
পরিক্রমা ডেস্ক : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেছেন, রূপকল্প ২০-২১ এর সকল সূচক অর্জনের মধ্যদিয়ে লক্ষ্যমাফিক এগিয়েছে দেশ। প্রথম রূপকল্পে আমরা উল্লেখ করেছিলাম ২০১০ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হবে, সেখানে ২০১৫ সালের মধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি। মধ্যম আয়ের দেশ মানে- তখন মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ ছিল ১২৭৩। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলগুলোতেও আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও সহায়তায় লিঙ্গ সমতার লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। দেশটা লক্ষ্যমাফিক এগিয়েছে।
বুধবার বিকালে রাজধানীর শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ের ২০২৩ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
শিক্ষার্থী উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমরা এখন কলেজ জীবনে প্রবেশ করবে। জীবনের আরেকটি পর্যায়ে পৌঁছাবে। যেখানে তোমাদের জীবনের পরিধি আরও প্রসারিত হবে। সুযোগের জানাল খুলে যাবে তোমাদের।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, আমরা দেখেছিলাম ২০১০ সালে যেখানে মাথাপিছু আয় দুই হাজার ডলার হবে, ২০২১ সালে সেটি ২৩৭০ ডলার হয়েছিল। অর্থাৎ যা যা আমরা পরিকল্পনায় লিখেছিলাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও সহায়তায় সব সূচকই আমাদের অর্জিত হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশ। এসব অর্জনগুলো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখানে প্রাাইমারি থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীদের সংখ্যাই বেশি। বাংলাদেশের জন্য এটা বড় অর্জন এবং উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ১০ হাজার কোটি টাকার একটি ট্রাস্ট ব্যাংক করেন দরিদ্র ছাত্রীদের জন্য। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে পারবেন এই ট্রাস্ট থেকে সহায়তা নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ১০০ ছাত্রের মধ্যে ৬৭ জনই ছাত্রী। এক্ষেত্রে আমরা চাচ্ছি ২০২৫ সালের মধ্যে এ সংখ্যা আরও এগিয়ে যাক। সে লক্ষ্যেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আর প্রাইমারি শিক্ষার ক্ষেত্রেও আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। ২০১৩ সালেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ হাজার ১৬৫টি প্রাইমারি প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করেন, এক লাখ ৫ হাজার প্রাইমারি শিক্ষককে জাতীয়করণ করেন এবং প্রাইমারি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা শিক্ষকদের ১৩ বেতন স্কেলে নিয়ে আসি। দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা দেয়া হয় প্রধান শিক্ষকদেরও। এসবই এ সরকার আমলে।
বিদায় অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবু আহমেদ মন্নাফী। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিদায় কেউই দিতে চায় না, বিদায় নেয়াও যায় না। বিদায় একটাই সেটা আল্লাহর ডাকে। ১০টি বছর তোমরা এ স্কুলে পড়েছ, এ স্কুলটাকে ভুলে যাওয়া কঠিন। এ স্কুলেই পড়াশুনা করেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটা অনেক গর্বের ব্যাপার। আমরা গর্ব করি।
অনুষ্ঠানের সভাপতি করেন শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন।