
গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার চেতনা সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার
ঢাকা, ২৭ জুলাই ২০২৬: জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর শহীদদের স্মরণ, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ) ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের (জেএসএসএফ) যৌথ উদ্যোগে সোমবার (২৭ জুলাই) এনএসইউ অডিটোরিয়ামে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪ স্মরণানুষ্ঠান’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সরকারের নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁদের ত্যাগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। বিশেষ অতিথি ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবর বিশেষ বক্তব্য প্রদান ও একটি প্রামাণ্যচিত্র উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার ইউ. আহমেদ।
শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত, জাতীয় সংগীত এবং জুলাই থিম সং পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি এনএসইউর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের তাৎপর্য নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন,
“জাতির সংকটময় সময়ে দেশের তরুণ সমাজ সাহসিকতা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যে ভূমিকা রেখেছে, তা জাতি দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন,
“২০২৪ সালের জুলাইয়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা ও বয়সের মানুষ যে সাহস, সংহতি ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছে, তা প্রমাণ করেছে—জাতীয় স্বার্থ সামনে এলে সব বিভাজন অতিক্রম করে ঐক্যবদ্ধ হওয়া সম্ভব। এই চেতনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার অনুপ্রেরণা জোগাবে।”
বিশেষ অতিথি বেনজীর আহমেদ বলেন,
“১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান একই সুতোয় গাঁথা। এই গৌরবময় ইতিহাস সংরক্ষণ, গবেষণা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এর সঠিক চেতনা পৌঁছে দিতে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সবসময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।”
সামান্থা শারমীন বলেন,
“জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানুষের সাহস ও দৃঢ়তা প্রমাণ করেছে যে অভিন্ন মূল্যবোধ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে। শহীদদের আত্মত্যাগ ও কণ্ঠস্বর যেন কখনো বিস্মৃত না হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।”
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন,
“জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল জাতির নৈতিক অবস্থান গ্রহণের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ‘৩৬শে জুলাই’ শুধু একটি প্রতীক নয়; এটি মানুষের সৃষ্টিশীল প্রতিরোধ ও সংগ্রামের বহিঃপ্রকাশ। তাই এই ইতিহাস বিকৃত বা অস্বীকারের যেকোনো প্রচেষ্টা সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে।”
লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবর বলেন,
“জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন আহত ও শহীদ পরিবারের জন্য আর্থিক ও চিকিৎসাসহায়তা, পুনর্বাসন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে কাজ করছে। পাশাপাশি গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও শিক্ষাসহায়তায় সরকার ও ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”
ধন্যবাদ জ্ঞাপনকালে অধ্যাপক নেছার ইউ. আহমেদ বলেন,
“নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ইতিহাসচর্চা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন একাডেমিক ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।”
অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সিনে অ্যান্ড ড্রামা ক্লাব (এনএসইউসিডিসি) এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের (এনএসইউএসএস)-এর পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।





