Home আন্তর্জাতিক দুই বছরের মধ্যে ঢাকা শহরের চেহারা পাল্টে দেবো” — বীর মুক্তিযোদ্ধা মো....

দুই বছরের মধ্যে ঢাকা শহরের চেহারা পাল্টে দেবো” — বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম

6
0
SHARE

আশিক সরকার : বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা উদ্যোগে এইচএসসি-২০২৫ পরীক্ষায় ঢাকা মহানগরে ‘এ+’ ও ‘এ’ গ্রেডপ্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিকাশ এবং ‘মাদক নির্মূলে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুস সালাম

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে সভাপতির স্বাগত বক্তব্য, সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের অনুভূতি প্রকাশ এবং অতিথিদের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষা উদ্যোক্তাদেরও সম্মাননা প্রদান করা হয়। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আব্দুস সালাম বলেন, “আমাদের সবার একটি স্বপ্ন—একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা। সেই স্বপ্ন পূরণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আমরা চাই ঢাকা দক্ষিণ শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের কাছেও একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগরী হিসেবে পরিচিত হোক।”

তিনি আরও বলেন, “পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়, এটি সকল নাগরিকের দায়িত্ব। রাস্তা, অলিগলি, পার্ক ও বাজারসহ নগরীর প্রতিটি স্থান পরিষ্কার রাখা নাগরিক সচেতনতার অংশ। আগামী দুই বছরের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণকে আরও সুন্দর, সবুজ ও পরিকল্পিত শহরে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। দুই বছরের মধ্যে ঢাকা শহরের চেহারা পাল্টে দেবো।”

মেধাবী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। যারা জ্ঞান অর্জন করে, পরিশ্রম করে এবং সমাজকে আলোকিত করার স্বপ্ন দেখে, তাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আমরা মেধাবীদের সম্মান করি, কারণ তাদের সাফল্য আমাদের সমাজের গর্ব।”

তিনি বলেন, দেশের অনেক মেধাবী মানুষ বিদেশে চলে যাচ্ছেন, কারণ সেখানে তারা সুযোগ ও মূল্যায়ন পান। কিন্তু দেশে মেধাবীদের সম্মান ও সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে তারা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের শুধু পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। একটি সুস্থ ও সংস্কৃতিমনা সমাজ গঠনে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, আগামী বছর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আরও বৃহৎ পরিসরে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে। এতে কৃতি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের উৎসাহিত করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ আঃ সামাদ। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট ড. জমিরুল আকতার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হারুন অর রশিদ

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেলাল আহমেদ, ড. সোহেল আল রেরুনী, ড. শামীম আহমেদ, আবু ইউছুফ চৌধুরী, মো. নাসিরুদ্দিন, রেজওয়ান-উস-সালেহীন, এস এম মোশাররফ হোসেন মিলন, মো. আলতাফ হোসেন সরদার, মোঃ মাহাবুব আলম কাজল, মোঃ শফিকুল ইসলাম, আব্দুল হাকিম মিয়াজি এবং মোঃ আনোয়ার জামান মানু

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তন মুখরিত হয়ে ওঠে।

image_pdfimage_print