

পরিক্রমা ডেস্ক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘কবি-অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ট্রাস্ট ফান্ড’-এর উদ্যোগে কবি-অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান স্মারক বক্তৃতা আজ ২৭ অক্টোবর ২০২২ বৃহস্পতিবার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল বাছির বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। ‘রোকেয়া-মানস ও অবরোধবাসিনী’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ড. বেগম আকতার কামাল। স্বাগত বক্তব্য দেন ট্রাস্ট ফান্ডের দাতা মিসেস রাশিদা জামান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন রেজিস্ট্রার প্রবীর কুমার সরকার।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান প্রয়াত অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, তিনি যেমন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য শিক্ষক ছিলেন, তেমনি একজন বিদগ্ধ গবেষক, খ্যাতিমান গীতিকার, প্রাবন্ধিক, কবি ও গল্পকার ছিলেন। সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতিসহ সাহিত্য অঙ্গণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। উপাচার্য স্মারক বক্তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নারী অধিকার, নারী নেতৃত্ব, নারী ক্ষমতায়ন ও নারী সমাজের উন্নয়নে বেগম রোকেয়া সবসময়ই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন। বেগম রোকেয়া এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান-এর মূল্যবোধ ও দর্শন ধারণ করে শিক্ষা, জ্ঞান ও গবেষণায় এগিয়ে যাওয়ার জন্য উপাচার্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
অধ্যাপক ড. বেগম আকতার কামাল তার স্মারক বক্তৃতায় বলেন, নানা প্রতিকূল পরিবেশেও একজন সমাজকর্মী নারী হিসেবে মেয়েদের স্কুল প্রতিষ্ঠা ও নারীকল্যাণ সংস্থা পরিচালনার মতো কাজ করে বেগম রোকেয়া অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। তৎকালীন মুসলমান সমাজের জাগরণ ও অগ্রগতির ধারাবাহিক প্রবাহের সঙ্গে নিজের সংযোগ স্থাপনে বেগম রোকেয়ার স্বকীয়তা ও ভূমিকা এদেশের মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে চিরকাল স্মরণ করবে।
উল্লেখ্য, বিশিষ্ট কবি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের প্রয়াত অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ১৯৩৬ সালের ১৫ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০৮ সালের ২ সেপ্টেম্বর ইন্তেকাল করেন।