Home খেলাধূলা মহা নয়, প্রত্যাশা আরেকটি মুশফিক ঝড়ের

মহা নয়, প্রত্যাশা আরেকটি মুশফিক ঝড়ের

56
0
SHARE

বিশ্ববিদ্যায়ল পরিক্রমা ডেস্ক : বাংলাদেশের ‘মোস্ট ডিপেন্ডেবল ব্যাটসম্যান’ বললে যিনি চোখের সামনে ভেসে ওঠেন, তিনি মুশফিকুর রহিম। তিনি যেমন বাংলাদেশের অনেক ম্যাচ জয়ের নায়ক, তেমনই কয়েকটি ম্যাচ হারের খলনায়কও। ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের কাছে ১ রানের হার তারই ভুলে। ৩ বছর পর সেটার দায়মোচন দিল্লির প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বেশ ভালোভাবেই করলেন মুশফিক। তাতে ভারতের মাটিতে প্রথমবার ভারতকে হারায় বাংলাদেশ। ঘূর্ণিঝড় ‘মহা’র চোখ রাঙানি পেছনে ফেলে বৃহস্পতিবার রাজকোটেও একই মুশফিককে দেখার প্রত্যাশা। দেশে নানা ইস্যুতে টালমাটাল ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গন। খেলোয়াড়দের আন্দোলনের পর সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞা ও পারিবারিক কারণে সিরিজ থেকে তামিম ইকবালের সরে দাঁড়ানোয় টপ অর্ডার নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছিল বাংলাদেশ। ভারত যাওয়ার একদিন আগে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান মাহমদউল্লাহ। এই অবস্থায় ভারতের মাটিতে সাফল্য পাওয়া আকাশ-কুসুম কল্পনা ছাড়া আর কী! কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, বাংলাদেশ জিতে শুরু করেছে সিরিজ। প্রথম ম্যাচের পর টপ অর্ডার নিয়ে দুশ্চিন্তা চাইলে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। শুরুতে লিটন দাস বিদায় নিলেও সৌম্যর সঙ্গে তরুণ মোহাম্মদ নাঈম দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন। এরপর বাকি কাজটুকু সারেন অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যান মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। যদিও এর সিংহভাগ কৃতিত্ব মুশফিকের। তার ৪৩ বলের অপরাজিত ৬০ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসে ভর করে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার রাজকোটের সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও একই ইনিংস খেলতে হবে। তাতে হয়তো সিরিজ জয়ের আনন্দে মাতোয়ারা হতে পারবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের মিডল অর্ডারের নির্ভরতার প্রতীক মুশফিক। বড় টূর্নামেন্টে সব সময়ই তার ব্যাট সক্রিয় থাকে বেশি। এমনিতেই ভারতকে পেলে জ্বলে ওঠেন তিনি। গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বলছে সেই কথা। সব ফরম্যাটেই ভারতের বিপক্ষে মুশফিক বড় ভূমিকা রেখেছেন। কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে তার হাফসেঞ্চুরি পাঁচটি, যার দুটিই ভারতের বিপক্ষে; ৯ ম্যাচে ২ হাফসেঞ্চুরিতে তার রান ২২৫। গড় ৪৫ ও ১২২.২৮ স্ট্রাইক রেটে মুশফিক এই রান করেছেন। গত বছর নিদাহাস ট্রফিতে ভারতের বিপক্ষে অপরাজিত ৭২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন মুশফিকএছাড়া চার টেস্টের সাত ইনিংসে ভারতের বিপক্ষে মুশফিকের রান ৫৬.১৬ গড়ে ৩৩৭। টেস্টে ভারতের বিপক্ষে দুটি সেঞ্চুরি আছে তার। ওয়ানডেতে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিক। ২২ ম্যাচে এক সেঞ্চুরি ও ৩ হাফসেঞ্চুরিতে ভারতের বিপক্ষে তার রান ৩৪.৮৮ গড়ে ৬২৮। এমন সাফল্যের জন্য মুশফিককে ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি ‘রান মেশিন’ আখ্যা দিয়েছেন। বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে এক সাক্ষাৎকারে মাশরাফি বলেছিলেন, ‘মুশফিক এখন বাংলাদেশের রান মেশিন। গত দুই তিন বছর ও যেভাবে রান করেছে, তা অনন্য, অসাধারণ। বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানরা এভাবে খেলে। তবে তেমন আলোচিত হয় না, এটা হয়তো ওর জন্য ভালো। আশা করি, ও যেভাবে দলের জন্য খেলে যাচ্ছে, এভাবেই খেলে যাবে।’ ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে মুশফিকের ওয়ানডে অভিষেক হয়। ওই বছরের ডিসেম্বরে তার টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়। অন্যদিকে ২০০৫ সালে ক্রিকেটের মক্কাখ্যাত লর্ডসে ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণে অভিষেক হয় মুশফিকের। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুতে কিছুটা সমস্যায় পড়লেও ধীরে ধীরে বাংলাদেশ দলের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। এটা সম্ভব হয়েছে মুশফিকের পরিশ্রমের কারণে। কীভাবে কঠোর পরিশ্রম একটা মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে তার জ্বলন্ত উদাহরণ তিনি। পরিশ্রম আর একাগ্রতা দিয়ে টেকনিক্যালি ও টেম্পারামেন্টে দেশের সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের নাম লিখিয়েছেন মুশফিক। বাংলাদেশের সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল তাইতো মুশফিকে মুগ্ধ, ‘আমার ছেলেকে যদি আমি ক্রিকেটার বানাই বা সে যদি ক্রিকেটার হতে চায়, তবে আমি তাকে মুশফিককে অনুসরণ করতে বলবো।’ ২০০৯ সালে মুশফিক অধিনায়ক সাকিবের ডেপুটির দায়িত্ব পান এবং ২০১১ সালে হন অধিনায়ক, সেই দায়িত্বে ছিলেন ২০১৪ সাল পর্যন্ত। তার অধীনে বাংলাদেশ অনেক সাফল্য পায়, এর মধ্যে রয়েছে ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলা। তবে সমালোচিতও কম হননি, বিশেষ করে কিপিং নিয়ে। তবে সব সমালোচনার জবাব তিনি ব্যাট হাতেই দেন। এই তো বেঙ্গালুরুতে, কলম্বো কিংবা ঢাকাতে হারের বেদনায় নীল হওয়া মুশফিক দিল্লির ২২ গজে ব্যাট হাতেই জানান দিয়েছেন তিনি রাজত্ব করতেই এসেছেন! আজ হয়তো রাজকোটের ২২ গজে আরও একবার তার রাজত্ব দেখার সুযোগ পাবে ক্রিকেট বিশ্ব!

image_pdfimage_print