Home ব্রেকিং ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের যুগে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে সংলাপ

ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের যুগে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে সংলাপ

67
0
SHARE

ঢাকা, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬:
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) আজ ‘ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের যুগে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে গণমাধ্যম, একাডেমিয়া, সাংবাদিকতা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে অধ্যাপক বুলবুল সিদ্দিকী বলেন, আমরা এমন এক সময়ে বসবাস করছি, যেখানে তথ্যের প্রাচুর্য থাকলেও সত্যের সংকট দিন দিন গভীরতর হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং দ্রুতগতির সংবাদ পরিবেশে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন শুধু বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে না, বরং গণমাধ্যমের ওপর জনগণের আস্থা দুর্বল করছে, সামাজিক বিভাজন বাড়াচ্ছে এবং সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

ড. এস এম রেজওয়ান উল আলম একাডেমিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, সরকার ও জনগণের মধ্যে বিশ্বাস পুনর্গঠনের জন্য মিডিয়া লিটারেসি জোরদার করা জরুরি। তিনি এ ক্ষেত্রে সরকার, জনগণ ও সিভিল সোসাইটির সম্মিলিত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইফুল হক বলেন, ভুল ও অপতথ্যের বিস্তার রোধে সত্য অনুসন্ধানের প্রতি আমাদের আরও মনোযোগী হতে হবে। তিনি ডিজিটাল লিটারেসি বৃদ্ধির পাশাপাশি ভুল তথ্য শনাক্তকরণে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

সাংবাদিক ও বিশ্লেষক শাহেদ আলম বলেন, সাংবাদিকতা ও অ্যাক্টিভিজমের ক্ষেত্রে নৈতিক সাংবাদিকতার ভিত্তিকে অ্যাক্টিভিজমে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। তথ্য ও ছবির সত্যতা যাচাইসহ কার্যকর ফ্যাক্ট-চেকিং পদ্ধতি শক্তিশালী করার মাধ্যমে ভুল তথ্য মোকাবিলা করা সম্ভব বলে তিনি মত দেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি জোবায়ের বাবু বলেন, বর্তমানে গণমাধ্যমের অপব্যবহার করে একটি মহল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে, যার ফলে মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। তিনি ফুটেজ, ভিডিও ও অডিও টেম্পারিং এবং এআই-ভিত্তিক বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট মোকাবিলায় ফ্যাক্ট-চেকিং সেবা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান এবং এ ক্ষেত্রে সরকারের নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, সত্য ও মিথ্যার সংমিশ্রণে তথ্য প্রচার সমাজের জন্য একটি গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। তিনি এ সংকট মোকাবিলায় দক্ষ ও দায়িত্বশীল পেশাজীবী তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে।

image_pdfimage_print