবা-মায়ের ত্যাগ, শিক্ষকদের আন্তরিক পরিশ্রম এবং সমাজের সার্বিক সহযোগিতা। তাই অহংকার পরিহার করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করতে হবে।”

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “উচ্চশিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি শৃঙ্খলাবোধ, সততা এবং নৈতিক মূল্যবোধকে ধারণ করতে হবে। মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং, সাইবার অপরাধসহ সব ধরনের সামাজিক অনাচার থেকে দূরে থেকে নিজেদের যোগ্য, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তোমাদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমার প্রধান সম্পাদক ও বি.পরিক্রমা নিউজ বিডি ডটকমের প্রকাশক-সম্পাদক হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, সৃজনশীল চিন্তাধারা গঠন এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে এগিয়ে নিতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার বিকল্প নেই।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মোহাম্মদ রুহুল্লাহ, সোহেল রুশদী, মোশাররফ হোসেন, সুভাষ চন্দ্র রায়, মুহাঃ মিজানুর রহমান, শরীফ মাহমুদ ফেরদৌস শাহীন, মো. আনোয়ার হাবিব কাজল, বিএম হান্নান এবং ফয়সাল ফরাজী

বক্তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, দেশ ও জাতির অগ্রযাত্রায় তরুণ প্রজন্মকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতি গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমার উপদেষ্টা শেখ মহিউদ্দিন রাসেল

এ সময় জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থীসহ বিপুলসংখ্যক অতিথি উপস্থিত ছিলেন। সংবর্ধনা শেষে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এমন উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও অনুপ্রেরণাদায়ক বলে অভিহিত করেন।




শিক্ষাই জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ: রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমার উদ্যোগে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

রাজশাহী ব্যুরো:

দেশের শিক্ষা, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা মাসিক শিক্ষা-অর্থনীতি বিষয়ক পত্রিকা ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা’-এর উদ্যোগে রাজশাহী বিভাগের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়া, উচ্চশিক্ষা সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করা, নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে উৎসাহ প্রদান এবং শিক্ষা-সংস্কৃতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করার লক্ষ্যে এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করা হয়।

শনিবার (২০ জুন ২০২৬) বিকেল ৩টায় রা

জশাহী মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলার শত শত কৃতি শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের ব্যক্তিত্ব এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, প্রাণবন্ত আলোচনা এবং নতুন প্রজন্মকে ঘিরে আশাবাদের বার্তা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান খান

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. ছায়েদুর রহমান  এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেনরাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. ফয়সল আলম, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আলী আসলাম হোসেন, , রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. ইব্রাহিম আলী, নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শিখা সরকারসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সরকারি কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমার সম্পাদক হারুন অর রশিদ

শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো দক্ষ মানবসম্পদ। প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষিত, মেধাবী ও দক্ষ জনগোষ্ঠী একটি দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। আজ যারা জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, তারা শুধু নিজেদের পরিবার নয়, পুরো দেশের গর্ব। তাদের হাত ধরেই আগামী দিনের বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ ও উন্নত হবে।

তিনি বলেন, “আজকের এই মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতের রাষ্ট্রনায়ক, প্রশাসক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিচারপতি, শিক্ষক, গবেষক ও উদ্যোক্তা তৈরি হবে। তাই তাদের শুধু পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; দেশপ্রেম, সততা, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ আজ প্রযুক্তি, অবকাঠামো, কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হলে নতুন প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে হলে গবেষণা, উদ্ভাবন, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক জ্ঞানভিত্তিক খাতে এগিয়ে যেতে হবে।”

ভালো ফলাফলই শেষ কথা নয়

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, “জিপিএ-৫ অর্জন নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। তবে জীবনের সফলতা কেবল একটি পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না। সফলতার জন্য প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা, সততা, আত্মবিশ্বাস এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা।”

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আজ তোমরা যে সম্মাননা গ্রহণ করছো, তা তোমাদের দায়িত্বও বাড়িয়ে দিয়েছে। তোমাদের অর্জনকে ধরে রাখতে হবে এবং দেশের কল্যাণে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।”

তরুণদের সামনে যেমন সুযোগ, তেমনি চ্যালেঞ্জও রয়েছে

প্রধান আলোচক সাইদুর রহমান খান বলেন, বর্তমান যুগ তথ্য ও প্রযুক্তির যুগ। পৃথিবী এখন একটি বৈশ্বিক গ্রামে পরিণত হয়েছে। নতুন প্রজন্মের সামনে যেমন অসীম সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত হয়েছে, তেমনি তৈরি হয়েছে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, মাদকাসক্তি, সাইবার অপরাধ, জঙ্গিবাদ ও নৈতিক অবক্ষয় তরুণ সমাজের জন্য বড় হুমকি। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নিজেদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না; তাদের মধ্যে নেতৃত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা, গবেষণার মানসিকতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরি করতে হবে।”

শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়

বিশেষ অতিথি প্রফেসর ড. এম. ছায়েদুর রহমান বলেন, “একটি দেশের উন্নয়নের মূল ভিত্তি হলো শিক্ষা। শিক্ষা মানুষকে শুধু কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলে না, বরং তাকে একজন দায়িত্বশীল ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।”

তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখলে হবে না। গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং সামাজিক সমস্যার সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।”

