Home জাতীয় জুলাই বিপ্লব স্মরণে মানারাত ইউনিভার্সিটিতে পক্ষকালব্যাপী কর্মসূচির বর্ণাঢ্য সমাপনী শহীদ শাকিল-আহনাফের চেতনায়...

জুলাই বিপ্লব স্মরণে মানারাত ইউনিভার্সিটিতে পক্ষকালব্যাপী কর্মসূচির বর্ণাঢ্য সমাপনী শহীদ শাকিল-আহনাফের চেতনায় এগিয়ে যাওয়ার আহবান ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি’র

6
0
SHARE

জুলাই বিপ্লবে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির দুই শহীদ শাকিল পারভেজ ও আহনাফকে স্মরণ করে শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে এক একজন শাকিল ও আহনাফ হয়ে গর্জে উঠতে হবে মন্তব্য করে- সংসদ সদস্য ড. মো: শফিকুল ইসলাম মাসুদ ছাত্রছাত্রীদের  শাকিল ও আহনাফের সুরে বলতে হবে ‌‌‌’যদি তুমি ভয়, তবে তুমি শেষ। যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবে তুমিই বাংলাদেশ।’

বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, জুলাই বিপ্লব প্রতিটিতে ছাত্ররাই বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই শিক্ষার্থীরা, এই জেন-জিরা আগামীতে অবশ্যই বাংলাদেশকে পথ দেখাবে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ২০২৬) আশুলিয়ায় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসে ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লব ২০২৪-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত পক্ষকালব্যাপী বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাপনী দিনে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে ছিল জুলাই বিপ্লবে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির দুই শহীদ শাকিল পারভেজ ও শহীদ আহনাফ আবির আশরাফুল্লাহসহ শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. মো: শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, জুলাই বিপ্লবে ছাত্ররা  ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’  স্লোগান তুলোছিল। জাস্টিস কখনও হারে না। সত্যের বিজয় হবেই হবে। মিথ্যার পতন অনিবার্য। সুতরার এ বিশ্বাস থেকেই আমরা নিশ্চিত ‘ভার্সন থ্রি বাংলাদেশ’ গড়তে পারবোই পারবো।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরে হেলিকপ্টারে চলে যাওয়ার আগে কেউ গুণাক্ষরেও বিশ্বাস করতে পারেনি শেখ হাসিনা পালিয়েছে। এই অবিশ্বাস্য ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে জুলাই বিপ্লব কোন রাজনৈতিক বিজয় ছিল না। রাজনৈতিক বিজয় হলে ‘ঈদের পর আন্দোলন’ সফল হতো- মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমি জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে গর্বিত নই; আমি গর্বিত যে ২০২৪ সালের জুলাই পেয়েছিলাম।

তিনি ২০২৪ সালের আজকের দিনটিতে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল উল্লেখ করে বলেন, সেদিন ঘোষণা দেয়া হয়েছিল পরশু পর্যন্ত অপেক্ষা নয়, আগামীকালই লং মার্চ টু ঢাকা। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের আজকের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা করতে হবে পরশু নয়, আগামীকালই সন্ত্রাস, দুর্নীতি, মাদক ও চাঁদাবাজদের টুটি চেপে ধরবো।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ। তিনি ছাত্রছাত্রীদেরকে প্রবন্ধ, কবিতা, গান, ছবি, কার্টুন, নাটক, নাটিকা ইত্যাদির মাধ্যমে কালচারাল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের মাঝে সর্বপ্রথম শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকেই আঘাত করা হয়েছিল। কালচারাল ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব শরিফ ওসমান হাদি নিজের জীবন দিয়ে আমাদের বুঝিয়ে গেছেন।

এ জাতির কপালে জুলাই লেখা আছে মন্তব্য আরও তিনি আরও বলেন, এটাই শেষ নয়, আমাদের দেশে জুলাই বার বার এসেছিল। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট এসেছিল। এরপর সাত নভেম্বর। নব্বইয়ে আরেকবার এসেছিল, যখন নূর হোসেন নিজের গায়ে লিখেছিলেন গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাতন্ত্র নিপাত যাক। সবশেষ আসল ২০২৪-এ।

তিনি জুলাই আন্দোলনকে একদিকে সফল অন্যদিকে ব্যর্থ উল্লেখ করে বলেন, পঁচাত্তরের মতো আমাদের হাত ময়লা করতে হয়নি তিনি  (শেখ হাসিনা) নিজেই চলে গেছেন এ কারণে জুলাই সফল। অন্যদিকে আমরা এখনও এই দেশে নিশ্চিত করতে পারিনি যে, এই দেশে আর জুলাই লাগবে না। এ কারণেই জুলাই ব্যর্থ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার মো: মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ডিন প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান। এতে আরও বক্তব্য রাখেন জুলাই বিপ্লবে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ছাত্র শহীদ শাকিল হোসেন পারভেজের গর্বিত পিতা মো: বেলায়েত হোসেন এবং ইইই বিভাগের ছাত্র শহীদ আহনাফ আবির আশরাফুল্লাহর মা মো: আছিয়া খাতুন।

অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনোমিকসের ডিন মো. মাহবুব আলম, স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিসের ডিন ড. আবু আইয়ুব মো: ইব্রাহিম, রেজিস্ট্রার এ. এইচ.এম. আবু সাঈদসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ।

আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে আজাদী শিল্পী গোষ্ঠীর উপস্থাপনায় জুলাইয়ের গান, দেশাত্মবোধক গান, ইসলামী সংগীত, কাওয়ালি, নাটক ও নাটিকা পরিবেশন করা হয়। এছাড়া প্ল্যানচিট ডিবেট আয়োজন করে ডিবেট ক্লাব। সবশেষে জুলাই বিপ্লব স্মরণে আয়োজিত রচনা ও স্মৃতিলিখন, ডকুমেন্টারি ও পোস্টার নির্মাণ এবং আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতার পুরস্কার প্রদান করা হয়।

প্রসঙ্গত, ১৮ জুলাই ল²ীপুরে শহীদ শাকিল হোসেন পারভেজের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে পক্ষকালব্যাপী এ কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর ছিল টাঙ্গাইলে শহীদ আহনাফ আবির আশরাফুল্লাহর কবর জিয়ারত, আন্ত:বিভাগ জুলাই স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট, পোস্টার, ডকুমেন্টারি নির্মাণ, জুলাই স্মৃতি লিখন ও রচনা প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, রক্তদান ও রক্তের গ্রæপ নির্ণয় কর্মসূচি।
বিজনেস ক্লাব, সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ক্লাব, ইইই ক্লাব, ডিবেট ক্লাব, কালচারাল ক্লাব, ইংলিশ ক্লাব, জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ ক্লাব, স্পোর্টস ক্লাব, ফার্মেসি ক্লাব, ইসলামিক স্টাডিজ ক্লাব, ল’ ক্লাব ও ছাত্র বিষয়ক বিভাগ এ আয়োজনে সহযোগিতা করে।

image_pdfimage_print