Home রাজনীতি ‘গো এহেড’ কমান্ডের মাধ্যমে জিয়া সরাসরি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে নির্দেশ দিয়েছিলঃ ঢাদসিক...

‘গো এহেড’ কমান্ডের মাধ্যমে জিয়া সরাসরি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে নির্দেশ দিয়েছিলঃ ঢাদসিক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস

48
0
SHARE

‘গো এহেড’ কমান্ডের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান সরাসরি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে নির্দেশ দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ঢাদসিক) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

আজ বুধবার (২৫ অগাস্ট) দুপুরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বংশাল থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে মেয়র ঢাদসিক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস এই মন্তব্য করেন।

ঢাদসিক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, “খুনি কর্নেল রশিদ, খুনি ফারুক রহমান কুমিল্লায় গিয়ে খুনি মোশতাকের সাথে সাক্ষাৎ করে এই ষড়যন্ত্র করেছিল। তারপর ১৯৭৫ সালের মার্চ মাসে সেনানিবাসে জিয়াউর রহমানের বাসায় গিয়ে এই কাজে জিয়াউর রহমানকে সম্পৃক্ত করেছিল। জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হয়েও সেদিন হত্যাকারীদের বলেছিলে – – ‘গো এহেড’। সেনা নীতিমালায় যখন একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কোন অধস্তন কর্মকর্তাকে বলে – গো এহেড, তার মানে এটা একটা নির্দেশ, এটা কমান্ড এবং অধস্তন কর্মকর্তা সেটা পালন করতে বাধ্য থাকে। তাই জিয়াউর রহমান সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিল – – রাষ্ট্রপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করতে। সুতারাং জিয়াউর রহমান খুনি, তিনি খুনের সাথে জড়িত।”

জিয়াউর রহমানের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে, সে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত উল্লেখ করে ঢাদসিক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, “একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যখন জানতে পারলো, অধস্তন কর্মকর্তারা রাষ্ট্রবিরোধী কাজে লিপ্ত হবে, রাষ্ট্রপতিকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে, প্রচেষ্টা করছে – – তখন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্ব ছিল অধস্তন কর্মকর্তাদেরকে আটক করে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া। মার্শাল-ল-কোর্টে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। জিয়াউর রহমান সেটা নেয়নি। বরং সেই ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত ছিল।”

ঢাদসিক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, “অনেকেই অনেক বড় বড় কথা বলেন। তারা বলেন – – জিয়াউর রহমানকে খুনি বলা যাবে না। জ্ঞান পাপীরা আমাদেরকে জ্ঞান দেয়। কিন্তু আমরা যারা হারিয়েছি – – আমাদেরকে জ্ঞান দেবেন না। আপনারা যদি এই ত্যাগ করতে পারতেন, এই কষ্ট সহ্য করতে পারতেন, তাহলে আপনাদের জ্ঞান নিতে আমরা প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু আপনারা সেই খুনিদের পৃষ্টপোষকতা করেছেন, সঙ্গ দিয়েছেন। এবং আমাদেরকে উপদেশ দেন – – খুনিদেরকে খুনি বলা যাবে না।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, “জিয়া মুক্তিযোদ্ধার আবরণে মূলত পাকিস্থানের এজেন্ট ছিল। তা প্রমাণিত। একজন মুক্তিযোদ্ধা কখনো রাজাকার, আলবদরদের নিয়ে সরকার গঠন করতে পারে না। তাদেরকে রাজনীতি করার সুযোগ দিতে পারে না।”

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এ সময় প্রশ্ন রেখে বলেন, “জিয়া যদি বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত না থাকত তাহলে কেন ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স দিয়েছিল? কেন খুনিদের রক্ষা করছিল? কেন খুনিদের দূতাবাসে দূতাবাসে পদায়ন করেছিল?”

বংশাল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সিরাজউদ্দিন বাদলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য জিন্নাতুল বাকিয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোর্শেদ হোসেন কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তার হেসেন, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রহমান, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাজী ইসমাইল হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

image_pdfimage_print