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আলী আসলাম হোসেন বলেন, “মাদক একটি জাতির ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দেয়। তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সমাজের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “তোমরাই পারো মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে। নিজেদের সচেতন রাখো এবং অন্যদেরও সচেতন করো।”

অভিভাবক ও শিক্ষকদের অবদান স্মরণ

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, “একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যের পেছনে পরিবারের ত্যাগ, শিক্ষকদের পরিশ্রম এবং সমাজের সহযোগিতা জড়িত থাকে। তাই এই অর্জন শুধু শিক্ষার্থীর একার নয়; এটি পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরও অর্জন।”

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. ফয়সল আলম বলেন, “ভালো ফলাফল একজন শিক্ষার্থীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও প্রকৃত সফলতা তখনই আসে, যখন সেই জ্ঞান সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজে লাগানো হয়।”

রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. ইব্রাহিম আলী বলেন, “শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু চাকরি পাওয়া নয়; শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো মানুষ হওয়া। একজন শিক্ষিত মানুষ সমাজকে আলোকিত করতে পারে।”

নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শিখা সরকার বলেন, “শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরি করতে হবে। তাহলেই একটি সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।”

কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান। রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় অডিটোরিয়ামজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, এই সম্মাননা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা যোগাবে। তারা দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা কাজে লাগানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

অনেক শিক্ষার্থী জানান, তারা ভবিষ্যতে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, গবেষক, উদ্যোক্তা ও প্রশাসক হিসেবে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে চান।

শিক্ষাবান্ধব সমাজ গঠনের প্রত্যয়

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই হবে না; তাদেরকে দক্ষ, সৃজনশীল, প্রযুক্তিনির্ভর এবং মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতি, খেলাধুলা, সাহিত্যচর্চা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমেও তাদের ব্যক্তিত্ব বিকশিত করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং উৎসাহ প্রদান করলে তারা ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জনে উদ্বুদ্ধ হবে। তাই রাষ্ট্র, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমকে একযোগে কাজ করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

অনুষ্ঠানে বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমার এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করবে এবং তাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় অনুপ্রেরণা জোগাবে।

আয়োজকরা জানান, দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা, শিক্ষা-সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানো এবং শিক্ষাবান্ধব সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

পরে দেশের সমৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে স্মৃতিচারণমূলক ফটোসেশন অনুষ্ঠিত হয়।

রাজশাহীর শিক্ষাঙ্গনে আয়োজিত এই বৃহৎ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুধু মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মানিত করাই নয়, বরং শিক্ষা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্ববোধসম্পন্ন একটি নতুন প্রজন্ম গঠনের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে। শিক্ষাবিদদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ আগামী দিনের নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং তরুণ সমাজকে দেশগঠনের কাজে আরও বেশি সম্পৃক্ত করবে।




২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে: শিক্ষামন্ত্রী

২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সেই সঙ্গে ২০২৮ সাল থেকে শিক্ষা কারিকুলাম পরিবর্তন করা হবে বলেও জানান তিনি।

আজ বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আপনি যদি ভিন্নভাবে চিন্তা করেন, তাহলে এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ৪০ লাখ শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হয়। আমাদের অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে, এটি দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে পিছিয়ে দেয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এই সময়কে সমন্বয় করা। আমরা সেই চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, সেই কারণে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা আমরা জানুয়ারি মাসে নেব। যদিও সেটিকে আমরা আরও কিছুটা পিছিয়ে নিতে পারতাম। কিন্তু রোজার কারণে আমরা অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক সব স্টেকহোল্ডারের মতামত নিয়েছি। তারা বলেছেন, রোজা ও ঈদের আগেই পরীক্ষা শেষ হওয়া ভালো। সেজন্য আমরা সবার মতামতের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষায় নকল ও প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় যদি কোনো শিক্ষার্থীর কাছে নকল পাওয়া যায়, তবে তাকে ডিটেনশনে বা আইনের আওতায় আনা হবে। একইসঙ্গে কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল পাওয়া গেলে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কেন্দ্র প্রধানকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, এখন আর আগের মতো নকল নেই, তবে নকলের রূপ পরিবর্তন হয়েছে। সেজন্য পুরোনো ‘পরীক্ষা আইন’ সংশোধন করে বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। নকল ও প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর আক্তারুজ্জামান এবং সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার উপস্থিত ছিলেন।




ভাষাসৈনিক শেখ মুজাফ্ফর আলীর ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

চাঁদপুর প্রতিনিধি, চাঁদপুর চাঁদপুরের:ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মুজাফ্ফর আলীর ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী ১৬ জুন পালিত হয়েছে। এই উপলক্ষে ঐদিন বাদ জোহর জেলা পরিষদ মসজিদে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। মিলাদ ও দোয়ার আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম সলিম উল্যা সেলিম, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কবির হোসেন সরদারসহ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ এবং বিভিন্ন মুসল্লীবর্গ।
২০১১ সালের এই দিনে তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ইন্তেকাল করেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে চাঁদপুর পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এ ছাড়াও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শেখ মুজাফ্ফর আলী-আংকুরেন্নেছা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে তার পরিবারের সদস্য, শুভানুধ্যায়ী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।

শেখ মুজাফ্ফর আলী ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। দেশপ্রেম, সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও মানবিক গুণাবলীর জন্য তিনি সর্বমহলে একজন সজ্জন ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তার মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া চাওয়া হয়েছে।