Home ক্যাম্পাস খবর ড. এহছানুল হক মিলনের হাতে শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়

ড. এহছানুল হক মিলনের হাতে শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়

2
0
SHARE

কল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক সফল শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। কে হচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী আর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী – তা নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে দেশব্যাপী নানা গুঞ্জন চলছিলো। ড. মিলন দায়িত্ব পাওয়ায় সেই গুঞ্জনের অবসান ঘটলো। সদ্য গঠিত মন্ত্রিসভায় তিনি একক হাতে শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয় সামলাবেন।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। শপথের পরপরই ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি জানা যায়। বিএনপির মিডিয়া সেলের তালিকাতেও ড. মিলনের নামের সঙ্গে শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়ের নাম আছে।

এর আগে আজ সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। তখন মন্ত্রিসভায় ডাক পাওয়ার তথ্য ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং তাঁর স্ত্রী ও জাতীয়বাদী মহিলা দলের নেত্রী নাজমুন নাহার বেবি দৈনিক আমাদের বার্তাকে খরবটি নিশ্চিত করেছিলেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। তিনি পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আবু নসর আশরাফী পান ৬৭ হাজার ৭৭ ভোট। ১১০টি ভোটকেন্দ্রের সবগুলোর ফল ঘোষণা করা হয়।

এর আগে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নকল প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছিলেন তিনি। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় নকলবিরোধী অভিযান জোরদার হয় এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরে আসে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার মানোন্নয়ন, কারিগরি ও উচ্চশিক্ষায় আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেবেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী। পাশাপাশি পাঠ্যক্রম বাস্তবায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি অগ্রাধিকার দেবেন বলে জানা গেছে।

দায়িত্ব পাওয়ার পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ড. মিলন বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে তিনি সবার সহযোগিতা চান। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে একটি আধুনিক, মানবিক ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য।

২০০১-২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে বিএনপি জোট সরকারের আমলে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এই সরকারের আমলেই বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের জন্য ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এই সংস্থাটি প্রথমে শুধু শিক্ষক নিবন্ধন সনদ দিতো। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে এনটিআরসিএ শিক্ষক শূন্যপদে নিবন্ধন সনদধারীদের সুপারিশের দায়িত্বও পায়। এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষক পদে নিয়োগ সুপারিশে স্বচ্ছতা আসে।

এ ছাড়াও ড. মিলন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকার সময় পুরানো বিভাগ বা শ্রেণি (১ম, ২য়, ৩য়) পদ্ধতি রহিত করে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে জিপিএ-সিজিপিএ পদ্ধতি চালু করা হয়েছিলো। ২০০১-২০০৩ সময়কালে মাধ্যমিক পর্যায়ে জিপিএ পদ্ধতি চালু হয়েছিলো। পরে এই পদ্ধতি সংস্করণ করা হয়েছিলো।

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ মার্চ চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং গভ. ইন্টারমিডিয়েট টেকনিক্যাল কলেজ (বর্তমান সরকারি বিজ্ঞান কলেজ) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন।

এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক সম্পন্ন করে ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে যুক্তরাষ্ট্রে যান। তিনি নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ব্রুকলিন কলেজ এবং বোরো অব ম্যানহাটন কমিউনিটি কলেজে সহকারী প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কর্মজীবনে ওষুধ শিল্পে রসায়নবিদ হিসেবে কাজ করেন।

২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার গবেষণাপত্রের মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ভূমিকা।

মিস্টার মিলন ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দের সাধারণ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক।

২০০১ খ্রিষ্টাব্দে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। যাতে তিনি আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগীরকে পরাজিত করেছিলেন।

image_pdfimage_print