
ঢাকা, ১৮ আগস্ট ২০২৬: নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর লিগ্যাল রিসার্চ, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগ এবং ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ল’-এর যৌথ উদ্যোগে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদীয়মান বৈশ্বিক ব্যবস্থা: সম্ভাবনা, ঝুঁকি ও ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৭ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মুট কোর্ট রুমে অনুষ্ঠিত সেমিনারে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইশতিয়াক আহমেদ। তিনি আইন বিভাগ ও গবেষণা কার্যক্রমকে সমৃদ্ধ করতে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ ধরনের একাডেমিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সেমিনারে মূল বক্তব্য দেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ল’-এর সহযোগী অধ্যাপক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক গবেষণা উদ্যোগের সহপরিচালক অলিভার রবার্টস। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মৌলিক ধারণা, বিভিন্ন পরিভাষা ও বৃহৎ ভাষাভিত্তিক মডেলের কার্যপ্রণালি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও এর প্রতিটি প্রয়োগ ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না। তাই প্রযুক্তিটির যথাযথ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বিভিন্ন দেশের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গ্রহণের পার্থক্য, ব্যবহারকারীর পরিসংখ্যান, এআই নীতিমালা, এআই-সাক্ষরতা এবং চ্যাটবটের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেন।
আইন পেশায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার প্রসঙ্গে অলিভার রবার্টস বলেন, বিনামূল্যের এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্লায়েন্টের তথ্যের গোপনীয়তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিচারিক কার্যক্রমে এআইয়ের অপব্যবহার, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং ‘হ্যালুসিনেশন’-জনিত ত্রুটির বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। পাশাপাশি ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে বাস্তব ও কৃত্রিমভাবে তৈরি বিষয়বস্তু শনাক্তের গুরুত্ব এবং বিভিন্ন বিচারিক নজির নিয়ে আলোচনা করেন।
মূল বক্তব্য শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, নৈতিকতা ও আইনগত প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠে আসে।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আইন বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মো. লোকমান হোসেন। তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রধান বক্তা অলিভার রবার্টসের হাতে সম্মাননা স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সেমিনারটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।






