
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, পরীক্ষা মুখ্য নয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন মুখ্য বিষয়। আমরা দক্ষ যোগ্য মানুষ তৈরি করতে চাই। যে মানুষের কথা বলেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমরা সেই রকম সোনার মানুষ গড়তে চাই, যারা সুনাগরিক হবে, বিশ্বনাগরিক হবে। সেজন্য আমরা আমাদের পড়াশোনাটাকে একটু বদলাতে চেষ্টা করছি। এজন্য অনেক বাবা-মা আমার ওপর একটু রাগ হচ্ছেন।
তারা বলছেন, পরীক্ষা কমিয়ে দিলে তো আমাদের ছেলেমেয়েরা ভালো শিখবে না। শুধু পরীক্ষা দিয়ে তো ভালো শেখা হয় না। গবেষণা বলছে, যেখানে যে দেশে শিক্ষার মান যত উন্নত। সেখানে সে দেশে পরীক্ষার চাপ তত কম। পরীক্ষা নেই তার মানে এই নয় যে আমি শিখছি না।
সম্প্রতি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে উত্তরবাংলা কলেজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
স্থানীয় এমপি এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান আহমেদের সভাপতিত্বে এসময় বিশেয অতিথির বক্তব্য রাখেন-জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড মশিউর রহমান, কলেজ প্রতিষ্ঠা ডক্টর মোজাম্মেল হক। বক্তব্য রাখেন-জেলা প্রশাসক আবু জাফর, পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ সরকার, কাকিনা ইউপি চেয়ারম্যান তাহির তাহু প্রমুখ।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার সারাদেশে যে তিনটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছে তার মধ্যে লালমনিরহাটে ও একটি করেছে সে কারণে লাল করে হাটবা সেই সৌভাগ্যবান এভিয়েশন এবং এরোপ্লেস বিশ্ববিদ্যালয়টি লালমনিরহাটে করা হয়েছে।
ডাঃ দীপু মনি বলেন, পরীক্ষা না হলেও প্রতিদিনই মূল্যায়ন হতে থাকবে। এজন্য দরকার দক্ষ শিক্ষক। সেজন্য আমরা শিক্ষক প্রশিক্ষণে মনোনিবেশ করেছি।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাটা হতে হবে আনন্দময়। আমাদের জীবন থেকে আমাদের শিক্ষা জীবন থেকে আনন্দটা একদম উঠে গেছে। সারাক্ষণ পড়া, সারাক্ষণ পড়াসারাক্ষণ পড়া। সারাক্ষণ কোচিং আর পরীক্ষা।
মন্ত্রী বলেন, শুধু পরীক্ষা নির্ভর, সনদ সর্বস্ব শিক্ষা আর নয়। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা দক্ষ ও যোগ্য মানুষ হবে। শিক্ষা হবে আনন্দময়। যে শিক্ষা অর্জন করবে, যে জ্ঞান অর্জন করবে তা প্রয়োগ করতে শিখবে। এবং মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হয়ে উঠবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে দেশকে। যে সোনার মানুষ হওয়ার স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখেছেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা ২০৪১ সালের মধ্যে যে সমৃদ্ধশালি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন সেটি নিশ্চিত হবে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে।
ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অর্জনে। আমাদের টেকসই উন্নয়নের লক্ষে যে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার আছে। তা বাস্তবায়নে এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লব যে আসছে তা অর্জনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নিজেদেরকে দক্ষ করে তুলে আমরা এই দেশটিকে এই স্বপ্নের জায়গায় নিয়ে যাব।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে শিক্ষাকে সংখ্যার দিক থেকে একটা ভালো জায়গা এনেছি। শতকরা ৯৯ ভাগ শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষার জন্য আসে। ঝরে পড়ার হার কমে গেছে। মাধ্যমিকেও ঝরে পড়ার হার কমে গেছে। আমরা সবাইকে নিয়ে আসতে পেরেছি শিক্ষার আওতায়।
তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনী নির্বাচনী ইশতেহারে শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছিলেন তার মধ্যে অন্যতম লক্ষ্য ছিল শিক্ষার সকল পর্যায়ে মান অর্জনকরা। সেই মান অর্জনে আমরা কাজ করছি। আমরা নতুন শিক্ষা কারিকুলাম তৈরি করেছি, প্রাক প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকে। এবং আমরা চাচ্ছি সেখানে আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু নয় জ্ঞান সাথে দক্ষতাও শিখবে। দক্ষতা অর্জন করবে সফট স্কিল শিখবে। যোগাযোগের দক্ষতা। আমরা অনেক কথা বলতে পারি, কিন্তু বোঝাতে পারি কিনা সে বিষয়ে আমাদের সমস্যা আছে।