
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ ‘ (Risk-E-Shape)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আজ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (সোমবার) দুর্যোগ, স্বাস্থ্য ও জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা বিষয়ে এক দিনব্যাপী তথ্য দিবস ও সিমুলেশন ড্রিলের আয়োজন করে। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নীতিনির্ধারক, অনুশীলনকারী, জরুরি প্রতিক্রিয়া কর্মী, শিক্ষার্থী এবং কমিউনিটির সদস্যদের মধ্যে দুর্যোগ ঝুঁকি, স্বাস্থ্যগত প্রভাব ও জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা বিষয়ে সচেতনতা ও প্রস্তুতি জোরদার করা।
কর্মসূচির উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তৈয়েবুর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. নায়িম সুলতানা, অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য—এই তিনটি বিষয় অত্যন্ত জটিল এবং পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে ব্যক্তি ও কমিউনিটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সামাজিক স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখা বর্তমান সময়ের একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, বন্যা, ভূমিকম্প কিংবা মহামারির মতো পরিস্থিতিতে বিদ্যমান স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও জরুরি সেবাগুলো প্রায়ই অপর্যাপ্ত হয়ে পড়ে—যা আমরা বাস্তবে বারবার প্রত্যক্ষ করেছি। তিনি উল্লেখ করেন, ‘জওঝক-ঊ-ঝঈঅচঊ’ প্রকল্প দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত করার একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ।
অধ্যাপক মামুন আহমেদ আরও বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ও অভিজ্ঞতা স্বাস্থ্যনীতি উন্নয়ন, সমন্বিত ও অংশগ্রহণমূলক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দেশীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি ‘হোম-গ্রোন’ মডেল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি দুর্যোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মী, উদ্ধারকারী, নীতিনির্ধারক ও কমিউনিটির মধ্যে সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ, সিমুলেশন ড্রিল এবং একাডেমিক ও সার্টিফিকেট কোর্স চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, তথ্য দিবসটি একটি বিস্তৃত সচেতনতা ও সম্পৃক্ততামূলক কর্মসূচি হিসেবে পরিচালিত হয়। এতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্য খাতের সরকারি প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)সহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ অধ্যয়ন, জনস্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও উন্নয়ন বিষয়ক বিভাগগুলোর শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে একটি নিরাপত্তা ও ভূমিকম্প নির্বাসন সিমুলেশন ড্রিল অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় এ ড্রিলে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। বহিরাগত স্টেকহোল্ডার হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, জরুরি চিকিৎসা সেবা এবং অন্যান্য জরুরি প্রতিক্রিয়া দলের প্রতিনিধিরা যুক্ত ছিলেন।
ড্রিলটি জরুরি প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া প্রোটোকল বিষয়ক একটি প্রযুক্তিগত ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে শুরু হয়। পরবর্তীতে সরিয়ে নেওয়া ও সমন্বিত প্রতিক্রিয়ার সরাসরি সিমুলেশন পরিচালিত হয়। শেষে একটি প্রতিফলন অধিবেশনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা তাদের অভিজ্ঞতা ও শেখা বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেন।





