Home ক্যাম্পাস খবর এনএসইউতে বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার প্রেক্ষাপট নিয়ে গোলটেবিল আলোচনা

এনএসইউতে বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার প্রেক্ষাপট নিয়ে গোলটেবিল আলোচনা

4
0
SHARE

ঢাকা, ৯ মার্চ ২০২৬: নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ) এবং বাংলাদেশ সোসাইটি ফর প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিস একাডেমিকস (বিএসপিইউএ)-এর যৌথ উদ্যোগে আজ নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সিন্ডিকেট হলে “রাউন্ডটেবিল ডিসকাশন অ্যান্ড ইফতার ২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনার বিষয় ছিল “Higher Education Landscape of Bangladesh: Contemporary Thoughts”

এই আয়োজনে নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা একত্রিত হয়ে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার বর্তমান চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করেন।

রাউন্ডটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বিবি হাজ্জাজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান, এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রতিষ্ঠাতা আজীবন সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ, এবং এনএসইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ও বিএসপিইউএ’র সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ এ. সোবহানী

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিবি হাজ্জাজ দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনীতির চাহিদা মোকাবিলায় নীতিগত সহায়তা এবং একাডেমিক উৎকর্ষকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন,
“আমাদের প্রমাণভিত্তিক নীতিমালা প্রয়োজন। একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের কথা আমাদের শুনতে হবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. মো. সবুর খান বলেন,
“বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন দেশের উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তবে উচ্চশিক্ষার বিস্তারে শিক্ষার সকল স্তরকেই শক্তিশালী করতে হবে। শিক্ষা খাতে নীতিমালা তৈরিতে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন।”

বেনজীর আহমেদ বলেন,
“বিশ্বের অধিকাংশ শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত। তাই সরকারকে আর্থিক সহায়তা, সহায়ক নীতিমালা এবং অনুকূল নিয়ন্ত্রক পরিবেশের মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সমর্থন করা উচিত।”

এনএসইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন,
“বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাত দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর আরও জোর দিতে হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ফরিদ এ. সোবহানী বলেন,
“উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য শিক্ষাবিদদের মধ্যে নিয়মিত মতবিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের আলোচনার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ খুঁজে নিতে পারি। টেকসই অগ্রগতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়, নীতিনির্ধারক ও শিল্পখাতের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।”

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে আলোচনা শেষে উপস্থিত শিক্ষাবিদ ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মুক্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। পরে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আলোচনা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতের উন্নয়নে কার্যকর নীতি ও কৌশল নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

image_pdfimage_print